রাবিতে শিবির ও রাকসু নেতার মারধরে আহত ২ শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: ৬:৫৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৮, ২০২৬

রাবিতে শিবির ও রাকসু নেতার মারধরে আহত ২ শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার

লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::

 

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাউদ্দিন আম্মারের ওপর হামলার অভিযোগে মারধরের শিকার শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কার্যক্রম সংক্রান্ত আগের একটি মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র মো. আনাস ও মাহমুদুল হাসান।

 

এ প্রসঙ্গে গতকাল সোমবার রাতে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম কবির বলেন, ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে আগের একটি মামলায় ওই দুই শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন।

উল্লেখ্য, সোমবার ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতা ও হামলার অভিযোগে আনাস ও তার সহযোগীদের বেধড়ক মারধর করেন রাকসু জিএস আম্মার ও শিবিরের নেতাকর্মীরা।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, এক নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তার অভিযোগ নিয়ে গতকাল সকালে প্রক্টরের কার্যালয়ে বৈঠক চলছিল। রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মার ও এজিএস সালমান সাব্বির সেখানে উপস্থিত হয়ে আগের রাতে প্রক্টরের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে আনাসকে নিজেদের দপ্তরে ডাকেন।

 

পরে আনাস রাকসু কার্যালয়ে গেলে সেখানে দু’পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জিএস ও এজিএস আনাসকে চড়-থাপ্পড় দেন। আনাসকে ‘ছাত্রলীগ কর্মী’ আখ্যা দিয়ে গ্রেপ্তারের দাবিও তোলেন। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকায় প্রক্টর পরে আনাসকে ছেড়ে দেন।

 

তবে জিএস আম্মারের অভিযোগ, আনাস পরে কয়েকজনকে নিয়ে রাকসু কার্যালয়ে হামলা চালান। এরপর রাকসু ও রাবি ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ধাওয়া করলে আনাস ও তার সঙ্গীরা কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে আশ্রয় নেন।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আম্মার-সাব্বিরসহ রাকসুর তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুস শাকিব, বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক ইমরান লস্কর, সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি ফাহিম রেজা এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে পরে গ্রন্থাগারে ঢুকে আনাসদের মারধর করা হয়। বাধা দিতে গেলে সেখানে অবস্থানরত অন্য শিক্ষার্থীদেরও হুমকি দেওয়া হয়।

 

তারা জানান, গ্রন্থাগারের পরিচালক ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আহতদের উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার সময় আম্মারের নেতৃত্বে ফের মারধর করা হয়।

 

এ বিষয়ে আনাস বলেন, ‘প্রক্টর দপ্তরে আমাকে প্রথমে ছাত্রলীগ কর্মী আখ্যা দিয়ে মারধর করা হয়। পরে গ্রন্থাগারেও আমার ওপর হামলা চালানো হয়। আমি কখনোই ছাত্রলীগের কর্মী ছিলাম না। ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে তোলা ছবি দেখিয়ে তাকে ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে।’

 

এদিকে গ্রন্থাগারে মারধরের পর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রশিবির। সেখান থেকে আনাস ও তার সঙ্গীদের গ্রেপ্তারে প্রশাসনকে এক ঘণ্টার আলটিমেটাম দেওয়া হয়।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, নিষিদ্ধ ছাত্র রাজনীতিতে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। শিক্ষার্থীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চেয়েছে। এজন্য তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

July 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031