সিলেট ১লা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৯:৪০ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩১, ২০২৬
প্রতিনিধি / বাগেরহাট ::
বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলার জিউধরা ইউনিয়নের একরামখালী গ্রামের আইয়ুব আলী খানের বাড়ি থেকে পঞ্চগ্রাম সম্মিলিত ইউসুফ আলী মাদ্রাসা পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হওয়ায় স্থানীয় জনজীবনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়া এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি সংস্কার ও নির্মাণের ফলে এলাকার শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষক এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত অনেক সহজ ও নিরাপদ হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বছরের পর বছর ধরে সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগের শিকার হয়ে আসছিলেন। বর্ষা মৌসুমে কাদামাটিতে সড়কটি প্রায় অচল হয়ে পড়ত। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় যেতে হতো নানা ঝুঁকি নিয়ে। কৃষিপণ্য বাজারজাত করতেও কৃষকদের অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হতো। ফলে দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর অন্যতম প্রধান দাবি ছিল এই সড়কটির উন্নয়ন।
স্থানীয় জনগণের সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের জন্য বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুল আলীম ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ প্রদান করেন। বরাদ্দের অর্থে সড়কটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে এলাকাজুড়ে স্বস্তির পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
সম্প্রতি নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুল আলীম আকস্মিকভাবে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সড়কের নির্মাণমান, কাজের অগ্রগতি এবং বরাদ্দকৃত অর্থের ব্যবহার সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি নির্মাণকাজের মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, “জনগণের কল্যাণে বরাদ্দকৃত অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সড়কটি নির্মাণের ফলে স্থানীয় মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ হয়েছে, পাশাপাশি এলাকার সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থারও উন্নয়ন ঘটেছে। উন্নয়নের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
তিনি আরও বলেন, “যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্পের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন। এলাকাবাসী যদি এই সড়কের যথাযথ পরিচর্যা করেন, তাহলে এটি দীর্ঘদিন টেকসই থাকবে এবং ভবিষ্যতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হবে।”
সংসদ সদস্য স্থানীয় জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের সফলতা ধরে রাখতে জনগণের সচেতনতা ও অংশগ্রহণ অপরিহার্য। সরকারি অর্থে নির্মিত সম্পদ রক্ষা করা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব।
সড়কটি ব্যবহারকারী স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগে এই পথে চলাচল করতে গিয়ে নানাভাবে দুর্ভোগ পোহাতে হতো। বিশেষ করে বর্ষাকালে সড়কটি কাদা ও জলাবদ্ধতায় ভরে যেত। অনেক সময় শিক্ষার্থীরা সময়মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে পারত না। অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়াও ছিল কষ্টসাধ্য।
পঞ্চগ্রাম সম্মিলিত ইউসুফ আলী মাদ্রাসার কয়েকজন অভিভাবক জানান, নতুন সড়ক নির্মাণের ফলে তাদের সন্তানদের যাতায়াত এখন অনেক বেশি নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হয়েছে। আগে যেখানে বৃষ্টির দিনে স্কুল বা মাদ্রাসায় পাঠাতে উদ্বেগে থাকতে হতো, এখন সেই পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের কারণে ব্যবসায়িক কার্যক্রমও সহজ হয়েছে। বাজারে পণ্য পরিবহন করতে কম সময় লাগছে এবং পরিবহন ব্যয়ও কমে এসেছে। এর ইতিবাচক প্রভাব স্থানীয় অর্থনীতিতেও পড়তে শুরু করেছে।
এলাকাবাসীর মতে, এই সড়ক নির্মাণ শুধু একটি অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়; এটি গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। দীর্ঘদিনের একটি প্রত্যাশিত দাবি বাস্তবায়িত হওয়ায় তারা সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয়দের বিশ্বাস, এ ধরনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে জিউধরা ইউনিয়নের সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে এবং শিক্ষা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
নবনির্মিত এই দেড় কিলোমিটার সড়ক আজ শুধু একটি যোগাযোগ মাধ্যম নয়, বরং এলাকাবাসীর আশা, স্বস্তি এবং উন্নয়নের প্রতীক হয়ে উঠেছে। সড়কটির মাধ্যমে গ্রামীণ জনপদের মানুষ নতুন সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন, যা ভবিষ্যতে এলাকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে আরও বেগবান করবে।ছবি সংযুক্ত আছে।
| M | T | W | T | F | S | S |
|---|---|---|---|---|---|---|
| 1 | 2 | |||||
| 3 | 4 | 5 | 6 | 7 | 8 | 9 |
| 10 | 11 | 12 | 13 | 14 | 15 | 16 |
| 17 | 18 | 19 | 20 | 21 | 22 | 23 |
| 24 | 25 | 26 | 27 | 28 | 29 | 30 |
| 31 | ||||||