ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় কমেছে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত

প্রকাশিত: ৫:০৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৫, ২০২৬

ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় কমেছে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::

 

গত পাঁচ মাস ধরে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র তার অত্যন্ত নিখুঁত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের বৈশ্বিক মজুতের বড় একটি অংশ ব্যবহার করে ফেলেছে বলে জানিয়েছে এ বিষয়ে অবগত একাধিক সূত্র। এতে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য সংঘাত মোকাবিলায় মার্কিন সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী মূলত আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম (এটিএসিএমএস) এবং নতুন প্রজন্মের প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল (পিআরএসএম) ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেছে। দুইটি সূত্রের দাবি, এসব দূরপাল্লার নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় পুরো মজুতই ইতোমধ্যে ব্যবহার করা হয়েছে।

 

এক মিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্র নিরাপদ দূরত্ব থেকে নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। ইউক্রেন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া এটিএসিএএমএস ক্ষেপণাস্ত্র রাশিয়ার অভ্যন্তরের লক্ষ্যবস্তুতে হামলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। অন্যদিকে পিআরএসএম হলো আরও আধুনিক এবং দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র।

সূত্রগুলোর মতে, নির্ভুল দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে যাওয়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভবিষ্যতে ইরানে আবার বড় ধরনের হামলা চালাতে চাইলে দূর থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরিবর্তে পাইলটচালিত যুদ্ধবিমানের ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানের ওপর বেশি নির্ভর করতে হতে পারে।

 

তবে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে বর্তমানে ঠিক কতটি এটিএসিএএমএস ও পিআরএসএম ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট রয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

 

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছিলেন। সে সময় তিনি ধারণা দিয়েছিলেন, যুদ্ধটি অল্প সময়ের মধ্যেই শেষ হবে। কিন্তু পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও সংঘাত অব্যাহত থাকায় সামরিক সরঞ্জামের মজুত নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

 

সূত্রগুলোর আশঙ্কা, ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ায় রাশিয়া ও চীনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরোধ সক্ষমতা দুর্বল হতে পারে।

 

তবে বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন মতও রয়েছে। এ বিষয়ে অবগত আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা সামরিক মজুত থেকে অস্ত্র সরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠিয়ে ঘাটতি সামাল দিতে সক্ষম হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর তত্ত্বাবধানকারী সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) প্রয়োজন অনুযায়ী সরবরাহ পুনর্বিন্যাস করছে।

 

ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত সংক্রান্ত তথ্যের বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে হোয়াইট হাউস প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। সেখানে ট্রাম্প বলেন, ‘পৃথিবীর যেকোনো দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অনেক বেশি গোলাবারুদ রয়েছে, এমনকি আমাদের প্রয়োজনের চেয়েও বেশি।’

 

তিনি আরও দাবি করেন, মার্কিন প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে ইতিহাসের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি পরিমাণে গোলাবারুদ উৎপাদন করছে এবং একই সঙ্গে কারখানা ও উৎপাদন সক্ষমতাও রেকর্ড হারে সম্প্রসারণ করছে।

 

তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, গোলাবারুদ উৎপাদন বাড়লেও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের চাহিদা পূরণে তা যথেষ্ট নাও হতে পারে। বিশেষ করে আর্টিলারি শেল এবং বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের ক্ষেত্রে সরবরাহের ওপর চাপ অব্যাহত রয়েছে।

 

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের (পেন্টাগন) মুখপাত্র শন পারনেল বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বাহিনী এবং প্রেসিডেন্ট যখন ও যেখানে নির্দেশ দেবেন, সেখানে অভিযান পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সব সক্ষমতা তাদের রয়েছে। একই সঙ্গে দেশের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় পর্যাপ্ত অস্ত্রভাণ্ডারও বজায় রয়েছে।’

 

এদিকে একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টরসহ বিভিন্ন প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার বিষয়েও প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করেছেন সামরিক কর্মকর্তারা।

 

একটি সূত্র আরও জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র তার বৈশ্বিক টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতের প্রায় অর্ধেক ব্যবহার করেছে। যদিও এ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স।

 

এদিকে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান রেথিয়ন পেন্টাগনের সঙ্গে বহু বছরের একটি প্রাথমিক চুক্তিতে পৌঁছেছে, যার লক্ষ্য টমাহকসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন বাড়িয়ে দ্রুত অস্ত্রের মজুত পুনর্গঠন করা।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

September 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930