সিলেট ৬ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৮:৪৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৫, ২০২৬
লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::
‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ শুধু জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নয়, বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতিচ্ছবি হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘এই জাদুঘর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরবে। এটি শুধু ২০২৪ সালের স্মৃতি সংরক্ষণ করবে না, বরং বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসের ধারক হবে।’
আজ বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর আগামী প্রজন্মের সামনে বিতাড়িত ফ্যাসিস্টদের মুখোশ উন্মোচন করবে। এই জাদুঘর আমাদের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ আর সাহসকে জাতীয় স্মৃতিতে ধারণ করার এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ।’
তিনি বলেন, ‘আজকের এ দিনটি দেশের জন্য যুগান্তকারী মাইলফলক। সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।’
ফ্যাসিবাদের আমলে গুম-খুনকে স্বাভাবিক করে ফেলা হয়েছিল উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, বিতাড়িত ফ্যাসিবাদ চক্র দেশে গণতান্ত্রিক শাসন মেনে নিতে পারেনি। তাই গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার রক্ষার সংগ্রামের ইতিহাস সংরক্ষণে এই জাদুঘর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ আশা করে এই জাদুঘর কোনো একটি দল, গোষ্ঠী বা ব্যক্তির একক রাজনৈতিক ভাষ্য প্রতিষ্ঠার স্থান হবে না। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান কোনো একক ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা দলের নয়। এই অভ্যুত্থানের মহানায়ক বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ।’
তিনি আরও বলেন, ‘১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের। আর ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার। একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধাদের মানুষ যেমন ভুলে যায়নি, একইভাবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদেরকেও জনগণ কখনোই ভুলবে না।’
এ সময় ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হতাহতদের পরিবারের শোকাহত সদস্যদের আশ্বস্ত করে সরকারপ্রধান বলেন, আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য উপায়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সংঘটিত প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে।
এর আগে সকালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ঘুরে দেখেন এবং সেখানে সংরক্ষিত নিদর্শন, আলোকচিত্র, দলিলপত্র ও স্মারক পরিদর্শন করেন।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে জাইমা রহমান, সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।