সিলেট ২১শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৩:৩৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২১, ২০২৬
লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::
মুসলমানদের কাছে জুমার দিন অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। সপ্তাহের অন্য দিনগুলোর তুলনায় শুক্রবারের কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। কোরআনেও ‘জুমা’ নামে একটি স্বতন্ত্র সূরা রয়েছে। জুমার নামাজের আহ্বান শোনার পর দুনিয়াবি ব্যস্ততা ছেড়ে আল্লাহর স্মরণের দিকে মনোযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাদিসে জুমার দিনের বিভিন্ন ফজিলত ও আমলের কথা বর্ণিত হয়েছে। এই দিনে ইবাদত, দোয়া ও নবীজি (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠের প্রতি বিশেষভাবে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
১. জুমার দিনের মর্যাদা স্মরণ করা
হাদিসে জুমার দিনকে বিশেষ বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত দিন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই দিনেই আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয় এবং পৃথিবীতে তাঁর আগমন ঘটে। একই দিনে তার ইন্তেকালও হয়। হাদিসে আরও এসেছে, জুমার দিনে এমন একটি বিশেষ সময় রয়েছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে বৈধ কোনো বিষয়ে দোয়া করলে তা কবুল হওয়ার বিশেষ আশা থাকে। কিয়ামতও জুমার দিনে সংঘটিত হবে বলে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে।
২. জুমার নামাজ যথাযথভাবে আদায় করা
জুমার দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো জুমার নামাজ। গোসল করে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক পরে এবং সুগন্ধি ব্যবহার করে মসজিদে যাওয়া উত্তম আমল। মসজিদে গিয়ে অন্য মুসল্লিদের কষ্ট দিয়ে সামনে এগিয়ে না গিয়ে শান্তভাবে জায়গা নেওয়া এবং ইমামের খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা উচিত। খুতবার সময় অপ্রয়োজনীয় কথা বলা বা অন্য কাজে ব্যস্ত হওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। হাদিসে জুমার নামাজ ও সংশ্লিষ্ট আদব যথাযথভাবে পালনকারীর জন্য বিশেষ সওয়াব এবং দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ মাফ হওয়ার কথা বর্ণিত হয়েছে, যদি বড় গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা যায়।
৩. জুমার আগে গোসল ও পরিচ্ছন্নতা
শুক্রবার গোসল করা জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত আমলগুলোর একটি। শুধু গোসল করাই নয়, শরীর ও পোশাক পরিষ্কার রাখা, সুগন্ধি ব্যবহার করা এবং সুন্দরভাবে প্রস্তুত হয়ে মসজিদে যাওয়াও প্রশংসনীয়। বিশেষ করে মসজিদে যাওয়ার আগে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার দিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত, যাতে অন্য মুসল্লিদের কোনো অসুবিধা না হয়।
৪. যত দ্রুত সম্ভব মসজিদে পৌঁছানো
জুমার দিন আগে আগে মসজিদে পৌঁছানোর বিশেষ ফজিলত রয়েছে। হাদিসে মসজিদে প্রবেশের সময়ের ভিত্তিতে বিভিন্ন মাত্রার সওয়াবের কথা উপমার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। তাই শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়ো করে মসজিদে যাওয়ার পরিবর্তে সম্ভব হলে আগে পৌঁছে নামাজ, জিকির ও অন্যান্য ইবাদতে সময় কাটানো ভালো।
৫. দোয়ার বিশেষ সময় খুঁজে নেওয়া
জুমার দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো দোয়া কবুলের একটি বিশেষ সময় থাকা। হাদিসে এই সময়ের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্ণিত হাদিসগুলোর আলোকে বিশেষ করে আসরের পর সময়টিতে দোয়া করার প্রতি মনোযোগী হওয়া যেতে পারে। নিজের জন্য, পরিবার ও প্রিয়জনদের জন্য এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর কল্যাণের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা উচিত।
৬. সুরা কাহাফ তিলাওয়াত
জুমার দিনে সুরা কাহাফ পাঠ করাও একটি পরিচিত আমল। হাদিসে জুমার দিনে এই সূরা পাঠের ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। তাই শুক্রবারে সময় করে সুরা কাহাফ তিলাওয়াত করা এবং এর অর্থ বোঝার চেষ্টা করা যেতে পারে। শুধু তিলাওয়াত নয়, কোরআনের শিক্ষা নিজের জীবনে বাস্তবায়নের চেষ্টাও গুরুত্বপূর্ণ।
৭. বেশি বেশি দরুদ পাঠ
জুমার দিন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করার জন্য হাদিসে বিশেষভাবে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। তাই দিনের বিভিন্ন সময়ে কাজের ফাঁকে বা ইবাদতের সময় নবীজি (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ করা যেতে পারে। এটি জুমার দিনের অন্যতম সুন্দর আমল।
৮. খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা
জুমার খুতবা শুধু শোনার বিষয় নয়; বরং মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং খুতবার আদব রক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ। খুতবার সময় কথা বলা, মোবাইল ব্যবহার করা কিংবা অন্যের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় যোগাযোগ করা থেকে বিরত থাকা উচিত।
৯. জুমার দিনকে ইবাদতের সুযোগ হিসেবে নেওয়া
জুমার দিন শুধু জুমার নামাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। দিনটিকে আল্লাহর স্মরণ, কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া, দরুদ ও অন্যান্য নেক আমলের মাধ্যমে অর্থবহ করে তোলা যায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জুমার দিনের আমলগুলো যেন শুধু অভ্যাসে সীমাবদ্ধ না থাকে; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং নিজের চরিত্র ও জীবনকে সুন্দর করার উদ্দেশ্যে করা হয়।