সিলেট ১৫ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২:০১ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১০, ২০২৬
প্রতিনিধি/ওসমানীনগরঃঃ
সমাজে ভ্রাতৃত্ববোধ, সৌহার্দ্য এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব জাগ্রত করার লক্ষ্যে দীর্ঘ দিন থেকে কাজ করছে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের শরীষপুর গ্রামের যুবসমাজ। হিংসা-বিদ্বেষ ও অনৈক্য পিছনে ফেলে গ্রামের তরুণরা সম্মিলিতভাবে সবাইকে এক কাতারে নিয়ে আসার চেষ্টা করছেন। ইসলামের মূল শিক্ষা হচ্ছে শান্তি, সহমর্মিতা ও মানবতার কল্যাণের সেই আদর্শকে ধারণ করেই সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার জন্য ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে মানুষকে ইসলামের সঠিক পথে চলতে উদ্বুদ্ধ এবং পারস্পরিক ভালোবাসা ও সহযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি করছেন শরীষপুর গ্রামের যুবসমাজ।
যার ধারাবহিকতায় প্রতিবছরের ন্যায় সপ্তম বারের মতো শরিষপুর গ্রামের যুবসমাজের পক্ষ থেকে ১২শ রোজাদারদের জন্য আয়োজন করা হয় ইফতার মাহফিলের। শরিষপুর শাহি ঈদগাহ মাঠে এই ইফতার মাহফিলকে কেন্দ্র করে মুসল্লিদের এক মিলনমেলায় পরিনত হয়।
রবিবার (১৮ রমজান) বিকালে আয়োজিত এ ইফতার মাহফিলে প্রায় ১২শত মানুষ একসাথে ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়ে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। ইফতারও দোয়া মাহফিল পূর্ব সংক্ষিপ্ত সভায় পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করেন মাওলানা কারী সালেহ আহমেদ ও হাফিজ মারওয়ান আহমেদ।
জামেয়া পারকুল মাদ্রাসার সভাপতি ও সমাজসেবক জুয়েল মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মুছাদ্দেক আহমেদ, মাওলানা মোস্তফা আহমেদ, রাজু আহমেদ এবং কয়েছ মিয়া। যুব সমাজের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন মাজেদ আহমেদ, নাঈম আহমেদ, রিপন মিয়া, এমদাদ আহমেদ ও রিয়াদ আহমেদ প্রমূখ।
বক্তারা বলেন, যুবসমাজের ঐক্য ও ইতিবাচক উদ্যোগ একটি সমাজকে সুন্দর ও কল্যাণমুখী পথে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যুবকদের নেতৃত্বে এ ধরনের সামাজিক ও ধর্মীয় আয়োজন সমাজে ভ্রাতৃত্ববোধ, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করে। ভবিষ্যতেও যুব সমাজকে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তারা।
ইফতারের পূর্বে শরীষপুর গ্রামের মুর্দেগানের রুহের মাগফিরাত কামনা করে এবং দেশ ও প্রবাসে অবস্থানরত সকল মানুষের কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন শরীষপুর জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা হাফিজ আরিফ আহমেদ। ইফতার মাহফিলে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসব বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মুসল্লীদের উপস্থিতিতে ঈদগাহ ময়দান এক মিলনমেলায় পরিণত হয় এবং আয়োজক যুব সমাজের এমন উদ্যোগকে এলাকাবাসী ব্যাপকভাবে প্রশংসা করেন।