সিলেট ১৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৫:০৮ অপরাহ্ণ, মে ১৬, ২০২৬
লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::
কোরবানিকে ঘিরে আমাদের সমাজে নানা ধরনের কথা প্রচলিত আছে। এর মধ্যে একটি বহুল প্রচলিত কুসংস্কার হলো- জবাইয়ের আগে কোরবানির পশু যদি কাঁদে, ডাক দেয় বা চোখে পানি আসে, তাহলে নাকি সেই কোরবানি কবুল হয় না। অনেকেই এটিকে অশুভ লক্ষণ মনে করেন। তবে ইসলামের দৃষ্টিতে এ ধারণার কোনো ভিত্তি নেই।
গ্রামগঞ্জ থেকে শুরু করে শহরেও অনেক মানুষ বিশ্বাস করেন, পশু যদি জবাইয়ের আগে অস্থির হয়ে যায় বা কান্নার মতো শব্দ করে, তাহলে বুঝতে হবে কোনো অমঙ্গল রয়েছে। কেউ কেউ আবার বলেন, পশু নাকি নিজের মৃত্যুর আভাস পেয়ে কাঁদে আর এ অবস্থায় কোরবানি নাকি আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হয় না।
কিন্তু এসব কথা কুরআন-হাদিস দ্বারা প্রমাণিত নয়; বরং এগুলো সমাজে প্রচলিত কুসংস্কার ও আবেগনির্ভর ধারণা।
ইসলাম কী বলে?
ইসলামে কোরবানি কবুল হওয়ার মূল বিষয় হলো, নিয়ত, তাকওয়া এবং শরিয়তসম্মতভাবে কোরবানি আদায় করা। পশুর কান্না, ডাক বা অস্থির আচরণের সঙ্গে কোরবানি কবুল হওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
لَن يَنَالَ اللَّهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَاؤُهَا وَلَٰكِن يَنَالُهُ التَّقْوَىٰ مِنكُمْ”
‘আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না তাদের গোশত এবং রক্ত, বরং পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া (আল্লাহভীতি)।’ (সূরা হজ, আয়াত: ৩৭)
অর্থাৎ, আল্লাহ মানুষের অন্তরের আন্তরিকতা ও তাকওয়াকেই মূল্যায়ন করেন।
পশু কেন ডাক দেয়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, পশু যখন নতুন পরিবেশে আসে, ভয় পায়, অপরিচিত মানুষ দেখে বা চাপ অনুভব করে, তখন স্বাভাবিকভাবেই ডাক দেয় বা অস্থির আচরণ করে। এটি প্রাণীর স্বাভাবিক আচরণ, এর সঙ্গে ধর্মীয় কোনো অশুভ ইঙ্গিত জড়িত নয়।
অনেক সময় জবাইয়ের প্রস্তুতি, অতিরিক্ত ভিড়, গরম আবহাওয়া বা পানির অভাবেও পশু অস্থির হয়ে পড়ে। তাই পশুর প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করা মুসলমানের দায়িত্ব।
পশুর প্রতি দয়া করার নির্দেশ
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
إِنَّ اللهَ كَتَبَ الْإِحْسَانَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ
‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা প্রত্যেক জিনিসের ওপর ‘ইহসান’ (দয়া, অনুগ্রহ বা সুন্দরভাবে কর্ম সম্পাদন) ফরজ বা বাধ্যতামূলক করেছেন।’ (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৯৫৫)
হাদিসে আরও এসেছে, জবাইয়ের সময় ছুরি ধারালো করতে এবং পশুকে অযথা কষ্ট না দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, ইসলাম কোরবানির পশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা নয়; বরং দয়া, সহমর্মিতা ও মানবিক আচরণ শিক্ষা দেয়।
কোরবানির প্রকৃত শিক্ষা হলো-ত্যাগ, তাকওয়া এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। তাই কুসংস্কারে নয়, ইসলামের সঠিক শিক্ষায় বিশ্বাস রাখাই একজন মুমিনের কাজ।