ইনিংস ব্যবধানে ২ দিনেই ম্যাকাই টেস্ট হারল বাংলাদেশ

প্রকাশিত: ৩:৪৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৩, ২০২৬

ইনিংস ব্যবধানে ২ দিনেই ম্যাকাই টেস্ট হারল বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক ::

 

ডারউইনের দাপট ম্যাকাইতে দেখাতে পারল না বাংলাদেশ। বরং এক ইনিংস ও ৫১ রানে হেরে দুই দিনেই হার দেখতে হলো শান্তদের। দুই ম্যাচ সিরিজে ১-১ ব্যবধানে ড্র করে শেষ করল টাইগাররা।

দুই ইংনিংসে ১০ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের নায়ক মিচেল স্টার্ক। এক টেস্টে চতুর্থবারের মতো ১০ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটি দ্বিতীয় দ্রুততম সময়ে শেষ হওয়া টেস্ট।

 

ম্যাচে স্টার্কের বোলিং পরিসংখ্যান ছিল ৫১ রানে ১০ উইকেট। চা-বিরতির পর দ্রুত দুটি উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ইনিংস গুটিয়ে দেন নাথান লায়ন।

প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬৪ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৯৫ রানে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। টেস্ট ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ইনিংসে দুইবারই ১০০ রানের নিচে অলআউট হলো বাংলাদেশ।

 

অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের ২১০ রানও বিশেষ এক রেকর্ডের অংশ হয়ে গেছে। ইনিংস ব্যবধানে জেতা টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার এটি চতুর্থ সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ।

 

সকালে বাংলাদেশের বোলাররা অস্ট্রেলিয়ার শেষ দুটি উইকেট তুলে নিলেও লায়নের অপরাজিত ৩২ রানের ওপর ভর করে স্বাগতিকরা আরও ৪৫ রান যোগ করে। ফলে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ দাঁড়ায় ২১০ রানে এবং লিড হয় ১৪৬। সেই ব্যবধানের কাছাকাছিও যেতে পারেনি বাংলাদেশ।

 

বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের শুরু থেকেই আবারও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন স্টার্ক। সাদমান ইসলামকে এবারও বিভ্রান্ত করে পয়েন্টে মার্নাস লাবুশেনের হাতে সহজ ক্যাচ তুলে দিতে বাধ্য করেন তিনি। পরের বলেই মমিনুল হককে বোল্ড করেন স্টার্ক। অফ স্টাম্পের বাইরে যাওয়ার মতো মনে হওয়া পূর্ণদৈর্ঘ্যের বলটি ভেতরে ঢুকে তাঁর অফ স্টাম্পে আঘাত করে।

 

এরপর প্যাট কামিন্সের প্রথম ওভারেই তানজিদ হাসানকে ফেরায় অস্ট্রেলিয়া। কামিন্সের বলে হুক করতে গিয়ে গভীর ফাইন লেগে ক্যাচ তুলে দেন তানজিদ।

 

অন্যপ্রান্তে পাল্টা আক্রমণ চালান অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। স্টার্কের এক ওভারে পাঁচটি চার মারেন তিনি। এর মধ্যে চারটি ছিল সোজা মাঠ বরাবর দারুণ ড্রাইভ, আর একটি ছিল স্লিপের ফাঁক দিয়ে ভাগ্যবান ব্যাটের কানায় আসা বল।

 

মধ্যাহ্নভোজের পর আরও আক্রমণাত্মক হতে গিয়ে নাথান লায়নের বলে লং-অফে সরাসরি ক্যাচ তুলে দেন শান্ত। ৩১ রানে থামে তার লড়াই।

 

এরপর লিটন দাসকে ফেরান স্টার্ক। তার বলে তৃতীয় স্লিপে ক্যাচ দেন লিটন। টানা তৃতীয়বার শূন্য রানে আউট হলেন তিনি। পুরো টেস্ট সিরিজে একটি রানও করতে পারেননি লিটন।

 

মেহেদী হাসান মিরাজ কামিন্সের একটু বাইরে থাকা বলে ব্যাট ছুঁইয়ে ক্যাচ দেন। এরপর ধারালো বাউন্সারে হাসান মাহমুদকে শর্ট লেগে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন কামিন্স।

 

তৃতীয় স্পেলে ফিরে তাইজুল ইসলামের উইকেট নিয়ে ম্যাচে নিজের ১০ উইকেট পূর্ণ করেন স্টার্ক।

 

চা-বিরতির পর মাত্র তিন বল টিকতে পারে বাংলাদেশ। লায়নের বলে ব্যাটের কানায় বল তুলে প্রথম স্লিপে স্টিভ স্মিথের হাতে ক্যাচ দেন তাসকিন আহমেদ। এটি ছিল টেস্টে স্মিথের ২১৯তম ক্যাচ। এর মাধ্যমে টেস্টে সর্বোচ্চ ক্যাচ নেওয়ার তালিকায় জো রুটের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে উঠলেন তিনি।

 

এরপর লায়নের বলে পয়েন্টের দিকে আকাশে বল তুলে দেন শরিফুল ইসলাম। সেই ক্যাচও নেন স্টার্ক। এটি ছিল এই ইনিংসে তার চতুর্থ ক্যাচ। তাতেই বাংলাদেশের ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে।

 

প্রথম ইনিংসে সকালে মাত্র দুই উইকেট হাতে নিয়ে ব্যাটিং শুরু করেছিল অস্ট্রেলিয়া। পরিস্থিতি কাজে লাগিয়ে ক্যামেরন গ্রিন ও লায়ন নবম উইকেটে ৩৮ রানের জুটি গড়েন। গুরুত্বপূর্ণ অর্ধশতকও তুলে নেন গ্রিন। সকালের সেশনে দারুণ ব্যাটিং করলেও শরিফুল ইসলামের দুর্দান্ত ইয়র্কারে এলবিডব্লিউ হয়ে তার ইনিংস থামে।

এরপর তাসকিন আহমেদকে এক ওভারে একটি চার ও একটি ছক্কা মেরে ১৭ রান নেন লায়ন। শেষ পর্যন্ত জশ হ্যাজেলউডের উইকেট দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস শেষ হয়।

 

তবে ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য হতাশার হলেও শরিফুল ইসলাম ব্যক্তিগতভাবে উজ্জ্বল ছিলেন। ৪৭ রানে ৭ উইকেট নিয়ে টেস্টে ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করেছেন তিনি। কিন্তু মিচেল স্টার্কের বিধ্বংসী বোলিংয়ের ছায়ায় তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সও দেশের পরাজয় ঠেকাতে পারেনি।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

August 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31