সিলেট ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৫:৪২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৬, ২০২৬
লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে পিপল-টু-পিপল কানেক্টিভিটি জোরদারে শিক্ষাকে অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
চীন সরকারের আমন্ত্রণে সফররত মাহদী আমিন বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ‘চীন-বাংলাদেশ এডুকেশন কো-অপারেশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের এক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও গভীর বন্ধুত্বের সূচনা হয়েছিল শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে। পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে এ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়। বর্তমান সরকারও চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।’
মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশ সরকার চীনের সঙ্গে সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দেয়। দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর ও কার্যকর করতে শিক্ষা, গবেষণা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় এবং কারিগরি শিক্ষায় সহযোগিতা বাড়াতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির বড় শক্তি বিশাল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী বা ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’। তবে দীর্ঘদিন ধরে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা অতিমাত্রায় তত্ত্বনির্ভর হওয়ায় শিক্ষার্থীরা বাস্তব কর্মজগৎ ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রয়োজনীয় সুযোগ থেকে পিছিয়ে ছিল। সরকার শিক্ষাকে আরও কর্মমুখী ও প্রায়োগিক করতে কাজ করছে।
তিনি জানান, সবার জন্য কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা (TVET) অগ্রাধিকার দিয়ে তা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় তরুণদের এগিয়ে নিতে তৃতীয় ভাষা শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে মান্দারিন বা চীনা ভাষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
মাহ্দী আমিন আরও বলেন, শিক্ষাক্রমের সঙ্গে শ্রমবাজারের সরাসরি সংযোগ তৈরি করতে ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া কোলাবোরেশন বাড়ানো এবং শিক্ষার্থীদের চাকরির পথ সহজ করতে আধুনিক এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বৈশ্বিক র্যাংকিং ও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় সাফল্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, চীনের গ্লোবাল বেস্ট প্র্যাকটিস ও উন্নত গবেষণার সংস্কৃতি বাংলাদেশেও ছড়িয়ে দিতে চায় সরকার। এ ক্ষেত্রে চীনের পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলাদেশি মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য চীনের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার স্কলারশিপ বহুগুণে বাড়ানোর আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আধুনিক ল্যাবরেটরি ও আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে যৌথ গবেষণা প্রকল্প গ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে পিপল-টু-পিপল কানেক্টিভিটিতে শিক্ষাই হোক অন্যতম চালিকাশক্তি।’
দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থী বিনিময় বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন মাহদী আমিন। চীনা শিক্ষার্থীদের এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম ও সামার স্কুলের মাধ্যমে বাংলাদেশে আসার সুযোগ এবং বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের চীনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর কথা বলেন তিনি। চীনে বর্তমানে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কল্যাণেও দুই দেশকে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
মাহদী আমিন চীনের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে এসে সম্ভাবনা যাচাই এবং দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোর সঙ্গে যৌথ অ্যাকাডেমিক ডিগ্রি ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ দাউদ মিয়াসহ চীনের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় যৌথ আন্তর্জাতিক সেবা কেন্দ্র ‘চীন-বাংলাদেশ শিল্প ও শিক্ষা একীকরণ আন্তর্জাতিক সেবা কেন্দ্র’-এর আনুষ্ঠানিক শুভ সূচনা করা হয়।
এর সাফল্য কামনা করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, মেধা ও গবেষণার মেলবন্ধনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব। তিনি এই অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য চীনা দূতাবাস ও বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ জানান।