সিলেট ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৬:৩৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৮, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::
যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কাঁধে বহনযোগ্য ট্যাংক বিধ্বংসী জ্যাভলিন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কেনার পরিকল্পনা করছে ভারত। দেশটিতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর এ তথ্য জানিয়েছেন। আজ ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গোর বলেন, ভারত যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষিত জ্যাভলিন ট্যাংক বিধ্বংসী ব্যবস্থা কেনার পরিকল্পনা করছে। তার ভাষ্য, এটি মার্কিন-ভারত প্রতিরক্ষা সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে যৌথ উৎপাদনের সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।
গোর বলেন, ‘বড় খবর! ভারত যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষিত জ্যাভলিন ট্যাংক বিধ্বংসী ব্যবস্থা কেনার পরিকল্পনা করছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পিট হেগসেথ যেমনটা ২০২৬ সালের মে মাসের শাংরি-লা সংলাপে তুলে ধরেছিলেন, এটি মার্কিন-ভারত প্রতিরক্ষা সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ এবং যৌথ উৎপাদনের সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করে। আমাদের দুই দেশের মধ্যে সম্পৃক্ততা এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।’
মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, জ্যাভলিন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ইতোমধ্যেই মার্কিন সেনাবাহিনী ও মেরিন কোরের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক গ্রাহকের কাছে ব্যবহৃত হচ্ছে।
গোর আরও বলেন, এই চুক্তি দুই দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের মধ্যে একসঙ্গে কাজ করার নতুন সুযোগ তৈরি করবে। ভবিষ্যতে দুই দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তবে ভারত ঠিক কতগুলো জ্যাভলিন অ্যান্টি-ট্যাংক গাইডেড মিসাইল সিস্টেম সংগ্রহ করছে এবং এ সংগ্রহের মোট ব্যয় কত হবে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এ বিষয়ে নয়াদিল্লির পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
জ্যাভলিন কী?
জ্যাভলিন একটি বহনযোগ্য ট্যাংক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা। সাঁজোয়া লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য এটি লকহিড মার্টিন ও আরটিএক্স যৌথভাবে তৈরি করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র বাহিনী এই ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ব্যবহার করে।
কাঁধে বহনযোগ্য জ্যাভলিন ব্যবস্থায় স্বয়ংক্রিয় দিকনির্দেশনা প্রযুক্তি রয়েছে। উৎক্ষেপণের পর এই প্রযুক্তি ক্ষেপণাস্ত্রটিকে লক্ষ্যবস্তু অনুসরণ করতে সহায়তা করে। ফলে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পর অপারেটর দ্রুত অবস্থান পরিবর্তন করে পাল্টা আক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে পারেন।
জ্যাভলিন সাধারণত ট্যাংকের ওপরের অংশকে লক্ষ্য করে আঘাত হানে। ট্যাংকের এই অংশ তুলনামূলকভাবে কম সাঁজোয়া থাকে। উৎক্ষেপণের পর ক্ষেপণাস্ত্রটি উল্টো ‘ইউ’ আকৃতির গতিপথে এগিয়ে গিয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। ব্যবস্থাটিতে গানার একটি কার্সার ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন করেন। এরপর কমান্ড লঞ্চ ইউনিট ক্ষেপণাস্ত্রটিকে উৎক্ষেপণের আগে লক্ষ্যবস্তুতে লক-অন করার সংকেত দেয়।
জ্যাভলিনের তুলনামূলক হালকা ওজনের কারণে সৈন্যরা ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পর দ্রুত অবস্থান পরিবর্তন করতে পারেন অথবা অন্য কোনো হুমকি মোকাবিলায় পুনরায় লোড করতে পারেন। এর সফট-লঞ্চ নকশার কারণে ভবন ও বাঙ্কারসহ বিভিন্ন আবদ্ধ কাঠামো থেকেও এটি নিরাপদে নিক্ষেপ করা সম্ভব।
ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোতে অবস্থিত লকহিড মার্টিন এবং অ্যারিজোনার টুকসনে অবস্থিত রেথিয়নের সমন্বয়ে গঠিত জ্যাভলিন জয়েন্ট ভেঞ্চার মার্কিন সেনাবাহিনী ও মেরিন কোরের জন্য জ্যাভলিন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা তৈরি ও উৎপাদন করেছে।
ভারতে বাড়ছে মার্কিন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনা
মার্কিন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার ক্ষেত্রে ভারতের ক্রমবর্ধমান আগ্রহের মধ্যেই জ্যাভলিন কেনার এই পরিকল্পনার কথা সামনে এলো। ২০২৫ সালের নভেম্বরে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ভারতের কাছে সম্ভাব্য ৯৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি বিক্রয় চুক্তি অনুমোদন করে। ওই চুক্তির আওতায় সর্বোচ্চ ১০০টি জ্যাভলিন সিস্টেম এবং ২১৬টি এক্সক্যালিবার গাইডেড আর্টিলারি প্রজেক্টাইল অন্তর্ভুক্ত ছিল।
স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এসআইপিআরআই) তথ্য অনুযায়ী, ভারত বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম সামরিক ব্যয়কারী দেশ এবং ইউক্রেনের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অস্ত্র আমদানিকারক। ভারত ইতোমধ্যেই নিজেদের এম৭৭৭ হাউইটজারের সঙ্গে এক্সক্যালিবার গোলাবারুদ ব্যবহার করছে।
এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত একটি বৃহৎ প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের জন্য একটি কাঠামো চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। এর লক্ষ্য স্থল, সমুদ্র, আকাশ, মহাকাশ ও সাইবারস্পেসজুড়ে দুই দেশের আন্তঃকার্যক্ষমতা আরও জোরদার করা।
ভারত এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি বেশ কয়েকটি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে অ্যাপাচি ও চিনুক হেলিকপ্টার, সি-১৭ ও সি-১৩০জে পরিবহন বিমান, পি-৮আই সামুদ্রিক টহল বিমান এবং এম৭৭৭ হাউইটজার।