সিলেট ৩রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৮:৫১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬
প্রতিনিধি/বালাগঞ্জঃঃ
সিলেটের বালাগঞ্জে কর্মকর্তা ও শিক্ষকের চলমান দ্বন্ধে প্রাথমিক শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। এক পক্ষে উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান। আর অন্য দুই সমন্বিত পক্ষ হলেন- উপজেলার পশ্চিম গৌরীনাথপুর সরকারি স্কুলের এক সহকারী নারী শিক্ষক এবং ওই স্কুলের কয়েকজন নারী অভিভাবক।
দ্বন্ধের বিষয়টি এমনভাবে ছড়াচ্ছে, যা প্রাথমিক শিক্ষায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। নানা সমালোচনার সৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু এই ত্রিমুখি দ্বন্ধ নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না করায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, দ্বন্ধের বিষয়টি নিয়ে এমনভাবে কাদা ছোড়াছুড়ি হচ্ছে, যা খুবই লজ্জাজনক ও বিভান্তিকর। এতে এই উপজেলাবাসীর দুর্নাম হচ্ছে। তাদের প্রশ্ন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কেনো নিরব, তাদের কী কোনো দায়-দায়িত্ব নেই। উপজেলার এক সিনিয়র সাংবাদিক বলেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও ইউএনওকে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নিতে বললেও তারা কেনো নিরবতা দেখাচ্ছেন তা বুঝতে পারছি না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিম গৌরীনাথপুর স্কুলের কয়েকজন নারী অভিভাবক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে ‘অশালীন’ আচরণসহ অন্যান্য অভিযোগ তুলে ২৪ আগস্ট ঊর্ধ্বতনদের নিকট লিখিত অভিযোগ দেন। নারী অভিভাবকরা বলছেন, অপকর্ম ঢাকতে কতিপয় শিক্ষকদের চাপ দিয়ে মাঠে নামিয়েছেন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা। অভিযোগ তদন্তাধীন থাকাবস্থায় শিক্ষকরা কোনো আমাদের দেওয়া অভিযোগের বিরোধীতা করে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার পক্ষে সাফাই গাচ্ছেন। তবে, একাধিক শিক্ষক জানিয়েছেন, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আমাদের সাথে কোনো যোগাযোগ করেননি। মুষ্টিমেয় কিছু শিক্ষক আমাদেরকে স্মরকলিপিতে স্বাক্ষর করার কথা বলায় আমরা স্বাক্ষর করেছি।
সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার রোষানলে পড়ে হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে পশ্চিম গৌরীনাথপুর স্কুলের এক সহকারী নারী শিক্ষক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ২৪ আগস্ট ঊর্ধ্বতনদের কাছে আরেকটি লিখিত অভিযোগ দেন। ভুক্তভোগী ওই নারী শিক্ষক বলেন, আমাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ক্ষিপ্ত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণের আগেই আমাকে ডেপুটেশনে বদলি করেন। নীতিমালা লঙ্ঘন করে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে আমাকে বদলি করা হয়েছে। যদিও চার শিক্ষক কর্মরত স্কুলে ডেপুটেশনের বিধান নেই।
তার অভিযোগ, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে আমার বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতনদের কাছে একাধিক অভিযোগ দেন। তিনি আমার অভিভাবকদের সাথে বাজে আচরণ করেন। আমাকে বরখাস্ত করবেন বলে দম্ভোক্তি দেখান। আমার অভিভাবকরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করলেও তিনি কোনো গুরুত্ব দেননি।
সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান অভিযোগ অস্বীকার বলেন, এগুলো বিভ্রান্তিকর কথাবার্তা। স্বার্থবঞ্চিত মহল আমার নামে অপপ্রচার করছে। তদন্ত হোক সত্যটা জানা যাবে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রকিব ভুঁইয়া সাংবাদিকদের বলেছিলেন, বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেবেন। তবে, এখনও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেননি তিনি। একইভাবে ইউএনও মেরিনা দেবনাথ সবাইকে ডেকে নিয়ে বসার কথা বললেও এখন তার নিরবতাই প্রকাশ পাচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষকরা বলছেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয়হীনতা রয়েছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দ্বন্ধ নিরসনে ইউএনওকে গুরুত্ব দিয়ে কিছু বলছেন না। তিনি দর্শক সারিতে নিরবে বসে তামাশা দেখছেন।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় গণমাধ্যমকে দায়ী করে ১সেপ্টেম্বর শিক্ষকদের পক্ষ থেকে ইউএনওসহ ঊর্ধ্বতনদের কাছে কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। তাতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসানকে নির্দোষ দাবি করা হয়েছে। তবে, চলমান দ্বন্ধ জটিল আকার ধারন করলেও তা নিরসেনের উদ্যোগ না দিয়ে শিক্ষকরা কোনো গণমাধ্যমকে দায়ী করছেন, এনিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।