সংশোধনী প্রজ্ঞাপন জারি ৫ গুণ বাড়ল ইউপি নির্বাচনের জামানত

প্রকাশিত: ৭:০১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬

সংশোধনী প্রজ্ঞাপন জারি ৫ গুণ বাড়ল ইউপি নির্বাচনের জামানত

লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::

 

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানতের অর্থ পাঁচ গুণ বাড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীকে ২৫ হাজার টাকা এবং সদস্য পদে প্রার্থীকে ৫ হাজার টাকা জামানত দিতে হবে। একই সঙ্গে চেয়ারম্যান প্রার্থীর সর্বোচ্চ নির্বাচনী ব্যয় ১০ লাখ এবং সদস্য প্রার্থীর ২ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংশোধিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিধিমালায় এসব পরিবর্তন আনা হয়েছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত সংশোধনী প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। আজ বুধবার তা প্রকাশ করা হয়েছে। ইউপি নির্বাচন-সংক্রান্ত আইন ও বিধিমালার তালিকা ইসির ওয়েবসাইটেও রয়েছে।

 

নতুন বিধান অনুযায়ী, চেয়ারম্যান প্রার্থীকে ২৫ হাজার এবং সদস্য প্রার্থীকে ৫ হাজার টাকা ট্রেজারি চালান, পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুকূলে জমা দিতে হবে। একই প্রার্থীর পক্ষে একাধিক মনোনয়নপত্র দাখিল করা হলেও একাধিক জামানত দিতে হবে না। এতদিন চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত ছিল ৫ হাজার এবং সদস্য প্রার্থীর ১ হাজার টাকা।

জামানত ফেরতের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নির্বাচনে প্রদত্ত মোট ভোটের অন্তত ১৫ শতাংশ পেলে প্রার্থী জামানত ফেরত পাবেন। এর কম ভোট পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত করে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে। আগে ১২ দশমিক ৫ শতাংশের কম ভোট পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত করার বিধান ছিল। আবার গেজেটে ফল প্রকাশের ছয় মাসের মধ্যে যোগ্য কোনো প্রার্থী জামানত গ্রহণ না করলে সেই অর্থও সরকারি কোষাগারে জমা হবে।

 

হলফনামা দিতে হবে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের

এবার থেকে ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের হলফনামা দেওয়ার বিধান যুক্ত হয়েছে। আগের নির্বাচনী বিধিমালায় চেয়ারম্যান প্রার্থীদের জন্য এ ধরনের বাধ্যবাধকতা ছিল না। তবে সদস্য প্রার্থীদের ক্ষেত্রে হলফনামা দেওয়ার বিধান রাখা হয়নি।

 

আচরণবিধি ভাঙলে প্রার্থিতা বাতিলের সুযোগ

সংশোধিত বিধিমালায় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে কমিশনের ক্ষমতাও বাড়ানো হয়েছে। কোনো উৎস থেকে পাওয়া রেকর্ড বা লিখিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কোনো প্রার্থী বা তাঁর নির্বাচনী এজেন্টের বিরুদ্ধে বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে কমিশন তাৎক্ষণিক তদন্তের নির্দেশ দিতে পারবে।

 

তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে লিখিত আদেশে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে কমিশন। এ সিদ্ধান্ত প্রার্থী, তার নির্বাচনী এজেন্ট ও রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানাতে হবে। পাশাপাশি তা সরকারি গেজেটে প্রকাশের ব্যবস্থা করতে হবে।

 

কোনো ভোটকেন্দ্রের ফলাফল বলপ্রয়োগ, ভয়ভীতি, কারসাজি বা অন্য কোনো অপকর্মের কারণে গুরুতরভাবে পক্ষপাতদুষ্ট হলে কমিশন ওই কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত করতে পারবে। পরে অনুসন্ধানে প্রয়োজন মনে হলে কেন্দ্রটির নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় ভোটগ্রহণের নির্দেশও দেওয়া যাবে।

 

নির্বাচনী ব্যয়ের নতুন সীমা

সংশোধিত বিধিমালায় চেয়ারম্যান প্রার্থীর সর্বোচ্চ নির্বাচনী ব্যয় ১০ লাখ টাকা এবং সদস্য প্রার্থীর ২ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগের বিধানে এই সীমা ছিল যথাক্রমে ৫ লাখ ও ১ লাখ টাকা।

 

নির্বাচন-পূর্ব প্রচারণায় ইউনিয়ন পরিষদ (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা, ২০২৬-এর বিধান কার্যকর হবে। ওই বিধিমালার পরিপন্থী কোনো কাজে অর্থ ব্যয় করা যাবে না।

 

চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব পরিচালনার জন্য তফসিলি ব্যাংকে পৃথক হিসাব খোলার বিধানও রাখা হয়েছে। নির্বাচনী ব্যয়ের সব অর্থ ওই হিসাবের মাধ্যমে ব্যয় করতে হবে। কোনো খাতে ২০ হাজার টাকা বা তার বেশি ব্যয় হলে চেকের মাধ্যমে তা পরিশোধ করতে হবে।

 

সমান ভোটে লটারি নয়, হবে পুনঃভোট

দুই বা ততোধিক প্রার্থী সর্বোচ্চ সমান ভোট পেলে এবার লটারির মাধ্যমে বিজয়ী নির্ধারণ করা হবে না। এ ক্ষেত্রে সমান সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে পুনরায় ভোট গ্রহণের নির্দেশ দেবে কমিশন।

 

সহায়তা নিতে পারবেন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ভোটার

দৃষ্টি বা শারীরিক প্রতিবন্ধিতা কিংবা অন্য কোনো কারণে ভোট দিতে সহায়তা প্রয়োজন এমন ভোটারকে সহযোগিতার জন্য কমপক্ষে ২১ বছর বয়সী একজন ব্যক্তিকে সঙ্গে নেওয়ার অনুমতি দিতে পারবেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা।

 

ভোটার নিজে ব্যালট পেপারে চিহ্ন দিতে না পারলে তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী সহায়তাকারী চিহ্ন দিতে পারবেন। তবে সহায়তাকারী প্রার্থী, প্রার্থীর এজেন্ট, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হতে পারবেন না। ভোটারের পছন্দের বিষয়টি গোপন রাখার নির্দেশও তাঁকে দিতে হবে। এ ধরনের ভোটারদের তালিকা সংরক্ষণ করবেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা।

 

বাধা দিলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড

নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি, কমিশন অনুমোদিত গণমাধ্যমকর্মী বা পর্যবেক্ষককে হুমকি, ভয়ভীতি, আঘাত বা বলপ্রয়োগ করে দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া কিংবা তাঁদের সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত করা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

 

একইভাবে কোনো ভোটারকে ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া, প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া থেকে বিরত রাখা বা মনোনয়ন প্রত্যাহারে বাধ্য করাও অপরাধ। এসব অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

 

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনী অপরাধ ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণে প্রয়োজনীয় সংখ্যক মনিটরিং কমিটি গঠন করতে পারবে কমিশন।

 

এ ছাড়া কোনো প্রার্থী, নির্বাচনী এজেন্ট বা পোলিং এজেন্ট নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত না থাকলেও তাঁদের অনুপস্থিতির কারণে আইনানুগভাবে সম্পন্ন কোনো কার্যক্রম অবৈধ হবে না। তবে রিটার্নিং বা প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে তাঁদের উপস্থিতি নিশ্চিতের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে এবং অনুপস্থিতির কারণ লিখিতভাবে কমিশনকে জানাতে হবে।

 

ইউপি নির্বাচনে যেসব প্রতীক

স্থানীয় সরকারের সব পর্যায়ের নির্বাচন নির্দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আসন্ন ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত নারী সদস্য ও সাধারণ সদস্য পদের জন্য প্রতীক নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন।

 

চেয়ারম্যান পদে ২০টি প্রতীক হলো—কম্পিউটার, কলার ছড়ি, ঘণ্টা, ঘোড়া, চিংড়ি, জগ, টেবিল, টেবিল ঘড়ি, টেলিফোন, দালান, দোতলা বাস, পাগড়ি, বেবি ট্যাক্সি, ময়ূর, মোবাইল ফোন, মোটরসাইকেল, মোড়া, রেল ইঞ্জিন, সোফা ও হাঁস।

 

সাধারণ সদস্য পদের জন্য ১২টি প্রতীক—উট, কাপ-পিরিচ, ঘুড়ি, জাহাজ, টর্চ লাইট, টিউবওয়েল, ট্রাক্টর, তালা, ফুটবল, বৈদ্যুতিক পাখা, বৈদ্যুতিক বাল্ব ও মোরগ।

 

সংরক্ষিত নারী সদস্য পদের জন্য ১০টি প্রতীক হলো—আলমারি, কলস, ড্রেসিং টেবিল, পালকি, ফলের ঝুড়ি, মাইক, সেলাই মেশিন, সূর্যমুখী ফুল, হরিণ ও হেলিকপ্টার।

Spread the love

আর্কাইভ

September 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930