সিলেট কারাগারে থাকবে না বন্দি, ইতিহাস ছড়াবে জাদুঘর

প্রকাশিত: ৫:১০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬

সিলেট কারাগারে থাকবে না বন্দি, ইতিহাস ছড়াবে জাদুঘর

লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::

 

সিলেট নগরের ভেতরে উঁচু দেয়ালঘেরা ২৩৭ বছরের পুরনো কারাগার। একসময় ১২শ বন্দি ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন এই কারাগারে গাদাগাদি করে থাকতেন কয়েকগুণ বেশি কয়েদি ও হাজতি। শতকোটি টাকা ব্যয়ে শহরতলীর বাদাঘাটে নতুন কারাগার নির্মাণের পর কদর কমেছে পুরনো কারাগারের। এরপর বিগত সরকারের আমলে কারগারটি নিয়ে অনেক পরিকল্পনা হয়। কিন্তু কারাগার উচ্ছেদ হলেই হাজার কোটি টাকা মূল্যের ভূমি আত্মসাত করতে একটি গোষ্টি ওৎপেতে থাকায় কোন প্রকল্প আলোর মুখ দেখেনি।

 

এবার কারাগারটি সরিয়ে সেখানে নির্মল বিনোদনের জন্য নান্দনিক পার্ক ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাদুঘরটি হবে জোবায়দা রহমানের বাবার নামে ‘রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর’। উন্মুক্ত পার্কজুড়ে থাকবে সবুজ আর নানা জাতের ফুলের সমারোহ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ঢাকায় উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে পার্ক ও জাদুঘর নির্মাণের লক্ষ্যে কারাগারের জায়গাটি সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়েছে।

 

সূত্র জানায়, বাংলাদেশের প্রাচীন কারাগারগুলোর মধ্যে সিলেট কারাগার অন্যতম। ১৭৮৯ সালে আসামের কালেক্টরেট জন উইলিয়াম প্রায় এক লাখ রুপি ব্যয়ে সিলেট নগরীর প্রাণকেন্দ্র ধোপাদীঘিরপাড়ে ২৪ একর জায়গার উপর ১২১০ জন বন্দি ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন কারাগারটি নির্মাণ করেন। প্রশাসনিক প্রয়োজন ও বন্দী আধিক্যের কারণে ১৯৯৭ সালে এটিকে জেলা থেকে কেন্দ্রীয় কারাগারে উন্নীত করা হয়।

 

২০১৯ সালে বাদাঘাট এলাকায় অত্যাধুনিক কারাগারে বন্দি স্থানান্তরের পর শহরের অভ্যন্তরে পুরনো কারাগারের মূল্যবান ভূমির উপর চোখ পড়ে ভূমিখেকোচক্রের। বিভিন্ন সময় কারাগারের ওই জায়গার ওপর বিভিন্ন প্রকল্প তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়। কিন্তু প্রকল্পের নামে জায়গা বেহাতের আশঙ্কায় কারা কর্তৃপক্ষ তাদের জায়গা অন্য কোন কাজে ব্যবহারে অনুমতি দেয়নি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের পর সিলেট মেট্রো এলাকার কয়েদিদের ওই কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। সেইসাথে পুরনো কারাগারটির নাম দেওয়া হয় ‘সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার-২’।

 

বিএনপি সরকার গঠনের পর সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এবং সিসিকের প্রশাসক আবদুল কাইয়ূম চৌধুরীর যৌথ প্রচেষ্টায় কারাগারের স্থানে নান্দনিক পার্ক ও মুক্তিযুদ্ধের জাদুঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তরে উচ্চপর্যায়ের এক সভায় কারাগারের জায়গাটি সিসিকের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

 

সূত্র জানায়, পুরনো কারাগারের জায়গাটিতে উন্মূক্ত পার্ক গড়ে তোলা হবে। একপাশে থাকবে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। যেখান থেকে নতুন প্রজন্ম মহান মুক্তিযুদ্ধের নানা ইতিহাস জানতে পারবেন। পার্কে লাগানো হবে নানা জাতের ছায়া ও দৃষ্টিনন্দন গাছ। পার্কজুড়ে শোভা পাবে নানা জাতের ফুল। কারাগারের জায়গায় কোন ধরণের বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ করবে না সিসিক। এতে সকালে লোকজন পার্কে হাঁটাচলা ও বিকেলে পরিবার নিয়ে নির্মল বিনোদনের সুযোগ পাবেন।

 

এ প্রসঙ্গে সিসিকের প্রশাসক আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী জানান, নগরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা অনুযায়ী পুরোনো কারাগারের জায়গায় নান্দনিক পার্ক হবে। এক পাশে হবে ‘রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।’ অচিরেই এর কাজ শুরু হবে।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

September 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930