সিলেট ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৫:২৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা (মন্ত্রী মর্যাদা) জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, দেশের অর্থনীতির পুনরুত্থান ও বিকাশে চীনের সঙ্গে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক বন্ধুত্ব জোরদার করা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
আজ রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে সফররত চীনের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সম্মানে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
সফররত চীনা প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ইউনান প্রাদেশিক কমিটির স্থায়ী কমিটির সদস্য কমরেড ঝাও জুনমিন। অনুষ্ঠানে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু এমপি, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এবং ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘১৯৭৬ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বাংলাদেশ-চীন কূটনৈতিক সম্পর্কের যে পথচলা শুরু হয়েছিল, পরবর্তীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে তা আরও সুদৃঢ় ও গতিশীল হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম বড় চালিকাশক্তি চীনের উৎপাদন সক্ষমতা ও প্রযুক্তির সুবিধা নিয়ে বাংলাদেশের তরুণ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগানো গেলে দেশের অর্থনীতির পুনরুত্থান ত্বরান্বিত করা সম্ভব।’
চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘চীন থেকে প্রতি বছর ২২ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের পণ্য আমদানির বিপরীতে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানির পরিমাণ মাত্র ১ বিলিয়ন ডলারের নিচে।’
এই বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি নিরসনে চীনা সরকার বাংলাদেশি পণ্যে প্রায় শতভাগ শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি ইউনান প্রদেশের কুনমিং শহরে বিনামূল্যে একটি প্রদর্শন কেন্দ্র (ডিসপ্লে সেন্টার) ও ২ হাজার বর্গকিলোমিটার সুবিধার স্টোরেজ বরাদ্দ দিয়েছে বলেও জানান তিনি।
জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, ‘কুনমিং থেকে মিয়ানমার হয়ে চট্টগ্রাম বন্দর ও সড়ক যোগাযোগের নতুন অর্থনৈতিক করিডোর উন্মোচিত হলে তা বাংলাদেশ ও চীন—উভয় দেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্যে নতুন মাত্রা যোগ করবে।’
আগামী ৩ অক্টোবর বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনের মেয়াদ শেষে বিদায় নিতে যাওয়া চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের কূটনৈতিক অবদানের প্রশংসা করেন তিনি। একই সঙ্গে বাংলাদেশ-চীন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে চীনা প্রতিনিধি দলের সদস্য ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।