সুন্দরবনসংলগ্ন বলেশ্বরে কুমিরের হামলা গাভীকে নদীতে টেনে নেওয়ার চেষ্টা, গুরুতর আহত

প্রকাশিত: ৯:৪১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬

সুন্দরবনসংলগ্ন বলেশ্বরে কুমিরের হামলা গাভীকে নদীতে টেনে নেওয়ার চেষ্টা, গুরুতর আহত

প্রতিনিধি / বাগেরহাট ::

 

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল ও মৎস্যভান্ডার হিসেবে খ্যাত বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনসংলগ্ন বাগেরহাটের শরণখোলায় কুমিরের হামলায় একটি গাভী গুরুতর আহত হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার সুন্দরবনসংলগ্ন বগী গ্রামের বলেশ্বর নদসংলগ্ন চরে কচুরিপানা খাওয়ার সময় গাভীটির ওপর হামলা চালায় একটি কুমির। স্থানীয়রা লাঠিসোঁটা নিয়ে তাড়া করলে গাভীটিকে ছেড়ে নদীতে চলে যায় কুমিরটি।

 

কুমিরের আক্রমণে গাভীটির পেছনের অংশ মারাত্মক জখম হয়েছে। পরে শরণখোলা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভেটেরিনারি চিকিৎসক গাভীটিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেন।

 

গাভীর মালিক পুতুল বেগম বলেন, তার চারটি গরু বলেশ্বর নদের চরে জমে থাকা কচুরিপানা খাচ্ছিল। দুপুর ১টার দিকে হঠাৎ নদ থেকে একটি কুমির উঠে এসে একটি গাভীর পেছনের দিকে হামলা চালায়। কুমিরটি গাভীটিকে নদীর দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল। বিষয়টি দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে এগিয়ে গেলে কুমিরটি গাভীটিকে ছেড়ে দেয়।

 

প্রত্যক্ষদর্শী সুজন ও রাসেল বলেন, তারা কয়েকজন নদীর পাড়ে বসে ছিলেন। এ সময় একটি কুমিরকে গাভীটিকে টেনে নদীর দিকে নিয়ে যেতে দেখেন। পরে তারা কয়েকজন মিলে লাঠিসোঁটা নিয়ে কুমিরটিকে তাড়া করলে সেটি গাভীটিকে ছেড়ে নদীতে চলে যায়। এ ঘটনার পর নদসংলগ্ন এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

 

শরণখোলা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভেটেরিনারি চিকিৎসক মাসুম বিল্লাহ বলেন, কুমিরের আক্রমণে গাভীটি বেশ জখম হয়েছে। তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

 

স্থানীয়দের ধারণা, এর আগে শরণখোলার বলেশ্বর নদে দেখা দেওয়া বড় আকৃতির কুমিরটিই এ হামলা চালিয়ে থাকতে পারে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

 

পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, গরুর ওপর কুমিরের হামলার খবর পেয়ে বনরক্ষীদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। কুমিরটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। স্থানীয়দের আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

September 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930