সিলেট ২৪শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১:৪৯ অপরাহ্ণ, জুন ২১, ২০২০
জেলা প্রতিনিধিঃঃ
চা শ্রমিকদের জীবন মান উন্নয়ন প্রকল্পের প্রতি বছরের ন্যায় এবারও শ্রমিক প্রতি ৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তার চেক প্রদান করে সমাজসেবা অধিদপ্তর। এরই ধারাবাহিকতায় মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার ১৯ টি চা বাগানের শ্রমিকদের জন্য বরাদ্দকৃত অনুদান বিতরণের জন্য উপকারভোগীদের প্রাথমিক তালিকা করা হয়।
কিন্তু এ তালিকা করতে গিয়ে অনেক বাগানে পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি ও সম্পাদক বিভিন্ন কাগজপত্র ঠিক করার কথা বলে শ্রমিকদের কাছ থেকে ১০০-২০০ টাকা করে হাতিয়ে নিচ্ছেন। অন্যথায় তালিকা থেকে নাম কেটে দেয়ারও হুমকি দিচ্ছেন তারা।
এবিষয়টি নজরে আসলে বিজয়া চা-বাগানের বাসিন্দা বিদ্যাধর পাশী কুলাউড়া থানা, উপজেলা সমাজসেবা অফিস এবং গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ থেকে জানা যায়, জয়চন্ডী ইউনিয়নের বিজয়া চা-বাগান শ্রমিক পঞ্চায়েতের সভাপতি কিরোন শুক্ল বৈদ্য অনুদান পেতে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র ঠিকঠাক করার কথা বলে তার সমর্থিত বকুল লায়েক, হরিবগত সূর্য বংশিকে দিয়ে উপকার ভোগী শ্রমিকদের কাছ থেকে জনপ্রতি ১০০/১৫০ টাকা করে উত্তোলন করেন। বিষয়টি নিয়ে বাগানের বাসিন্দা বিদ্যাধর পাশী প্রতিবাদ করলে তাকে মারধরের হুমকি দেন শ্রমিক পঞ্চায়েতের সভাপতি কিরোন শুক্ল বৈদ্য।
এদিকে একই ইউনিয়নের দিলদারপুর চা-বাগানের শ্রমিকদের কাছ থেকেও কাগজপত্র ঠিকঠাক করার কথা বলে টাকা উত্তোলন করেছেন ওই বাগানের শ্রমিক পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি বাদল দেব।
দিলদারপুর বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সাবেক সভাপতি বিকাশ তাষা জানান, বাগানে যে কোন অনুদান আসলেই বর্তমান কমিটির সভাপতি ও সম্পাদক বিভিন্ন কাগজপত্র ঠিক করার কথা বলে অসহায় শ্রমিকদের কাছ থেকে টাকা আদায় করেন। বিষয়টি নিয়ে আমরা উপজেলায় অভিযোগ দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।
বাগান শ্রমিক তারাবতি পাশি, আনন্দ রাজপুত, সপ্তমি বাকতি, স্বপন পাশীসহ বেশ কয়েকজন শ্রমিক জানান, প্রতিবারই যে কোন অনুদান আসলেই শ্রমিক প্রেসিডেন্ট লোক পাঠিয়ে উপকার ভোগীদের কাছ থেকে বিভিন্ন কাজের কথা বলে টাকা আদায় করেন। অথচ আমরা নিজের খরচে ছবি ও আইডি কার্ডের ফটোকপি করে দেই।
এরপরও টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তালিকা থেকে নাম কেটে দেয়ার হুমকি দেয় তারা। এছাড়াও তাদের (সভাপতি-সম্পাদক) পছন্দের লোকজনের নাম বার বার তালিকায় দেন। যার ফলে প্রকৃত অসহায় শ্রমিকরা অনুদান থেকে বঞ্চিত হন।
বিজয়া বাগানের শ্রমিক পঞ্চায়েত সভাপতি কিরোন শুক্ল বৈদ্য এবং দিলদারপুর বাগানের শ্রমিক পঞ্চায়েত সভাপতি বাদল দেব জানান, ছবি প্রিন্ট, ফটোকপি করা এবং মাস্টাররুল রেডি করার জন্য শ্রমিকদের কাছ থেকে সামান্য টাকা নিয়েছি। এটাতো আমরা খাইনি, তাদের কাগজপত্র ঠিক করতে খরচ করছি।
এব্যাপারে জয়চন্ডী ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড সদস্য আজমল আলী জানান, শ্রমিকদের কাছ থেকে টাকা নেয়ার খবর পেয়ে আমি নিজে গিয়ে সভাপতিকে নিষেধ করেছি এবং বলেছি প্রয়োজনে তাদের খরচের টাকা আমি দেব। এরপরও সভাপতি আমার কথা না শুনে শ্রমিকদের কাছ থেকে টাকা উত্তোলন করেছেন।
কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার এটিএম ফরহাদ চৌধুরী জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে এই অনুদান সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে। এখানে কোনো প্রকার টাকা-পয়সার প্রয়োজন হয়না, অফিসিয়াল কোনো খরচও এতে নেই। তাই এটা নিয়ে কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ পাওয়া গেলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।