বছরে উৎপাদন এক লাখ চিংড়ি লার্ভা!

প্রকাশিত: ১:০১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১, ২০২০

বছরে উৎপাদন এক লাখ চিংড়ি লার্ভা!

লন্ডন বাংলা ডেস্কঃঃ

লবণাক্ত এলাকা না হওয়ায় প্রতিষ্ঠার দুই বছর পরও মাগুরায় ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ে স্থাপিত চিংড়ি পোস্ট লার্ভা উৎপাদন খামার চালু করা যায়নি। অথচ খাতা-কলমে রয়েছে সচল। শুধু তাই নয়, গত দুই বছরে সেখানে দুই লাখ পিএল উৎপাদনের পর চাষীদের কাছে বিক্রিও করা হয়েছে। এমন তুঘলকি কাণ্ড চলছে মাগুরা মৎস্য বিভাগে।

 

স্বাদু পানির চিংড়ি চাষ সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় ২০১৮ সালে মাগুরায় চিংড়ি পোস্ট লার্ভা-পিএল উৎপাদনের জন্য অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়। জেলা মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারের সীমানার মধ্যে চার হাজার বর্গফুট আয়তনের হ্যাচারিটির নির্মাণ কাজ করেন যশোর জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মোস্তাক।

 

ওই বছরের জুনে অবকাঠামো নির্মাণ সম্পন্ন হলেও হ্যাচারির প্রধান ফটকে এখনও ঝুলছে তালা। ভেতরে বিভিন্ন উপকরণ পড়ে আছে যত্রতত্র। ভবন আলো-বাতাস নিয়ন্ত্রিত হওয়ার কথা থাকলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেটি বাস্তবায়ন করেনি। হ্যাচারিতে থ্রি ফেজ বিদ্যুৎ সংযোগ অপরিহার্য হলেও লাগেনি সেটিও। স্থাপিত হয়নি ওভারহেড পানির ট্যাঙ্ক, শক্তিশালী সাবমারসিবল পাম্প। এতকিছু নেই সত্ত্বেও টিনশেডে নির্মিত হ্যাচারিটির নির্মাণ ব্যয় ৭৮ লাখ টাকা নিয়ে প্রশ্ন অনেকের।

 

অন্যদিকে হ্যাচারি নির্মাণের দুই বছর পরও জেলায় গলদা চিংড়ি চাষে সম্পৃক্ত ১১৫ জন চাষীকে পিএল সংগ্রহের জন্য দূর-দূরান্তে সাগর এলাকায় খামারগুলোর ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে করে তাদের উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। এদিকে সবকিছু পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকলেও খামার ব্যবস্থাপকের কার্যালয়ে খাতাপত্রে আদৌ চালু না হওয়া এই হ্যাচারিতেই গত দুই বছর ধরে চিংড়ি পিএল উৎপাদন হচ্ছে।

 

শুধু তাই নয়, উৎপাদনের বিপরীতে দুই লাখ ১০০ টাকাও সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। মৎস্য বিভাগ সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে জানা গেছে, এত টাকা ব্যয়ে হ্যাচারিটি স্থাপন করা হলেও এটি চিংড়ি পিএল উৎপাদনের জন্য আদৌ উপযুক্ত নয়। রয়েছে লবণ-পানির অপ্রাপ্ততা।তারপরও প্রতি বছর এখানে এক লাখ চিংড়ি পিএল উৎপাদন বাধ্যতামূলক করে ৮০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। সূত্রটির দাবি, সম্ভাব্যতা যাচাই না করেই হ্যাচারি স্থাপন করায় ঠিকাদার এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা আর্থিকভাবে লাভবান হলেও এটি মৎস্য চাষীদের কোনো কাজে আসেনি।

 

এ অবস্থায় প্রকল্প সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীকে খুশি রাখতে চালু দেখাতে হচ্ছে হ্যাচারিটি। শুধু তাই নয়, পিএল উৎপাদনের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের সঙ্গে প্রতি বছর অন্য খাতের ২০ হাজার টাকা যোগ করে সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে স্থানীয় চিংড়ি চাষীদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে।এ বিষয়ে মাগুরা মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারের ব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে কথা হলে পিএল উৎপাদনের বিপরীতে দুই লাখ ১০০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা করার কথা স্বীকার করেন।

 

তবে চালু না হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে কাজটি সম্ভব তার সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি। তিনি বলেন, নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ, ট্যাঙ্ক ও পাম্প সংযুক্ত না হলেও পুরনো পাম্প দিয়েই উৎপাদনের চেষ্টা চালানো হয়েছিল। কিন্তু পানিতে আয়রনের মাত্রা বেশি থাকায় সেটিও সম্ভব হয়নি। এ প্রকল্পের একোয়া কালচার ইঞ্জিনিয়ার (খুলনা) আবদুল মান্নান বলেন, প্রকল্পের ডিজাইনে বিদ্যুৎ, ট্যাঙ্ক কিংবা পাম্পের কথা উল্লেখ নেই।

 

তবে মাগুরা লবণাক্ত এলাকা না হওয়ায় সেখানে পানির অপ্রাপ্ততার কারণে সেটি চালু করা যায়নি। মাগুরা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এসএম আশিকুর রহমান বলেন, অবকাঠামোগত অসম্পূর্ণতার পাশাপাশি জনবল সংকটও প্রকট। যে কারণে খামারের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

July 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031