বরিশালের সম্প্রীতি সমাবেশ এবং মানবিক জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার

প্রকাশিত: ৭:৫৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২২

বরিশালের সম্প্রীতি সমাবেশ এবং মানবিক জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার
Spread the love

৫৩ Views

প্রতিনিধি/বরিশালঃঃ

বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ হচ্ছে এই বরিশাল। ইতিহাসের পাতায় যা স্বর্ণাক্ষরে উল্লেখ রয়েছে। দেশভাগের পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের অনেক স্থানে হিন্দু মুসলিম দাঙ্গার উল্লেখ পাওয়া গেলেও বরিশালে কখনোই সম্প্রীতি নষ্ট হয়নি। যা নিয়ে মহাত্মা গান্ধী ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও গর্বিত ছিলেন। ঐ সময় দাঙ্গা ঠেকাতে তারা বরিশালে এসে সমাবেশ করেছেন। এভাবেই ইতিহাসের উদাহরণ তুলে ধরে নিজের বক্তব্য শুরু করেন বরিশালের জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার। শারদীয় দূর্গা উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরের মতো এবারো বরিশাল উপজেলা পরিষদ আয়োজিত “সম্প্রীতি সমাবেশ” এ প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তিনি।

 

 

 

 

তিনি বলেন, বরিশালে রয়েছে হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রিস্টান, সকলের মাঝে আন্তরিকতার সেতুবন্ধন। এই সেতুবন্ধন সবসময় অটুট থাকবে এটাই প্রত্যাশা করেন জেলা প্রশাসক। ১৭ সেপ্টেম্বর শনিবার সকাল ১১ টায় বরিশাল সদর উপজেলা প্রশাসন চত্বরে আয়োজিত এই সামাজিক সম্প্রীতির সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরিশাল সদর মনিরুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরিশাল সদর তারিকুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান বরিশাল সদর উপজেলা এ্যাডভোকেট মোঃ মাহবুবুর রহমান মধু, যুগ্ম আহবায়ক বরিশাল মহানগর যুবলীগ মাহমুদুল হক খান মামুন।

 

 

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ খ্রিস্টানদের প্রতিনিধি, বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সুধী জন এতে উপস্থিত ছিলেন। শুরুতে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় অতিথিরা বাংলাদেশের সম্প্রীতির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরে আলোচনা করেন। এসময় অনেকেই বরিশালের মানবিক জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দারের ভূয়সী প্রশংসা করে বক্তব্য রাখেন। বরিশালের জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার বরিশালে এসেছেন সবমিলিয়ে এক বছর আট মাস। এতোটা অল্পসময়ের মধ্যেই নিজেকে তিনি বরিশালবাসীদের একজন করে তুলেছেন। মনে হয় যেন এই বরিশালই তারও বাড়িঘর। যদিও জন্মেছেন তিনি নোয়াখালী শহরের সম্ভ্রান্ত এক শিক্ষক পরিবারে।

 

 

 

 

 

বরিশালের মাটি ও মানুষের মাঝে পা দিয়েই জড়িয়ে গেছেন অফুরন্ত ভালোবাসায়। বরিশালের প্রায় প্রতিটি মানুষকে তিনি আপন করে নিয়েছেন। কোনো সমস্যা নিয়ে তার কাছে এসে খালি হাতে ফিরেছেন এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। বিশেষ করে হতদরিদ্র, ভিক্ষুক ও গৃহহীন মানুষের জন্য তিনি আস্থা বা নির্ভরতার প্রতীক। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে সার্বক্ষনিক অনলাইন বা ফোন মেসেজে যেকেউ সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন তার সাথে। জানাতে পারেন ব্যক্তিগত অভাব অনুযোগের কথা। গোপনে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন তিনিও।

 

 

 

তার গোপনীয় বিভাগের সাবেক সহকারী ও বর্তমান বাবুগঞ্জের ভূমি কর্মকর্তা সুব্রত বিশ্বাস ব্যক্তিগত আলোচনা করার এক ফাঁকে বলেছিলেন, মানুষটির বাবা অসুস্থ। ঢাকায় গেছেন বাবার চোখের চিকিৎসার জন্য। অথচ দেনায় ডুবে আছেন এই মূহুর্তে তিনি। গত দুই মাসের বেতনও দান করে দিয়েছেন বরিশালের অসহায় মানুষের জন্য। ঐ সময় প্রথম বরিশালের আজকের পরিবর্তন পত্রিকার শিরোনাম হয়েছিল – মানবিক জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার এগিয়ে এলেন নুরুর চিকিৎসার খরচ নিয়ে। সেই থেকে বরিশালের প্রায় সব পত্রিকা তাকে মানবিক জেলা প্রশাসক উপাধীতে ভূষিত করেছে। বরিশাল শহরকে বাণিজ্যিক নগরী হিসেবে গড়ার স্বপ্ন নিয়ে অসংখ্যবার তিনি উদ্যোক্তাদের প্রতি এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

 

 

 

 

 

রেলপথ তৈরির সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে বাস্তবায়নের স্বপ্ন দেখছেন এখন। তিনি জানান, ভাঙা (ফরিদপুর) থেকে বরিশাল হয়ে পায়রা বন্দর পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (প্রথম সংশোধন)’ প্রকল্পটি রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। কিছু শর্তসাপেক্ষে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগ প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি করেছে এবং প্রকল্পটি আবশ্যিকভাবে জুন ২০২২ এর মধ্যে সমাপ্ত করতে হবে। আমরা সে লক্ষ্যে দ্রুত কাজ এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছি। ‘ অন্যদিকে বরিশাল বিসিকের আয়তন বাড়িয়ে জসীম উদ্দীন হায়দার অপেক্ষায় আছেন ক্ষুদ্র শিল্প উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার জন্য। কীর্তনখোলা নদীর নীচ দিয়ে ট্যানেল, ভোলার গ্যাস, নিজস্ব বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন, রূপাতলী থেকে নথুল্লাবাদ ফ্লাইওভার তৈরি, নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ড সরিয়ে যানজট নিরসনের স্বপ্ন দেখা মানুষটিও হয়তো প্রমোশন পেয়ে কিম্বা কোনো চাপে পরে একদিন চলে যাবেন বরিশাল ছেড়ে। থেকে যাবে শুধুই স্মৃতি।

 

 

 

অবশ্য তিনিও বলেন, আমার কাজের মধ্য দিয়েই আমি মানুষের মাঝে বেঁচে থাকতে চাই। দোয়া করবেন, যতদিন বাঁচবো ততদিন যেন মানুষের জন্য কাজ করে যেতে পারি। আর এ কাজ করতে যেয়ে কারো কারো চোখে শত্রু হয়ে উঠেছেন জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার। ইতিমধ্যেই তাকে সরানোর গভীর ষড়যন্ত্র চলছে আশেপাশে। তাকে পছন্দ করেন এমন একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পত্রিকার সম্পাদক জানালেন, ভালো ও বরিশালের জন্য ভাবেন এমন প্রশাসককে বেশিদিন থাকতে দেবেনা এখানকার রাজনৈতিক ব্যবসায়ীরা। চারপাশে কানাঘুষো চলছে, বর্তমান জেলা প্রশাসকও হয়তো চলে যাবেন আমাদের ছেড়ে।

 

 

 

বরিশালের মানুষকে ছেড়ে। আরেকজন সাংবাদিক জানালেন, বিষয়টি শুধু কষ্টের নয় চরম হতাশারও। কারণ, এর পিছনে রয়েছে রাজনৈতিক অপশক্তির দৌরাত্ম্য। বরিশালের ভালো না চাওয়া মানুষগুলোর মধ্যে একতা আছে। ওরা আর যাইহোক সাধারণ মানুষের ভালো করবে এমন কাউকেই বরিশালে থাকতে দেবেনা। যেমনটি দেয়নি এর আগের জেলা প্রশাসক গাজী সাইফুজ্জামানকেও। তিনি আরো বলেন, শয়তানদের মধ্যে একতা থাকে। একতা নেই শুধু সাধারণ মানুষের মধ্যে। অত্যন্ত কৌশলে সাধারণ মানুষের একতাও লুটে নিয়ে গেছে ওরা বিভিন্ন সুবিধাজনক প্রলোভন দেখিয়ে। ২০২১ সালের ৩ জানুয়ারী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক জসীম উদ্দীন হায়দার বরিশালের জেলা প্রশাসক দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক দায়িত্বে ছিলেন দীর্ঘ সময়। যেখানেই তিনি গেছেন, সেখানেই ঘটেছে উন্নয়ন, ঘটেছে বদলের চিত্র। গত একবছরে বরিশালের আশেপাশে অনেক বদলের ছোঁয়া লেগেছে তার হাতের স্পর্শে। সড়ক সেতু ও কালভার্টে সংখ্যা যেমন বেড়েছে বিভিন্ন ইউনিয়নে।

 

 

পাশাপাশি শহরের ভিক্ষুক সংখ্যাও কমেছে অনেক। প্রতি সোম ও বুধবার গণশুনানির আয়োজন করে দরিদ্র অসহায় মানুষের সমস্যা শোনা ও সমাধানের উপায় তৈরি করে দিয়ে মানবিক জেলা প্রশাসক উপাধী পেয়েছেন সাংবাদিকদের কাছ থেকে। আর সাধারণ মানুষও একবাক্যে মেনে নিয়ে জসীম উদ্দীন হায়দারকে মানবিক জেলা প্রশাসক বলেই ডাকেন সবাই। তিনি এতোটাই উদারমনা যে, পত্রিকাগুলো নিয়মিত তার নামের ভুল বানান ছাপলেও এ নিয়ে কোনো মন্তব্য কখনোই করেননি। জসিম উদ্দিন বা জসীম উদ্দীন কোনটি হবে প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এটা হতেই পারে, বাংলা একাডেমি ঈ-কার তুলে দিয়েছে – সেই হিসেবে ঠিক আছে। আবার যার পুরাতন বানান বিধির অনুসরণ করেন তারা ঈ-কার ব্যবহার করছেন। আসলে নামের বিকৃতি না ঘটলেই হলো। জসীম উদ্দীন হায়দারের আরেকটি অবশ্যই অনুকরণীয় গুণাবলী হচ্ছে তার বাবা-মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রকাশ। বড়দের প্রতি সম্মান জানাতে কখনোই দ্বিধান্বিত হতে দেখা যায়নি গত একছরে একটি বারের জন্য। আর বীর মুক্তিযোদ্ধা শব্দ কানে যেতেই সটান দাঁড়িয়ে সম্মান জানাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি নিজেই।

 

 

 

আর বলেন- “আপনি কেন কষ্ট করে এলেন, আমাকে সংবাদ জানালে আমিই চলে যেতাম আপনার কাছে। ” ভালো কোনো সাংস্কৃতিক আয়োজন মানেই সেখানে বাবা-মাকে সাথে নিয়ে উপস্থিত আছেন বরিশালের জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার। তার বাবা মোহাম্মাদ আলী হায়দার একজন আদর্শ শিক্ষক ছিলেন কর্মজীবনে। তাই বাবার আদর্শের অনুসরণে পথচলায় নৈতিকতাকে গুরুত্ব দেন সবচেয়ে বেশি। পড়তে ভালোবাসেন। অবসর পেলেই এখনো নিয়মিত গল্প উপন্যাস, ইতিহাস-দর্শন হাতের কাছে যে বই পান পড়তে শুরু করে দেন বলে জানালেন তার বাবা মোহাম্মদ আলী হায়দার। মা ফিরোজা হায়দারও একজন শিক্ষক ছিলেন। তার সহধর্মিণীও তাবাসসুম বিনতে ইসলাম, চীফ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে বাংলাদেশ রেলওয়েতে কর্মরত আছেন। বিসিএস এর ২২ তম ব্যাচের এই কর্মকর্তার কাছে আনত শ্রদ্ধা আমাদের সাহিত্য বাজার পত্রিকার পক্ষ থেকে।


Spread the love

Follow us

আর্কাইভ

October 2022
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31