যুক্তরাজ্যে স্থায়ী হতে মানতে হবে অভিবাসীদের নতুন যে নিয়ম

প্রকাশিত: ৩:১৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৯, ২০২৫

যুক্তরাজ্যে স্থায়ী হতে মানতে হবে অভিবাসীদের নতুন যে নিয়ম

আন্তজাতিক ডেস্ক ::

স্থায়ীভাবে বসবাসের অধিকার পাওয়ার জন্য অভিবাসীদের জন্য নতুন নিয়ম চালু করেছে যুক্তরাজ্য। লেবার পার্টির সম্মেলনে এক বক্তব্যে এই তথ্য জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাসের অধিকার পাওয়ার জন্য অভিবাসীদের সমাজে অবদান রাখার প্রমাণ দিতে হবে। এ সময় অভিবাসীদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে হলে আরও কিছু শর্তপূরণের কথাও জানান শাবানা।

 

 

সোমবার লেবার পার্টির সম্মেলনে এইসব তথ্য তুলে ধরেন তিনি। তিনি জানান, ‘দেশটির রাজনীতিতে অভিবাসন এই মুহূর্তে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। উগ্র ডানপন্থী ও অভিবাসনবিরোধীদের উত্থান দেখা যাচ্ছে দেশটিতে। এমনকি নাইজেল ফারাজের ডানপন্থী রিফর্ম ইউকে দলের জনপ্রিয়তাও বেড়ে চলেছে।’

 

 

সম্প্রতি দলটি বলেছে, তারা ক্ষমতায় এলে স্থায়ী বসবাসের অনুমতির প্রথা বাতিল করবে। তার বিপরীতে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি এমন উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। তারা বলছে, এর মধ্য দিয়ে রিফর্ম ইউকে এবং লেবার পার্টির মধ্যে পার্থক্য গড়ে দেওয়া হয়েছে।

 

 

ব্রিটিশ সরকার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষিত এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো নিট মাইগ্রেশন কমিয়ে আনা, সমাজে অভিবাসীদের কার্যকর অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা এবং সরকারি পরিষেবার ওপর চাপ কমিয়ে আনা।

 

 

প্রস্তাবিত এই মডেল অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পেতে হলে অন্তত ১০ বছর আইনগতভাবে যুক্তরাজ্যে বসবাস করতে হবে। বর্তমানে এই সময়সীমা মাত্র পাঁচ বছর। আয়ের সীমা এবং সমাজে অন্তর্ভুক্তির নির্দিষ্ট মানদণ্ড পূরণের ভিত্তিতে এই সময়সীমা কমানো হতে পারে।

 

 

যারা নিয়ম ভঙ্গ করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা আরও বাড়ানো হবে অথবা আবেদন সরাসরি বাতিল করা হতে পারে। স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার জন্য প্রস্তাবিত শর্তগুলো হলো, কাজে নিযুক্ত থাকা, ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সে নির্দিষ্ট পরিমাণে অবদান রাখা, সরকারি ভাতা গ্রহণ না করা, উচ্চমানের ইংরেজি ভাষা শেখা, অপরাধের কোনো রেকর্ড না থাকা এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ে স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে যুক্ত থাকা।

 

 

পরিকল্পনাটি চলতি বছরের শেষ নাগাদ জনমতের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। তখন সাধারণ মানুষ এ প্রসঙ্গে নিজেদের মতামত দিতে পারবেন। শাবানা মাহমুদ তার বক্তব্যে বলেন, শুধু পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে জয়লাভ করাই চ্যালেঞ্জ নয়, বরং দেশকে ঐক্যবদ্ধ রেখে বৃহত্তর ব্রিটেন গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।

 

 

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়া অভিবাসীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং যুক্তরাজ্যে অভিবাসন পরিস্থিতিই ছিল তার বক্তব্যের প্রধান বিষয়। সীমান্ত সুরক্ষিত করার জন্য যা কিছু করা দরকার তা করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি। ইনফোমাইগ্রেন্টস।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

October 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031