সিলেট ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৬:০৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের বক্তব্য ঘিরে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক। শুক্রবার নিউইয়র্কে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে শরিফের বক্তব্যের এক দিন পর শনিবার ‘রাইট টু রিপ্লাই’ ব্যবহার করে জবাব দেয় নয়াদিল্লি।
এ সময় পাকিস্তান দিনে নিরাপত্তা রক্ষার কথা বলে রাতে সন্ত্রাসবাদে মদদ দেয় বলে তীব্র সমালোচনা করে ভারত। ভারতীয় বার্তাসংস্থা এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
ভারতের কূটনীতিক পেটাল গেহলট শরিফের বক্তব্যকে ‘অদ্ভুত’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি ৯/১১ হামলার মূলহোতা ওসামা বিন লাদেন পাকিস্তানে অবস্থান করছিলেন বলে উল্লেখ করে দেশটির সন্ত্রাসবাদবিরোধী অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
গেহলট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ৯/১১ হামলার বার্ষিকী পালন করেছে। ওই হামলার মূলহোতা পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ একাডেমির কাছেই বসবাস করছিলেন।
পাকিস্তান ‘দিনে নিরাপত্তা রক্ষার কথা বলে এবং রাতে সন্ত্রাসবাদে মদদ দেয়’ বলেও অভিযোগ করেন ভারতের এই প্রতিনিধি। তিনি সতর্ক করে বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার ভারত প্রয়োগ করবে এবং পাকিস্তান থেকে সন্ত্রাসবাদ অব্যাহত থাকলে এর পরিণতি হবে।
শাহবাজ শরিফ তার প্রায় ২৩ মিনিটের বক্তব্যে ২০২৫ সালের ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তার ভাষায় ‘সময়োপযোগী হস্তক্ষেপের’ জন্য কৃতিত্ব দেন। কাশ্মীর ইস্যুও জাতিসংঘের মঞ্চে তুলে ধরেন তিনি।
তবে ভারত বরাবরই ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে তৃতীয় কোনো পক্ষের হস্তক্ষেপের দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে। ট্রাম্পও চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে দাবি করেছেন, তিনি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে ভূমিকা রেখেছিলেন।
ভারতীয় প্রতিনিধি বলেন, গত বছর সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ভারত দেখিয়েছে যে তাদের পালানোর বা লুকানোর কোনো জায়গা থাকবে না। তিনি জাতিসংঘকে পাকিস্তান ও দেশটির নীতিকে ‘তাদের প্রতিনিধিরা যেভাবে উপস্থাপন করে সেভাবে নয়, বরং প্রকৃত অবস্থার ভিত্তিতে’ দেখার আহ্বান জানান।
কাশ্মীর প্রসঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৫ সালের মতো আবারও দক্ষিণ এশিয়া যাতে বড় সংঘাতের দ্বারপ্রান্তে না পৌঁছায়, সে জন্য কাশ্মীর সমস্যার একটি ন্যায়সংগত ও গ্রহণযোগ্য সমাধান প্রয়োজন।
এর জবাবে গেহলট জম্মু ও কাশ্মীরকে ভারতের ‘অবিচ্ছেদ্য অংশ’ বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ওই অঞ্চলের বাসিন্দাদের কাছ থেকেই সেখানকার পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে হবে।
পাকিস্তানের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিয়ে বক্তব্যেরও সমালোচনা করে ভারত। গেহলট অভিযোগ করেন, পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর প্রভাবই রাজনৈতিক ব্যবস্থায় প্রধান এবং সরকার পরিবর্তন হলেও দেশটির সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করে।
ধর্মীয় সহনশীলতা নিয়েও শরিফের বক্তব্যের সমালোচনা করেছে ভারত। গেহলট পাকিস্তানের ধর্ম অবমাননা আইন এবং দেশটির সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।
এ ছাড়া শাহবাজ শরিফ তার বক্তব্যে সিন্ধু পানি চুক্তির বিষয়টিও তুলে ধরেন। ভারত এর আগে জানিয়েছে, পাকিস্তান আন্তঃসীমান্তসহ সব ধরনের সন্ত্রাসবাদে সমর্থন বিশ্বাসযোগ্য ও স্থায়ীভাবে বন্ধ না করা পর্যন্ত চুক্তিটি স্থগিত রাখবে।