সিলেট ১লা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৭:০১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::
জাপানে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা পার্মানেন্ট রেসিডেন্সির জন্য বিদেশিদের আবেদন ফি ২০ গুণ বাড়িয়েছে দেশটির সরকার। স্থানীয় সময় বুধবার থেকে নতুন ফি কার্যকর হয়েছে।
নতুন নিয়মে এ ফি ১০ হাজার ইয়েন থেকে বেড়ে ২ লাখ ইয়েন হয়েছে, যা প্রায় ১ হাজার ২৭০ মার্কিন ডলারের সমান। বার্তাসংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানান হয়।
এর আগে ফি বাড়ানোর আগে আবেদন করতে বিপুল সংখ্যক মানুষ দেশটির অভিবাসন কার্যালয়গুলোতে ভিড় করেন। টোকিওর প্রধান অভিবাসন কার্যালয়ে অপেক্ষার সময় সাত ঘণ্টারও বেশি হয়েছিল বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
স্থায়ী বসবাসের ফি বাড়ানোর পাশাপাশি আবেদনকারীদের জন্য আয়, পেনশন ও জাপানি ভাষাজ্ঞানসংক্রান্ত নতুন শর্তও যুক্ত করা হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারীদের জাপানের গড় আয়ের সমান বা তার বেশি স্থিতিশীল আয় থাকতে হবে। গত জুলাইয়ে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশটির গড় পারিবারিক আয় ছিল ৫৭ লাখ ৫০ হাজার ইয়েন।
আগামী বছরের এপ্রিল থেকে স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারীদের জন্য জাপানি ভাষার মৌলিক দক্ষতার শর্তও কার্যকর হবে। ফলে জাপানি ভাষা শেখার প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তি এবং জাপানি ভাষা দক্ষতা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
এ ছাড়া আবেদনকারীর ভবিষ্যৎ পেনশন সুবিধাও বিবেচনা করা হবে। তাদের প্রত্যাশিত পেনশন সুবিধা এমন পর্যায়ে থাকতে হবে, যা ৩০ বছর ধরে কর্মচারী পেনশন ব্যবস্থায় অবদান রাখা একজন ব্যক্তির পেনশনের সমপর্যায়ের। তবে পেনশনের সম্ভাব্য সুবিধা কম হলে আবেদনকারীর আর্থিক সম্পদের পরিমাণও বিবেচনা করা হতে পারে।
স্থায়ী বাসিন্দা নন এমন বিদেশিদের ভিসা বা আবাসনসংক্রান্ত ফিও বাড়ানো হয়েছে। আগে জাপানে অবস্থানের মেয়াদ পরিবর্তন বা বাড়ানোর প্রতিবার ৬ হাজার ইয়েন দিতে হতো। ১ অক্টোবর থেকে চাওয়া মেয়াদ অনুযায়ী এই ফি ১০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার ইয়েন পর্যন্ত হবে। তিন মাস বা তার কম মেয়াদের জন্য ফি ১০ হাজার ইয়েন এবং পাঁচ বছর বা তার বেশি মেয়াদের জন্য ৭৫ হাজার ইয়েন নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে আর্থিক সংকটে থাকা আবেদনকারী ও শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃত ব্যক্তিদের জন্য ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
জাপানে অভিবাসন নীতি বরাবরই রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল ও তুলনামূলকভাবে কঠোর। তবে দেশটির দ্রুত বয়স্ক হয়ে পড়া জনসংখ্যার কারণে শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে।
২০২৫ সালের শেষ নাগাদ জাপানে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা প্রথমবারের মতো ৪১ লাখ ২০ হাজার ছাড়িয়েছে। আগের বছরের তুলনায় এ সংখ্যা ৯ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। বিদেশি জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অভিবাসন ও সামাজিক পরিবর্তন নিয়ে দেশটির জনগণের মধ্যে উদ্বেগও বাড়ছে।
গত বছরের অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সানায়ে তাকাইচি অভিবাসন ব্যবস্থাপনার বিষয়টিকে অন্যতম অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তিনি এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা বাড়ায় কিছু মানুষ উদ্বেগ বা বৈষম্যের অনুভূতি পেতে পারেন সরকার বিষয়টি স্বীকার করে। একই সঙ্গে জাপানি নাগরিক ও বিদেশি বাসিন্দা উভয়ের নিরাপদে বসবাস নিশ্চিত করতে অভিবাসন নীতিকে আরও সুশৃঙ্খল করার কথা জানান তিনি।
তবে নতুন নিয়ম নিয়ে বিদেশি বাসিন্দাদের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন। টোকিওতে ১০ বছর ধরে বসবাস ও কাজ করা ৩৭ বছর বয়সী মিকাইয়া মাইকেলা-স্পেন্স জানান, ফি বাড়ানোর আগে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করে স্থায়ী বসবাসের আবেদন করতে পারেননি।
তিনি নতুন নিয়মের সমালোচনা করে বলেন, বিদেশিদের জাপানিদের গড় আয়ের চেয়েও বেশি আয় করতে বলা হচ্ছে এবং জাপানে কাজ করে কর দেওয়ার পাশাপাশি স্থায়ী বসবাসের জন্য উল্লেখযোগ্য বেশি ফি দিতে হচ্ছে।
জাপান সরকার অবশ্য নতুন ব্যবস্থাকে দেশটির ক্রমবর্ধমান বিদেশি জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনার বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেখছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে সব বিদেশির ভিসা ফিও পাঁচ গুণ বাড়ানো হয়েছিল গত ৫০ বছরে এটাই ছিল প্রথম বড় ধরনের ভিসা ফি বৃদ্ধি। কর্তৃপক্ষ তখন মূল্যস্ফীতি ও বিনিময় হারের ওঠানামার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার কারণ দেখিয়েছিল।
| M | T | W | T | F | S | S |
|---|---|---|---|---|---|---|
| 1 | 2 | 3 | 4 | |||
| 5 | 6 | 7 | 8 | 9 | 10 | 11 |
| 12 | 13 | 14 | 15 | 16 | 17 | 18 |
| 19 | 20 | 21 | 22 | 23 | 24 | 25 |
| 26 | 27 | 28 | 29 | 30 | 31 | |