পৈত্রিক সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ ওসমানীনগরে যুক্তরাজ্য প্রবাসীর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত: 5:15 PM, January 1, 2026

পৈত্রিক সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ ওসমানীনগরে যুক্তরাজ্য প্রবাসীর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

প্রতিনিধি / ওসমানীনগর ::

 

পৈত্রিক সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগে যুক্তরাজ্য প্রবাসী নিজ বোনের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ওসমানীনগরের উমরপুর ইউনিয়নের সৈয়দ মান্দারুকা গ্রামের সৈয়দ সোনাহর আলী মেয়ে ছুরেফুল বিবি।

 

 

 

মঙ্গলবার উপজেলার তাজপুরস্থ একটি বাসবভনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ছুরেফুল বিবির পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আব্দুল মালিক।

 

 

 

লিখিত বক্তব্যে ছুরেফুল বিবি বলেন, তাদের পিতা মৃত সৈয়দ সোনাহর আলী যুক্তরাজ্য বসবাসকালীন বড় মেয়ে ছুরেফুল ব্যাতিত সকল সন্তানদের উন্নত জীবনের প্রত্যাশায় যুক্তরাজ্য নিয়ে যান। পিতার ত্যাজ্যবিত্তে সৈয়দ আজাদ আলী ওরোফে আবাদ আলী, সৈয়দ হায়দর আলী, ছুরেফুল বিবি, ছুরেতুন বিবিও সাজনা বেগম উত্তরাধীকারী। পিতার সম্পত্তি দেখাশোনা করতে ছুরেফুল বিবিকে বিয়ে দিয়ে স্বামীসহ নিজ বাড়িতে রেখে যান সোনাহর আলী। বাড়িতে জরাজির্ণ ঘর থাকায় সৈয়দ সোনাহর আলীর মৃত্যুর পর স্ত্রী গেদা বিবি দেশে এসে ছুরেফুলের পরিবারের জন্য বসত ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেন। বাড়ির মূল্যবান গাছ বিক্রির ১৪ লক্ষ টাকা, যুক্তরাজ্যে গেদা বিবির অসুস্তা ও পেনশনের জনিত প্রাপ্ত অর্থসহ প্রবাসী সাজনা বেগমের প্রেরিত অর্থ একত্রিত করে ঘর নির্মান হলেও ওই ঘরে আর ঠাঁই হয়নি ছুরেফুলের পরিবারের। স্বামী সন্তানদের ঘাম ঝড়ানো কস্টে নির্মান কাজ শেষ হলে ঘরের সুন্দর্য্যে মুগ্ধ হয়ে কু-নজর পরে তার বোন ছুরেতুনের।

 

 

 

অন্যদিকে, ২০১৬সালে তাদের মা দেশে আসলে শারীরিক অসুস্থ হলে ২০জানুয়ারী উনাকে সিলেটে একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কৌশলে হাসপাতাল থেকে নিজের বাসায় এনে অসুস্থ থাকাস্থায় মায়ের প্রাপ্ত সকল সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নেন বোন ছুরেতুন। হাসপাতালে নেয়ার কথা বলে ০২ ফেব্রুয়ারী ছুরেতুন কৌশলে তাজপুর সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে হেবা দলিলের মাধ্যমে ১৪৪. ৩৫ শতাংশ ভূমি নিজ নামে লিখে নেয়ার অভিযোগ করে নির্মানকৃত বাড়িটিও ছুরতুনের দখলে রয়েছে বলে উল্যেখ করেন তিনি।

 

 

 

পৈত্রিক ভূ-সম্পত্তি সমান বাটোয়ারার প্রত্যাশা করে তিনি বলেন, পৈত্রিক সম্পতি একাই দখলে নিতে মরিয়া ছুরেতুন। যুক্তরাজ্য প্রবাসী হওয়ায় অর্থের বিনিময়ে হামলা, সাজানো মামালা দিয়ে তাদের হয়রানী করছেন। মান্দারুকা মৌজার জেল নং-০৭ খতিয়ান-৫০৬ বিএস-৬৮৬ নামজারি খতিয়ান ৫৭৯এস এ দাগ নং ৬৭৪ বি এস ৯৭০ দাগের ২৫ শতাংশ ও এস.এ দাগ ৬৭৫ বিএস ৯৭১ দাগের ৩৮ শতাংশ ভূমি ১৯৯৩সালে সৈয়দ সুনাহর আলী ক্রয় করেন।

 

 

 

১৮৬১ নং সাব কাবলা দলিল মূলে ক্রয় সূত্রে মালিক হয়ে ভোগ দখল থাকা অবস্তায় মৃত্যুবরণ করলে পৈত্রিক বাটোয়ারা মূল্যে প্রাপ্য আজাদ ওরোফে আবাদ আলী উল্লেখিত ভূমি বিক্রির উদ্যোগ নিলে ১৯৯৯সালের ১৪ জানুয়ারী ১১১নং সাব কাবলা দলিলে ওই ভূমি ক্রয় করেন ছুরেফুল। বৈধ ভাবে ভূমি ক্রয়ের মাধ্যমে নামজারি করলে পৈত্রিক ভূমি দাবি করে নামজারি বাতিলের আবেদন করেন ছুরেতুন। ছুরেতুন এবং হায়দর আলীর ভূমি দাবি করে নামজারি বাতিল চেয়ে আবেদন করতে ছুরেতুনের কেয়ারটেকায় নুরুল হোসেন অন্যব্যক্তিকে হায়দর আলী সাজিয়ে আমমোক্তার নামা গ্রহন করেন।

 

 

 

২০১৬ সালে আমমোক্তার নামা সম্পাদন করা হলেও তৎকালিন সময়ে হায়দর আলী দেশে ছিলেন না। জাল আমমোক্তার নামা গ্রহনের বিষয়ে মামলা দায়ের করলে গত ১৩ ডিসেম্বর আদালতের ওয়ান্টে থাকায় পুলিশ ছুরেতুনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তিনি জামিনে মুক্তিপান। ক্রয়করা সম্পত্তিতে বিপত্তির বিষয় তুলে ছুরেফুল বলেন, তার ভাই সৈয়দ আজাদ আলী বাটোরা মূলে ভূমি বিক্রি করলে নামজারিসহ ভোগ দখল করে আসছেন একাধিক ব্যাক্তি। কিন্তু তিনি বৈধ ভাবে ক্রয় করলেও হয়রানীর উদ্দেশ্যে নানা কুট-চাল দিচ্ছেন বোন ছুরেতুন। আত্মীয়-স্বজনসহ শালীশ ব্যক্তিত্বরা একাধিক বার এলাকায় ও যুক্তরাজ্যে শালীশ বৈঠক করলেও সমাধানে ব্যর্থ হন। ২০০৩ সালে মারা যাওয়া সৈয়দ আজাদ আলীর দুই মেয়ে থাকলেও উত্তরাধীকার মূলে এই ভূমি দাবি না করলেও ছুরেতুনের এমন কর্মকান্ড হতাশ তারা।

 

 

 

সাজানো মামলা ও প্রতারণা বিষয়ে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ছুরেতুনের বাড়ির তৎকালীন কেয়ারটেকার রাসেল, নুরুল ও শুকুর অব্যাহত মিথ্যা ঘটনা রটিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। হয়রানীর উদ্দেশ্যে দেশের বিভিন্ন থানায় সাজানো মালায় অভিযুক্ত করছেন। ইতিমধ্যে রাজধানীর রমনা এলাকার সিদ্ধেশ^রী পুলিশ ফাঁড়িতে ছুরেফুলের মেয়েসহ ৫জনের নাম সন্দেহজন মামলার তালিকায় অন্তরভূক্ত হয়।

 

 

 

গত২ সেপ্টেম্বর ওসমানীনগর থানা পুলিশ তদন্ত করে রিপোর্ট প্রেরণ করে। যে ৫জনের নাম উল্যেখ করা হয়েছে তারা রাজধানীতে যাননি। যুক্তরাজ্য থাকা ভাই অসুস্থ হায়দর আলীকে দেশে এনে ছুরেতুন বিবি নিজের পছন্দমত বিয়ে করানো খালেদা বেগমকে বাদি বানিয়ে ছুরেফুলের পক্ষের উপর ৩টি সাজানো মামলা দায়ের করান। খালেদা বেগমের তিনটি মামলা আদালত ও ছুরেতুনের একটি মামলা থানায় নিস্পত্তি হয়।

 

 

 

একই ভাবে ২০২৩ সালের ২৮এপ্রিল ছুরেতুনের কেয়ারটেকার নূর হোসেন, রাসেল, শুকুর আলীসহ অজ্ঞাত কয়েকজন তাদের হাওরের পুকুর থেকে জুর পূর্বক মাছ, ধান, গাছ কেটে নিয়ে যায় এবং বাঁশ ঝারে আগুন দেয়।

 

 

 

এঘটনায় ৩০এপ্রিল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিলে অভিযোগ সূত্রে ১মে থানার এস.আই আবু সাইদ তদন্তের জন্য আসেন। তদন্তচলা অবস্থায় ছুরেতুনের পক্ষের সৈয়দ মুকিদ, মনির আলী, রাসেল আহমদ পুলিশের উপস্থিতিতে তাদের উপর হামলা চালায়। এসময় মেয়ে রোকসানা বেগমকে রশিদিয়ে ফাঁস দেয়োর চেষ্টা করে এবং তার মাথায় আঘাত করে।

 

 

 

পরে স্থানীয়রা ছুরেফুল ও মেয়ে রোকসানা বেগমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। ঘটনাটি ভিন্নখ্যাতে প্রভাহিত করতে ছুরেতুন পক্ষের সৈয়দ মনির আলী ছুরেফুলের ছেলে সিরাজ খাঁ, মেয়ে রোকসানা, রাহিমা ও রহিমাকে অভিযুক্ত করে থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ গ্রহন করেনি। এই ঘটনায় সিলেট আমল গ্রহনকারী ১নং আদালতে ৭মে হামলাকারীদের অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেন ছুরেফুল বিবি। মামলাটি তদন্তাধীন। এই মামলা তুলে নিতে ছুরেতুন ও তার পক্ষের লোকজন নানা হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। জায়গা সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্রে হয়রানী থেকে মুক্তি চয়ে তিনি বলেন, তাদের অব্যাহত হুমকিতে আমরা নিরাপত্তাহীনায় ভোগে বাড়িতে সিসি ক্যামেরা লাগাই।

 

 

২০২২ সালে ২২ডিসেম্বর রাতে নুর হোসেনসহ কয়েকজন সংঙ্ঘবন্ধ হয়ে ছুরেফুলের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ঘরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ দলিল ছিনতাই করে। সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়লে তারা সিসি ক্যামেরাও ছিনতাই করে। এসময় ধাররো অস্ত্রের আঘাতে রোকসানা বেগম আহত হন। ৯৯৯এ কল দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তারা পালিয়ে যায়।

 

 

 

পুনরায় ৯ডিসেম্বর ২০২৩সালে ছুরেতুন যুক্তরাজ্য থাকা অবস্থায় একআ কায়দায় বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা সংঘঠিত করান। ঘরের লোহার গ্রিল কটে ছুরেতুন বাহীনি ঘরে প্রবেশের চেষ্টা করে। সিসি ক্যামেরায় এর ভিডিও রক্ষিত রয়েছে। ঘটনাটি থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ডাকাতির সরঞ্জামাদি উদ্ধার করে।

 

 

 

এর আগে, ২০২০সালের ৮জুন বাড়িতে থাকা গাছ জোরর্পূবক কেটে নেয় ছুরেতনের লোকজন। ঘটনাটি ভিডিও চিত্র ধারণে গেলে ছেলে সিারজ খাঁর উপরও হামলার অভিযোগ করেন তিনি। বিগত ৭ বছর থেকে ঐবাড়ির গাছ, হাওরের পুকুরের মাছ, জমির ধান ও সবজি, গাছের ফল, সুপারিও জুরপূর্বক নিয়ে যায় ছুরতুন পক্ষের লোকজন। সংবাদ সম্মেলনে ছুরেফুল বিবি নিজের ক্রয়কৃত ভূমি ও পিতার রেখে যাওয়া বিশাল ভূ-সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনের হস্থক্ষেপ কমনা করেন।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

October 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031