ইরান নিয়ে একাট্টা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল, কী হতে যাচ্ছে সামনে

প্রকাশিত: ৮:৩৭ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৬, ২০২৬

ইরান নিয়ে একাট্টা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল, কী হতে যাচ্ছে সামনে

আন্তজাতিক ডেস্ক ::

 

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ইরান যেন তার পারমাণবিক কর্মসূচি নতুন করে গড়ে তুলতে না পারে এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বাড়াতে না পারে—এটাই তার সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি ইসরায়েলের ওপর হামলা চালায়, তাহলে তেহরানকে গুরুতর পরিণতি ভোগ করতে হবে।

 

 

সোমবার (৫ জানুয়ারি) ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে দেওয়া এক বিশেষ ভাষণে নেতানিয়াহু জানান, ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরায়েলের অবস্থান স্পষ্ট ও দৃঢ়। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে কিছু অ-আলোচনাযোগ্য রেড লাইন রয়েছে। এর মধ্যে আছে—ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধে বাধ্য করা, সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশটির বাইরে সরিয়ে নেওয়া এবং পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর কঠোর ও নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করা।

 

 

নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরুজ্জীবিত হওয়া এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্প আবার শক্তিশালী হয়ে ওঠা ঠেকানোই এই নীতির লক্ষ্য । তিনি জানান, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠকেও এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। বৈঠকে দুই পক্ষই ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়।

 

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, ইরান মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন সফরের আগে ইরানের সাম্প্রতিক সামরিক মহড়া এ ধরনের কর্মকাণ্ডেরই ইঙ্গিত দেয়। নেতানিয়াহু আবারও বলেন, ইসরায়েলের ওপর হামলা হলে দেশটি শক্ত প্রতিক্রিয়া জানাবে।

এদিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ চলমান বিক্ষোভ প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু বলেন, স্বাধীনতা ও ন্যায়ের দাবিতে আন্দোলনরত ইরানি জনগণের পাশে রয়েছে ইসরায়েল। তার মতে, বর্তমান সময়টা ইরানি জনগণের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হতে পারে।

 

অন্যদিকে, বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানের এক কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়েছে, তেহরানে আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক পররাষ্ট্রনীতির পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে ইরান।

 

 

উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারে ইরানি মুদ্রা রিয়ালের বড় ধরনের দরপতন ও খারাপ অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে তা দেশের ২৬টি প্রদেশের ৭৮টি শহরের অন্তত ২২২টি স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। এসব বিক্ষোভে মূলত অর্থনৈতিক দাবি উঠে আসে। মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, বিক্ষোভ চলাকালে অন্তত ২২ জন নিহত, ৫১ জন আহত এবং ৯৯০ জনকে আটক করা হয়েছে।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

September 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930