সিলেট ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২:৩৫ অপরাহ্ণ, মার্চ ২, ২০২৬
আন্তজাতিক ডেস্ক ::
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ঘনিষ্ঠ গোয়েন্দা সমন্বয় ছিল বলে একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর বরাতে বলা হয়েছে, মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ) কয়েক মাস ধরে খামেনির গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছিল।
প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়, সিআইএ খামেনির অবস্থান ও চলাফেরার ধরন সম্পর্কে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ করে। সর্বশেষ তারা জানতে পারে, শনিবার সকালে তেহরানের কেন্দ্রস্থলের একটি সরকারি কমপ্লেক্সে ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হবে এবং সেখানে খামেনিও উপস্থিত থাকবেন।
এই তথ্য দ্রুত ইসরায়েলের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ছিল ‘খুবই নির্ভুল’ ও সময়োপযোগী গোয়েন্দা তথ্য, যা হামলার কৌশল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে।
রাত থেকে দিনের আলোয় হামলা: প্রাথমিকভাবে ইসরায়েলের পরিকল্পনা ছিল রাতের অন্ধকারে হামলা চালানো। তবে সকালে বৈঠকের খবর পাওয়ার পর হামলার সময় পরিবর্তন করা হয়। ইসরায়েল সময় ভোর ৬টার দিকে যুদ্ধবিমানগুলো উড্ডয়ন করে এবং প্রায় দুই ঘণ্টা পাঁচ মিনিট পর তেহরান সময় সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, খামেনির কমপাউন্ডে প্রায় ৩০টি বোমা নিক্ষেপ করা হয়, যাতে পুরো স্থাপনাটি ব্যাপকভাবে বিধ্বস্ত হয়।
লক্ষ্যবস্তু: শীর্ষ নেতৃত্ব: হামলার লক্ষ্য ছিল শুধু খামেনি নন, বরং ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি (ইরনা) নিশ্চিত করেছে, ওই হামলায় সামরিক পরিষদের প্রধান ও খামেনির নিরাপত্তা উপদেষ্টা আলী শামখানি এবং আইআরজিসি কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হয়েছেন।
প্রতিবেদনগুলোতে আরও উল্লেখ করা হয়, সম্ভাব্য উপস্থিতদের তালিকায় ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ, আইআরজিসির অ্যারোস্পেস কমান্ডার সাইয়্যেদ মাজিদ মুসাভি এবং উপগোয়েন্দামন্ত্রী মোহাম্মদ শিরাজি।
আগের নেটওয়ার্ক, নতুন অভিযান
সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানা যায়, গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার সময় যে গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হয়েছিল, সাম্প্রতিক অভিযানে একই নেটওয়ার্ক কাজে লাগানো হয়। সে সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট্র ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র জানে খামেনি কোথায় অবস্থান করছেন।
গত বছরের ১২ দিনের সংঘাতের সময় ইরানি নেতৃত্ব কীভাবে যোগাযোগ ও চলাচল করছিল, সে সম্পর্কেও যুক্তরাষ্ট্রের হাতে অতিরিক্ত তথ্য আসে। ওই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই খামেনির গতিবিধি আরও নিবিড়ভাবে অনুসরণ করা হয়।
কৌশলগত চমক ও নিরাপত্তা প্রশ্ন: ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, ইরান যুদ্ধের প্রস্তুতি নিলেও দিনের আলোয় হামলা চালিয়ে তারা ‘কৌশলগত চমক’ দিতে সক্ষম হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এত অল্প সময়ের মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে লক্ষ্য করে সফল হামলা চালানো যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল গোয়েন্দা সহযোগিতার গভীরতা তুলে ধরে। একইসঙ্গে এটি ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতির দিকটিও প্রকাশ করেছে।
হোয়াইট হাউস ও সিআইএ আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।