সিলেট ১৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১০:২৪ অপরাহ্ণ, মে ১৫, ২০২৬
লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
আজ শুক্রবার বিকেলে রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বিভাগীয় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সমাবেশের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ শঙ্কার কথা জানান।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পরিবর্তন করে অত্যন্ত দুর্বল ও বিতর্কিত একজন মানুষকে সেই সম্মানজনক জায়গায় বসিয়েছে সরকার। আপনারা দেখেছেন ৪২টা জেলায় তারা প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। একটা ডেমোক্রেসিক প্রসেসের মধ্য দিয়ে যখন দেশ আগাচ্ছে, এই সময় সেখানে কেন প্রশাসক নিয়োগ দিতে হবে। দলীয় লোক দেখে কেন দিতে হবে। বিভিন্ন জায়গায় নির্বাচন করে জনগণ যাদেরকে প্রত্যাখ্যান করেছে, তাদেরকেই আবার বড় বড় জায়গায় বসিয়েছে। এটা কি জনগণের সঙ্গে তামাশা নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘রংপুর এলাকার মানুষ স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরেও ন্যূনতম তাদের পাওনাটুকু সরকারের কাছে পায়নি। এরশাদ সাহেব যখন প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তখন তিনি বিশেষ ব্যবস্থা নিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার যে বেহাল দশা ছিল তার উন্নয়ন ঘটিয়েছিলেন। তার আগে বা পরের সরকারগুলো এলাকার মানুষের সঙ্গে ইনসাফ করেনি। বাংলাদেশকে যদি আমরা ইকনোমিক্যাল ডেমোগ্রাফির দিক দিয়ে আলাদা করি, সবচাইতে অনগ্রসর এলাকা কোনটি, তাহলে সেই এলাকার নাম হচ্ছে উত্তরবঙ্গ।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘ভালো কাজ করলে সরকারকে শুধু সমর্থন নয়, সহযোগিতা করব। যদি মন্দ কাজ করে, অপকর্ম করে তাহলে রুখে দাঁড়াব ইনশাআল্লাহ। ছেড়ে দেব না কাউকে। আপনারা দেখেছেন জ্বালানি নিয়ে সংকট তৈরি হয়েছিল, আমরা নোটিশ দিলে আলোচনা করার জন্য; সরকারি দল ভয় পায়। এখানে আলোচনা করতে দেবে না। আলোচনা করতে গিয়ে যদি আবার কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ বের হয়ে আসে। এই ভয়ে তারা কথা বলতে দেবে না।‘
তিনি আরও বলেন, ‘পরে সরকার বাধ্য হলো, আমাদেরকে আলোচনার সুযোগ দেওয়ার। পরে একটি অর্থবহ আলোচনা হলো। পরের দিন আমাদের প্রস্তাবের ভিত্তিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই বিষয় নিয়ে কাজ করার জন্য একটি যৌথ কমিটি চায়। সরকার দল থেকে পাঁচজনের নাম ঘোষণা করা হয়। আমরা পাঁচজনের নাম দিলাম, দুই দিনের ভেতরে পুরো বাংলাদেশের চিত্রই বদলে গেল।’
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘কেন বদলে গেলে, কেউ কেউ বলতে থাকল এটা আর্টিফিশিয়ালই করা হয়েছিল। জামায়াত তাদেরকে উস্কায় দিয়েছিল। আমি সংসদে দাঁড়িয়ে এই বিষয়ে বলেছিলাম, মাননীয় স্পিকার এটা বার্তা দিচ্ছে, ভালো কাজে যদি সরকারি দল ও বিরোধী দল মিলে কাজ করে তাহলে এ জাতির ভাগ্যের পরিবর্তন অবশ্যই ঘটবে। এটা বার্তা দিচ্ছে সরকারি দল ও বিরোধী দল মিলেমিশে কাজ করলে জনগণের মধ্যে আস্থা তৈরি হবে। এই আস্থার কারণেই তেলের সমস্যা দুইদিনের মধ্যেই মিটে গেছে। আমরা সেই আস্থার রাজনীতি চাই।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন ইতিমধ্যে বহু জায়গায় সরকারি দল উল্টাপাল্টা করে ফেলেছে। তারা গণভোটকে অগ্রাহ্য করেছে। একটা বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে জ্ঞানের চর্চা হবে, আমাদের সন্তানগুলো মানুষ হবে, সেখানে এখন দলীয় ভিসি, প্রোভিসি, প্রভোস্টসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। মনে রাখবেন কারো পরিকল্পনা ফাইনাল নয়, এটা যদি ফাইনাল হতো অতীতের সরকার সাড়ে ১৫ বছর সুন্দর করে পরিকল্পনা সাজিয়ে ছিলেন, কিন্তু দুই দিনের মাথায় সবকিছু তছনছ হয়ে গিয়েছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘রংপুরবাসী আপনাদের কাছে আমরা চির কৃতজ্ঞ, আপনাদের সন্তান সেই আন্দোলনে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল। এখন স্লোগান দিতে গেলে আবু সাঈদকে মাইনাস করে কোনো স্লোগান বাংলাদেশে দেওয়া হবে না।’
এ সময় স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কোনো আশঙ্কা আছে কি-না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আপনার দেখেছেন দুইটা উপ-নির্বাচন হয়েছে একটি শেরপুরে, একটি বগুড়ায়। সেখানকার ঘটনা আপনারা দেখেছেন। আমরা শঙ্কিত। আদৌ সুষ্ঠু নির্বাচন হবে কি-না। আমরা জনগণকে অনুরোধ করব, তারা যেন আরেকবার সচেতন হন। সকল রোগের ওষুধ হচ্ছে জনগণের মেন্ডেট। জনগণ জাগলে সব ঠিক হবে।’
সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর বলেন, ‘আমরা পদ্মা ব্যারেজের উদ্যোগকে অভিনন্দন জানাই। কিন্তু এটা তিস্তার বিনিময়ে নয়। তিস্তার জায়গায় অবশ্যই তিস্তাকে তার পাওনা দিতে হবে এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতেই হবে। এর বিন্দু পরিমাণ ব্যতিক্রম করা যাবে না।’
এর আগে সকাল ৮টায় ঢাকা থেকে বিমানযোগে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছলে ফুল দিয়ে জামায়াত আমিরকে শুভেচ্ছা জানান রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচিত এমপি ও নেতাকর্মীরা। সড়কযোগে জেলা সার্কিট হাউজে উপস্থিতির পরে সকাল সাড়ে ১০টায় রংপুর মডেল কলেজে এই দুই অঞ্চলের উপজেলা জামায়াত আমির ও সেক্রেটারিদের সমাবেশে তিনি উপস্থিত হন।
পরে সার্কিট হাউজে বিশ্রাম ও জুমার নামাজ শেষে বিকেল ৫টায় রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরে জামায়াত আমির রংপুর সার্কিট হাউজ থেকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়ে বিমানযোগে ঢাকার বাসভবনে প্রত্যাবর্তন করবেন।