সিলেট ২১শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৪:২২ অপরাহ্ণ, জুন ২১, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি পোল্যান্ডের দেওয়া সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘অর্ডার অব দ্য হোয়াইট ঈগল’ ফেরত দিয়েছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন ইতিহাস ঘিরে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হওয়ার পর তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনীয়রা বিশ্বাস করে এই সম্মান ইউক্রেনের জনগণ এবং সেনাবাহিনীর জন্যই দেওয়া হয়েছিল। তিনি আরও জানান, ‘আজ আমি এই পদক পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্টের কাছে ফেরত পাঠিয়েছি। আমি বিশ্বাস করি ভবিষ্যতে ইউক্রেনীয়দের প্রতি প্রাপ্য সম্মান স্বীকৃত হবে।’
তিনি পোস্টের সঙ্গে একটি ছবি প্রকাশ করেন, যেখানে পোল্যান্ডের রাষ্ট্রীয় পদক এবং সেটি ফেরত পাঠানোর ডাক রসিদের কপি দেখা যায়।
পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোৎসকি জেলেনস্কিকে দেওয়া এই সম্মান প্রত্যাহার করেন। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পোলিশ নাগরিকদের গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত একইউক্রেনীয় একটি প্যারামিলিটারি সংগঠনের নামে একটি সামরিক ইউনিটের নামকরণ করেছেন।’
এর আগে ২০২৩ সালে তৎকালীন পোলিশ প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেজ দুদা জেলেনস্কিকে এই সম্মান প্রদান করেছিলেন। তখন তাকে নিরাপত্তা, মানবাধিকার রক্ষা এবং প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে অবদানের জন্য এই পদকে ভূষিত করা হয়।
বিতর্কের সূত্রপাত হয় গত ২৬ মে জেলেনস্কি ইউক্রেনের স্পেশাল অপারেশনস ফোর্সের একটি ইউনিটের নাম রাখেন ইউক্রেনিয়ান ইনসারজেন্ট আর্মি (ইউপিএ)। এই সংগঠনটি ১৯৪০ ও ১৯৫০-এর দশকে সক্রিয় ছিল এবং পোল্যান্ডের মতে এটি বহু পোলিশ নাগরিক হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল।
পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট নাভরোৎসকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ১৩ মিনিটের ভাষণে বলেন, ‘পোল্যান্ডের অধিকাংশ জনগণের কাছে ইউক্রেনিয়ান ইনসারজেন্ট আর্মি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় পোলিশ নাগরিকদের বিরুদ্ধে নৃশংস অপরাধের জন্য দায়ী একটি সংগঠন।’
তিনি আরও বলেন, ইউক্রেনের এই সিদ্ধান্ত পোল্যান্ডে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও পোল্যান্ড বর্তমানে ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে কিয়েভকে শক্তিশালী সমর্থন দিয়ে আসছে।
নাভরোৎসকি দাবি করেন, এই পদক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ইউক্রেনের প্রতি পোল্যান্ডের সমর্থন কমাবে না।
জেলেনস্কি তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ইউক্রেন পোল্যান্ডের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞ এবং ঐতিহাসিক মতভেদ সমাধানে আলোচনা চালিয়ে যেতে প্রস্তুত। তিনি আরও বলেন, ‘আমি আমাদের জনগণ এবং প্রতিটি ইউক্রেনীয় যোদ্ধার প্রতি গর্বিত।’
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের প্রধান কিরিলো বুদানভ এই সিদ্ধান্তকে বন্ধুসুলভ নয় এমন পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন এবং সতর্ক করেন যে রাশিয়া এই বিভেদকে কাজে লাগাতে পারে। জানা গেছে ইউক্রেনের আরও কয়েকজন কর্মকর্তা পোল্যান্ডের দেওয়া রাষ্ট্রীয় সম্মান ফেরত দিয়েছেন।