ইসরায়েল-লেবানন চুক্তি প্রত্যাখ্যান করল হিজবুল্লাহ

প্রকাশিত: ৫:৫৯ অপরাহ্ণ, জুন ২৮, ২০২৬

ইসরায়েল-লেবানন চুক্তি প্রত্যাখ্যান করল হিজবুল্লাহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: 

 

ওয়াশিংটনে স্বাক্ষরিত ইসরায়েল-লেবানন কাঠামো চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে হিজবুল্লাহ। সংগঠনটির প্রধান নাঈম কাসেম চুক্তিটিকে অপমানজনক এবং সার্বভৌমত্বের আত্মসমর্পণ বলে আখ্যা দিয়েছেন। কাতারভিত্তিক বার্তাসংস্থা আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

শনিবার এক বিবৃতিতে কাসেম বলেন, দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের সঙ্গে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণকে যুক্ত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শুক্রবার স্বাক্ষরিত এই চুক্তির অন্যতম প্রধান বিষয় হচ্ছে হিজবুল্লাহর অস্ত্র ত্যাগ।

 

কাসেম বলেন, ‘আমরা প্রতিরোধ হিসেবে মাঠে থাকব এবং দখলদার শক্তিকে পরাজিত করার সংগ্রাম চালিয়ে যাব। কঠিন পরিস্থিতিতেও আমরা পিছু হটিনি, ভবিষ্যতেও হটব না।’

তিনি অভিযোগ করেন, লেবাননের সরকার এই চুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে ইসরায়েলি দখলদারিত্বকে বৈধতা দিয়েছে। তার ভাষায়, এই চুক্তি বিতর্কিত ভূখণ্ডগুলোকে জায়নবাদী সত্তার সঙ্গে যুক্ত করার পথ তৈরি করতে পারে।

 

এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং দেশটির অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, হিজবুল্লাহ নিরস্ত্রীকরণ করলেও বা না করলেও ইসরায়েলি সেনারা দক্ষিণ লেবাননে অবস্থান করতে পারে।

 

স্মোট্রিচ সম্প্রতি বলেন, ‘হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত আমরা সেখানে থাকব। এমনকি তার পরেও থাকতে হতে পারে, কারণ আমাদের নিরাপদ সীমান্ত প্রয়োজন।’

 

শনিবার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ জানান, তিনি এবং প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু দক্ষিণ লেবাননের তথাকথিত নিরাপত্তা অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থানের প্রস্তুতি নিতে সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন।

 

চুক্তির ভাষায় দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বাধ্যবাধকতা স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই। বরং এতে দুই দেশ একে অপরের অস্তিত্বের অধিকার স্বীকার, যুদ্ধাবস্থার অবসান, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সরাসরি আলোচনা এবং স্থায়ী যোগাযোগ ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে।

 

চুক্তি স্বাক্ষরের পর শুক্রবার রাতে বৈরুতে বিক্ষোভে নামে হিজবুল্লাহ সমর্থকেরা। তারা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে এবং বিমানবন্দরের দিকে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করে।

 

বিক্ষোভকারীরা চুক্তির পাশাপাশি দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনাদের উপস্থিতি এবং চলমান বিমান হামলার বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ জানায়।

 

লেবাননের সেনাবাহিনী শনিবার নাগরিকদের দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়ে বলেছে, তারা নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি বা সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হওয়ার মতো কোনো কর্মকাণ্ড মেনে নেবে না।

 

একই সঙ্গে দেশটির পাবলিক প্রসিকিউটর আহমাদ রামি আল হাজ্জ নিরাপত্তা বাহিনীকে দাঙ্গা ও সহিংসতা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সহিংসতায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

October 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031