মিয়ানমারের উপকূলে দুই নৌকাডুবি, ৫৩০ রোহিঙ্গা নিহতের শঙ্কা

প্রকাশিত: ৭:১৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৬, ২০২৬

মিয়ানমারের উপকূলে দুই নৌকাডুবি, ৫৩০ রোহিঙ্গা নিহতের শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::

 

বঙ্গোপসাগরে মিয়ানমারের উপকূলে পৃথক দুটি নৌকাডুবির ঘটনায় ৫৩০ জনেরও বেশি রোহিঙ্গা নিহত হয়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)। যুদ্ধবিধ্বস্ত মিয়ানমার থেকে নিরাপত্তা ও উন্নত জীবনের আশায় সমুদ্রপথে পালিয়ে যাওয়ার সময় এসব দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে সংস্থাগুলো। আজ বৃহস্পতিবার বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

আজ দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে আইওএম ও ইউএনএইচসিআর জানায়, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী জুনের শেষ দিকে প্রধানত রোহিঙ্গা যাত্রী বহনকারী দুটি নৌকা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে যাত্রা করে। যাত্রীদের মধ্যে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবির থেকে যাওয়া কয়েকজনও ছিলেন বলে জানা গেছে।

 

সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, দুটি নৌকাডুবিতে মোট ৫০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তবে ঘটনাগুলো এবং হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, যদিও ঘটনা এবং হতাহতের সংখ্যা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি, তবুও সম্ভাব্য এই ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনায় ইউএনএইচসিআর ও আইওএম গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

 

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২৫০ জন যাত্রী নিয়ে যাত্রা করা প্রথম নৌকাটি ছাড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অন্যদিকে প্রায় ২৮০ জন যাত্রী বহনকারী দ্বিতীয় নৌকাটি গত ৮ জুলাই মিয়ানমারের ইরাবতী উপকূলের কাছে ডুবে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

আইওএম ও ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, এই যাত্রাগুলো নিয়মিত নৌচলাচল মৌসুমের বাইরে সংঘটিত হয়েছে। এ সময় সমুদ্র সাধারণত বেশি উত্তাল ও বিপজ্জনক থাকে, ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

 

সহিংসতা, নির্যাতন এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই রোহিঙ্গারা মিয়ানমার ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশের জনাকীর্ণ শরণার্থী শিবিরের কঠিন জীবনযাপনও অনেককে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডের মতো দেশে উন্নত জীবিকা ও নিরাপত্তার আশায় নড়বড়ে কাঠের নৌকায় বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রায় বাধ্য করছে।

 

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা শরণার্থী নিহত বা নিখোঁজ হন। এর ফলে এই সমুদ্রপথটি শরণার্থী ও অভিবাসীদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সামুদ্রিক রুটে পরিণত হয়েছে।

 

এ বছরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। ইউএনএইচসিআর ও আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এ পর্যন্ত আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও বাংলাদেশি নাগরিকসহ প্রায় ৩০০ জন নিখোঁজ বা নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

 

রোহিঙ্গা সংকটের সূত্রপাত ২০১৭ সালে, যখন মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী রাখাইন রাজ্যে অভিযান শুরু করে। এর ফলে অন্তত ৭ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করলেও তাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না; বরং অবৈধ অভিবাসী হিসেবে বিবেচনা করে।

 

২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারের পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যায়। রাখাইন রাজ্যে সরকারি বাহিনী ও বিদ্রোহী আরাকান আর্মির মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হলে সেখানে বসবাসরত রোহিঙ্গারা দুই পক্ষের সংঘাতের মধ্যে আটকা পড়ে।

 

এর আগে গত নভেম্বরে থাইল্যান্ড–মালয়েশিয়া সীমান্তের কাছে লাংকাউই উপকূলে রোহিঙ্গাদের বহনকারী একটি নৌকা ডুবে যায়। ওই ঘটনায় প্রায় এক ডজন যাত্রী জীবিত উদ্ধার হলেও বহু মানুষ প্রাণ হারান বা নিখোঁজ হন।

Spread the love

আর্কাইভ

July 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031