সিলেট ১৮ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৩:৩১ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৭, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::
বিদেশি শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক বিনিময় (কালচারাল এক্সচেঞ্জ) কর্মসূচির অংশগ্রহণকারী এবং বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য ভিসা নীতিতে নতুন কড়াকড়ি আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) প্রকাশিত হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) চূড়ান্ত বিধিমালায় বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের এফ (F) ভিসা, সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির জে (J) ভিসা এবং বিদেশি সাংবাদিকদের আই (I) ভিসার জন্য নির্দিষ্ট মেয়াদ বেঁধে দেওয়া হবে।
বর্তমানে এসব ভিসা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা, প্রশিক্ষণ বা চাকরির পুরো সময়ের জন্য বৈধ থাকে। তবে নতুন নিয়ম কার্যকর হলে ভিসার মেয়াদ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশের ৬০ দিন পর, কংগ্রেসের পর্যালোচনা সাপেক্ষে এ নিয়ম কার্যকর হবে।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অভিবাসন নীতিতে ব্যাপক কঠোরতা আরোপ করেন। তার প্রশাসন বৈধ অভিবাসনের ক্ষেত্রেও নজরদারি বাড়িয়েছে। রাজনৈতিক বা আদর্শগত মতামতের কারণে বহু বিদেশি শিক্ষার্থীর ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি, কয়েক লাখ অভিবাসীর বৈধ থাকার মর্যাদাও প্রত্যাহার করা হয়েছে।
চার শিক্ষার্থী ও এক্সচেঞ্জ ভিসাবছরের বেশি নয়
নতুন বিধিমালায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির ভিসার সর্বোচ্চ মেয়াদ চার বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিদেশি সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে, বর্তমানে বহু বছরের জন্য ভিসা পাওয়া গেলেও নতুন নিয়মে তা সর্বোচ্চ ২৪০ দিন হবে। আর চীনা সাংবাদিকদের জন্য ভিসার মেয়াদ হবে মাত্র ৯০ দিন। তবে মেয়াদ শেষ হলে প্রয়োজন অনুযায়ী নবায়নের আবেদন করা যাবে।
গত আগস্টে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চীনা সাংবাদিকদের জন্য পৃথক নিয়মকে ‘বৈষম্যমূলক’ বলে সমালোচনা করেছিল। তবে এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার চীনা দূতাবাস তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
শিক্ষার্থীদের জন্য আরও নতুন বিধিনিষেধ
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া পড়াশোনার লক্ষ্য পরিবর্তন বা অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর হতে পারবেন না। এ ছাড়া পড়াশোনা বা প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার জন্য যে ৬০ দিনসময় দেওয়া হতো, তা কমিয়ে ৩০ দিন করা হয়েছে।
সাবেক ডিএইচএস কর্মকর্তা ডাগ র্যান্ড বলেন, ‘বেশিরভাগ মার্কিন নাগরিকই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানানো এবং অপ্রয়োজনীয় জটিলতা কমানোর পক্ষে। কিন্তু নতুন এই নিয়ম তার সম্পূর্ণ বিপরীত।’
অন্যদিকে, ক্যাটো ইনস্টিটিউটের অভিবাসনবিষয়ক পরিচালক ডেভিড জে. বিয়ার বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের বিষয় পরিবর্তন বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বদলের ওপর এমন বিধিনিষেধ আরোপের কোনো আইনগত ভিত্তি নেই।’
তিনি বলেন, ‘অনেক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রে বছরের পর বছর পড়াশোনা করেন। এখন তাদের মাত্র ৩০ দিনের মধ্যে চাকরি খুঁজে স্পনসর জোগাড় করতে হবে, না হলে তারা অবৈধ অভিবাসীতে পরিণত হবেন। বাস্তব জীবন কীভাবে চলে, তা কি নীতিনির্ধারকেরা বোঝেন না?’
কঠোরতার কারণ কী
ডিএইচএস জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ ধরনের ভিসাধারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৪ সালে ১৮ লাখের বেশি শিক্ষার্থী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ১১ শতাংশ বেশি। এ ছাড়া ২০২৪ অর্থবছরে ৫ লাখের বেশি সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির অংশগ্রহণকারী এবং ৩৭ হাজার ৩০০ বিদেশি সাংবাদিককে ভিসা দেওয়া হয়েছে।
ডিএইচএসের ভাষ্য, এত বেশি সংখ্যক অ-অভিবাসী ভিসাধারীর ওপর কার্যকর নজরদারি ও তদারকি করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। তাদের কাছে এমন অনেক উদাহরণ রয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থী ও এক্সচেঞ্জ ভিসাধারীরা কয়েক দশক ধরে একই ভিসার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেছেন।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত মেয়াদের পরও যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে চাইলে ভিসাধারীদের ডিএইচএসের কাছে মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করতে হবে অথবা দেশ ছেড়ে পুনরায় ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে হবে।