সিলেট ১৪ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১:১৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২২, ২০২০
লন্ডন বাংলা ডেস্কঃঃ
শরতের শুভ্র আকাশ আর কাশফুলের দোলায় দুলে উৎসবে নেচে উঠেছে বাঙালি হিন্দুদের মন। ঢাকে পড়েছে কাঠি, বেজে উঠেছে বাদ্য। কারণ হিমালয়ের কৈলাশ শিখরের স্বামীগৃহ ছেড়ে এরই মধ্যে যে সন্তানসহ মর্ত্যে নেমে এসেছেন দুর্গতিনাশিনী দেবী মা দুর্গা। গতকাল বুধবার হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ঢাকের বাদ্য, সানাই-শঙ্খ-উলুধ্বনি আর ভক্তকুলের আহ্বানের মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে গতকাল বুধবার মা দুর্গার অকাল বোধনও সম্পন্ন হয়েছে। এখন তাকে বরণ করে নেওয়ার পালা। তাই আজ সকালে ষষ্ঠী পূজার মাধ্যমে শুরু হবে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। আগামী ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত ভক্তদের মধ্যে কাটানোর পর বিজয়া দশমীতে দেবী আবার ফিরে যাবেন স্বর্গধামে। আর এর মধ্য দিয়েই ওদিন শেষ হবে পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গাপূজা। এবার করোনা পরিস্থিতির কারণে জাতীয়ভাবে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে সব ধরণের উৎসব ছাড়াই।
ঢাকা মহানগর সার্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শৈলেন্দ্র নাথ মজুমদার আমাদের সময়কে বলেন, ‘বুধবার মাকে মর্ত্যে নেমে আসার আহ্বান জানিয়ে বন্দনা পূজা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যে শুরু হবে ষষ্ঠী পূজা। এ পূজা ৯টা ৫৭ মিনিটের মধ্যে শেষ করতে হবে। করোনার কারণে এবার পূজা হচ্ছে সম্পূর্ণ উৎসববিহীন। আরতি প্রতিযোগিতা হবে না। ম-প এলাকায় দোকান-পাট থাকবে না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সাত্ত্বিক আচারের মাধ্যমে পূজার আয়োজন সীমাবদ্ধ রাখা হবে। পূজা করা হবে যেসব উপকরণ লাগবে শুধু সেগুলো দিয়েই। এমনকি বিজয়া দশমীতে শোভাযাত্রাও হবে না। ওইদিন প্রতিমাগুলো অন্যান্য বছরের মতো ঢাকেশ্বরী মন্দির এলাকায়ও জড়ো করা হবে না। প্রত্যেক ম-প থেকেই প্রতিমা নিয়ে বিসর্জন করা হবে। আবার আগে প্রতি ম-প থেকে ট্রাকে করে যে নাচ-গান করতে করতে প্রতিমা বিসর্জন করতে নিয়ে যাওয়া হতো। এবার একটি ট্রাকে করে বাড়তি লোক না নিয়ে প্রতিমা বিসর্জন করতে হবে।
এদিকে ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত প্রতিদিন দুপুরের মধ্যে দুর্গা পূজার মূল আচার-অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যা আরতির পর সব ম-প বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে আয়োজকদের। আগে জানানো হয়েছিল, সন্ধ্যা আরতির পর রাত ৯টা পর্যন্ত ম-পে দর্শনার্থী প্রবেশের সুযোগ থাকবে। এখন সে সময় আরও কমিয়ে আনা হলো। গতকাল পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জি আমাদের সময়কে বলেন, সম্প্রতি মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর করোনা ভাইরাসের সেকেন্ড ওয়েভ সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ঘর থেকে বের হলেই যেন সবাই মাস্ক পরে। আমরা সে সতর্কবার্তা অনুসরণ করছি। আইইডিসিআর, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা সবাই যখন করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ওয়েভ নিয়ে আতঙ্কের কথা বলছেন, তখন আমরা পূজার আয়োজন সংকুচিত করছি। আমরা বলছি, সন্ধ্যা আরতির পরই মন্দির বন্ধ করে দেব। সাধারণ কোন জনগণ আর পূজা ম-পে ঢুকতে পারবেন না।
এবার জনসমাগম এড়াতে হবে না পূজার অষ্টমী তিথিতে কুমারীপূজাও। এ ছাড়া যেহেতু উৎসব সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পরিহার করা হচ্ছে তাই এবারের দুর্গোৎসবকে দুর্গাপূজা হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। পরিস্থিতির কারণে কমে গেছে ম-পের সংখ্যাও। গত বছর সারা দেশে ম-পের সংখ্যা ছিল ৩১ হাজার ৩৯৮টি। এবার কমে দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ২১৩টিতে।
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে, গতকাল সন্ধ্যা থেকে ষষ্ঠী তিথির সূচনা ঘটেছে। আজ রাতে শুরু হবে মহাসপ্তমী তিথি। কাল শুক্রবার মহাসপ্তমীর সকালে ঢাক-ঢোল-কাঁসর বাজিয়ে কলাবউ স্নান ও আদরিণী উমার সপরিবারে তিথি বিহীত পূজা। শনিবার মহাঅষ্টমী কল্পরম্ভ ও বিহীত পূজা। পরদিন হবে মহানবমী কল্পারম্ভ ও বিহীত পূজা। সোমবার সকাল ৯টায় পূজা সমার্পণ ও পরে দর্পণ বিসর্জন-শান্তিজল গ্রহণ।
সনাতন বিশ্বাস ও পঞ্জিকা মতে, এ বছর মা দুর্গার আগমন হচ্ছে দোলায়। যার এর অর্থ মড়ক। ফলে পূজা বা তার পরবর্তী সময়েও মহামারী পরিস্থিতি বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মা মর্ত্য থেকে স্বর্গধামে ফিরবেন গজে বা হাতিতে। যার ফল শুভ হয়। এদিকে দুর্গাপূজাকে ঘিরে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।