সিলেট ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১২:৩৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৯, ২০২৪
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃঃ
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা না গেলে ব্যাপক দুর্ভিক্ষ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সম্প্রতি জাতিসংঘের বেশ কয়েকজন মানবিক কর্মকর্তা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, গাজা ভূখণ্ডে যুদ্ধ শিগগিরই বন্ধ না হলে দুর্ভিক্ষের উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে।
গত বছরের ৭ অক্টোবর অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েল অভিমুখে হাজার হাজার রকেট ছুড়ে মুক্তিকামী ফিলিস্তিনিদের সশস্ত্র সংগঠন হামাস। এতে ইসরায়েলে নিহত হয়েছেন এক হাজার ৪০০ জন। এরপরেই গাজায় পাল্টা আক্রমণ শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে প্রাণ হারিয়েছে ২৮ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি, আহত অর্ধলক্ষাধিক। হতাহতদের বেশিরভাগই বেসামরিক। এমন অবস্থায় বিশ্বজুড়ে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হচ্ছে।
জাতিসংঘের মানবিক কার্যালয়ের সমন্বয় বিভাগের পরিচালক রমেশ রাজাসিংহাম বলেছেন, ‘এখনি কিছু না করা হলে, গাজায় ব্যাপক দুর্ভিক্ষ প্রায় অনিবার্য।
এই যুদ্ধে ক্ষুধাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে এই মর্মে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যেই আলজেরিয়া, গায়ানা, স্লোভেনিয়া এবং সুইজারল্যান্ডের সদস্যদের অনুরোধে, জাতিসংঘের সুরক্ষা কাউন্সিলের বৈঠকে তিনি ভাষণ দেন। রাজাসিংহাম আরও বলেন, গাজার অন্তত ৫ লাখ ৭৬ হাজার মানুষ অপর্যাপ্ত মানবিক খাদ্য সহায়তার ওপর নির্ভর করছে। দুর্ভিক্ষ থেকে মাত্র এক ধাপ দূরে অবস্থান করছে তারা।
এদিকে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির উপ-নির্বাহী পরিচালক কার্ল স্কাউ বলেছেন, “গাজার শিশুদের অপুষ্টির মাত্রা বিশ্বের যে কোনো জায়গার চেয়ে খারাপ। এখানে, দুই বছরের কম বয়সী, প্রতি ছয়টি শিশুর মধ্যে একটি শিশু তীব্র অপুষ্টির শিকার।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার সহকারী মহাপরিচালক মৌরিজিও মার্টিনা, যুদ্ধ কিভাবে খাদ্য সরবরাহ চেইনকে প্রভাবিত করেছে তা ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, ইসরাইল গাজার কৃষকদের তাদের নিজেদের জায়গা ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছে। বোমাবর্ষণে ফসল ধ্বংস হয়ে গেছে, একই সাথে গবা্দি পশু, হাস মুরগীও না খেতে পেয়ে মারা যাচ্ছে। তাছাড়া মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যুদ্ধের প্রভাবে ভূগর্ভস্থ পানিও দূষিত হচ্ছে। ফলে সবকিছু অচিরেই ধ্বসে পড়তে যাচ্ছে বলে তিনি মনে করছেন। মার্টিনা বলেন, “২০২৪ সালের মে মাসের মধ্যে উত্তরাঞ্চলে কৃষি উৎপাদন কমে যাবে।
অধিবেশনের আগে কাউন্সিলে পাঠানো হোয়াইট নোট নামে পরিচিত একটি স্মারকলিপিতে জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক প্রধান মার্টিন গ্রিফিথস বলেন, দুর্ভিক্ষ এড়াতে প্রয়োজনীয় সরবরাহের পাঠানোর বেলায় তারা “উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বাধা” মোকাবেলা করে চলেছেন। তিনি মনে করেন, গাজায় ত্রাণ প্রবাহ অনিশ্চিত ও অপর্যাপ্ত।
ইসরাইল গাজায় ত্রাণ সরবরাহে বাধা দেয়া বা সীমিত করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।