সিলেট ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৩:১৮ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৪, ২০২৪
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃঃ
ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য উত্তর প্রদেশের কয়েক হাজার মাদ্রাসা কার্যকরভাবে বন্ধ করার ব্যাপারে আদালতের সাম্প্রতিক রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন দেশটির মুসলিম শিক্ষাবিদরা। তারা বলছেন, এতে ভারতের সাংবিধানিক ধর্মনিরপেক্ষতা লঙ্ঘিত হয়েছে।
গত ২২ মার্চ এলাহাবাদ হাইকোর্ট এক রায়ে উত্তর প্রদেশ বোর্ড অফ মাদ্রাসা এডুকেশন অ্যাক্ট ২০০৪ বাতিল করে বলেছে, এতে ভারতের সাংবিধানিক ধর্মনিরপেক্ষতা লঙ্ঘিত হয়েছে। আইনটি বাতিল করে আদালত উত্তর প্রদেশের সমস্ত মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ‘সাধারণ’ স্কুলে স্থানান্তরিত করার নির্দেশ দেয়।
ক্ষমতাসীন বিজেপির নেতারা বলছেন, ভারতীয় মুসলিম সমাজের শিক্ষার্থীদের জন্য এই সিদ্ধান্ত আধুনিক মূলধারার স্কুলে পড়ার সুযোগ সৃষ্টি করছে।
তবে মুসলিম নেতারা এতে আপত্তি জানিয়ে বলছেন, এই রায়ে ভারতের মাদ্রাসাগুলোর আধুনিকায়নের বিষয়টি আমলে নেওয়া হয়নি। গত কয়েক বছরে করা পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত, কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এবং সামাজিক বিজ্ঞানের মতো বিষয়সহ জাতীয়ভাবে অনুমোদিত পাঠ্যক্রম চালু করা হয়েছে মাদ্রাসায়। কিন্তু এই সংস্কারকে উপেক্ষা করা হয়েছে।
দিল্লি মাইনরিটিস কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান জাফরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আদালতের এই আদেশ ভারতীয় সংবিধানের ২৯ এবং ৩০ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন, যাতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের তাদের পছন্দমতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও পরিচালনার অধিকার নিশ্চিত করা ছিল।
তিনি আরও বলেন, মাদ্রাসার শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন মুসলমানেরা স্বাগত জানিয়েছে। আধুনিক মাদ্রাসাগুলো থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে অনেক শিক্ষার্থীই সরকারি কর্মকর্তা, বিজ্ঞানী, ডাক্তার, প্রকৌশলী এবং অন্যান্য আধুনিক পেশাজীবী হয়েছে। কিন্তু মুসলিম সম্প্রদায়ের ইচ্ছা আমলে না নিয়ে তাদের স্বার্থের বিরুদ্ধে গিয়ে কর্তৃপক্ষ সব মাদ্রাসা বন্ধ করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তারা বলছেন, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক স্বীকৃত প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার মাদ্রাসা আর তার ১৯ লাখ ৫০ হাজার শিক্ষার্থী এবং এক লাখ শিক্ষকের উপর আদালতের এই আদেশের সরাসরি প্রভাব পড়বে। কিছু অমুসলিম শিক্ষার্থীও রয়েছে সেখানে।
উত্তর প্রদেশের মীরাট জেলার একটি আধুনিক মাদ্রাসার বিজ্ঞানের শিক্ষক বাবু রাম ভিওএ-কে বলেন, ২০০৯ সাল থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের মাদ্রাসা শিক্ষা্র আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিক ভাবে প্রায় ২৫ হাজারেরও বেশি শিক্ষক নিয়োগের জন্য অর্থায়ন ছিল। মানসম্পন্ন শিক্ষার জন্য মুসলিম সম্প্রদায় এবং সরকার আধুনিক মাদ্রাসা চালু করে।
তিনি বলেন, যেহেতু মুসলিম পরিবারগুলো মূল ধারার পড়ার পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষায় তাদের সন্তানদের শিক্ষিত করতে চান তাই তারা মূলধারার স্কুলগুলোর চেয়ে আধুনিক মাদ্রাসা বেশি পছন্দ করেন। ফলে, এতে অধিক সংখ্যক মুসলিম শিক্ষার্থী ভর্তির কারণে প্রকল্পটি সফলতা পায়।
মাদ্রাসাগুলি বন্ধ করা হলে মুসলমান ছাত্রদের মধ্যে ঝরে পড়ার হার নিশ্চিৎভাবেই বাড়বে বলেও মনে করেন তিনি।