সিটি ইউনিভার্সিটির মামলায় ১০০০, ড্যাফোডিলের মামলায় ২৫০ আসামি

প্রকাশিত: ৪:০২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৯, ২০২৫

সিটি ইউনিভার্সিটির মামলায় ১০০০, ড্যাফোডিলের মামলায় ২৫০ আসামি

লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::

 

সাভারে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক হাজার শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে সিটি ইউনিভার্সিটি। অন্যদিকে আড়াই’শ শিক্ষার্থীকে আসামি করে পাল্টা মামলা দায়ের করেছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান।

 

 

 

 

তিনি বলেন, উভয় পক্ষ থানায় অভিযোগ করেছে। আমরা তা মামলা হিসেবে রেকর্ড করেছি। এখন আইনি প্রক্রিয়ায় যাচ্ছি। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সিটি ইউনিভার্সিটির রেজিষ্ট্রার আফতাব উদ্দীন আহমেদ খান বাদী হয়ে অজ্ঞাত এক হাজার শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নং -১০৬/৮৪২।

 

 

 

 

মামলায় বেআইনি জনতাবদ্ধে অনধিকার প্রবেশ করে দাঙ্গা হাঙ্গামা সৃষ্টিসহ মারাত্বক জখম, ভাংচুর করে ক্ষতিসাধন, চুরি ও বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহার করে অগ্নিসংযোগ করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

 

 

 

মামলায় এজাহারে বলা হয়, সিটি ইউনিভর্সিটির মেইন ফটকে নিরাপত্তায় থাকা সিকিউরিটি গার্ডদেরকে গুরুতর আঘাত করে মূল ফটক দিয়ে প্রবেশে ব্যর্থ হয়ে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা প্রধান ফটকের পার্শ্ববর্তী ওয়াল গ্রাইন্ডিং মেশিন দিয়ে কেটে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে ঢুকে পেট্রোল বোমা, হাত বোমা নিয়ে হামলা করে ছাত্র-ছাত্রীদের পরিবহনের ৫টি বাস ভাংচুর করে। এতে ৩টি বাস সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়। সেইসঙ্গে ৩টি মাইক্রোবাস, ১টি প্রাইভেটকার, ২টি মটরসাইকেল বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহার করে অগ্নি সংযোগ করে পুড়ে নিমিষে ছাই করে দেওয়া হয়।

 

 

 

 

এছাড়া ইউনিভার্সিটির প্রশাসনিক ভবনে থাকা ভিসি অফিস, প্রো ভিসি অফিস, ট্রেজারার অফিস, রেজিস্ট্রার অফিস, ডেপুটি রেজিস্ট্রার অফিস, এডমিন অফিস, একাউন্টস শাখা, এডমিশন শাখা, কনফারেন্স রুম, চেয়ারম্যানের রুমসহ প্রতিটি কক্ষের দরজা ভেঙ্গে অফিসে সমস্ত ফার্ণিচার ভাংচুর করে এবং অফিসের কম্পিউটার, প্রিন্টার, স্ক্যানারসহ যাবতীয় আসবাবপত্র ভাংচুর এবং দামী জিনিসপত্র লুটপাট করে নিয়ে যায় এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে ফেলে।

 

 

 

 

এর পাশাপাশি ইউনিভার্সিটির হিসাব শাখা থেকে নগদ আনুমানিক ১৫ লাখ টাকা দস্যুতার মাধ্যমে চুরি করে নিয়ে যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনসমূহের বিভিন্ন তলা পর্যন্ত জানালার থাই, এসি, বাথরুমের হাই কমোডসহ কোন কিছুই দুষ্কৃতকারীগণের হাত থেকে রক্ষা পায়নি। প্রাথমিকভাবে ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ২০ কোটি টাকা।

 

 

 

মামলায় আরো উল্লেখ করা হয়, হামলা শুরু করার আগে দুষ্কৃতকারীরা বেআইনীভাবে ড্রোন ব্যবহার ইউনিভার্সিটির বিভিন্ন স্থাপনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করে। তাদের গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মানচিত্র থেকে স্বনামধন্য ও সুপ্রতিষ্ঠিত সিটি ইউনিভার্সিটির নাম নিশানা মুছে ফেলার ষড়যন্ত্রের পাশাপাশি ইউনিভার্সিটির মান-সম্মান, সুনামের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

 

 

 

এতে মূল একাডেমিক ভবন ধ্বংসে কিছু ছাত্র বাধা দিতে গেলে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে মারাত্মক অস্ত্রসজ্জিত হয়ে গুরুতর আঘাত করে। উক্ত আঘাতে সিটি ইউনিভার্সিটির শতাধিক শিক্ষার্থীকে আহত অবস্থায় ভর্তি করানো হয়।

 

 

 

অন্যদিকে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা আফতাব উদ্দীন আহমেদ খান বাদী হয়ে অজ্ঞাত ২’শ ৫০ শিক্ষার্থীকে আসামি করে একটি মামলা (নং-১০৭/৮৪৩) দায়ের করেন।

 

 

 

মামলায় পরষ্পরের যোগসাজসে বেআইনি জনতাবদ্ধে দাঙ্গা, হাঙ্গামা সৃষ্টি করে অবৈধ আটকের মাধ্যমে অসত্য বিভ্রান্তকর বক্তব্য দিতে বাধ্য করা, মারপিট করে সাধারন ও গুরুতর জখম করাসহ ক্ষতিসাধন করার অভিযোগ আনা হয়।

 

 

 

মামলায় বলা হয়, সিটি ইউনিভার্সিটির একজন শিক্ষার্থী ইচ্ছাকৃতভাবে ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীর গায়ে থুথু ফেলে এবং তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিটি ইউনিভার্সিটির একদল ছাত্র অস্ত্র, ইটপাটকেল ও লাঠিসোটা নিয়ে ড্যাফোডিলের শিক্ষার্থীদের ভাড়া বাসা ব্যাচেলর প্যারাডাইস নামক হোস্টেলে অতর্কিত আক্রমন করে এবং সম্পদ ভাংচুর করে। হামলায় ড্যাফোডিলের ১’শ ৫০ জনের অধিক শিক্ষার্থী আহত হন। যার মধ্যে অনেকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন। হামলার পর সিটি ইউনিভার্সিটির একটি গোষ্ঠী ড্যাফোডিলের ১১ ছাত্রকে জিম্মি করে সারারাত আটক রেখে অস্ত্রের মুখে জোরপূর্বক বক্তব্য আদায়, অমানবিক নির্যাতন, মারধর এবং মনস্তাত্তিক ভয় দেখিয়ে অসত্য বিভান্তিকর বক্তব্য দিতে বাধ্য করে। সিটি ইউনিভার্সিটির ভেতরে ভাংচুর, গাড়ি পোড়ানো ও সহিংস দৃশ্য সাজানো হয়।

 

 

 

ঘটনার ভিডিও ও ছবি পরিকল্পিতভাবে ধারন করে পরবর্তীতে মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিকৃতভাবে প্রচার করা হয় মূল অপরাধীদের আড়াল করার জন্য। সিটি ইউনিভার্সিটির প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে নিরব ভূমিকা পালন করেছে। দুষ্কৃতিকারীদের বা স্বার্থান্বেষী মহলের অর্থ আত্মসাৎ ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এ ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। পরিকল্পিতভাবে সংঘর্ষের পরিবেশ তৈরি করে অর্থ আত্মসাৎ এবং প্রমান ধংসের চেষ্টা করে তারাই এ অর্থনৈতিক ও মিডিয়া নাটক সাজিয়েছে। আঘাতপ্রাপ্তরা আইসিইউ, সিসিইউ এবং হাসপাতালের জরুরী বিভাগে ভর্তি আছে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও ছাত্রদের ভিডিও এবং বর্ণিত ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ পরীক্ষা করে প্রকৃত অপরাধীদেরকে সনাক্ত করে গ্রেপ্তারপূর্বক যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা একান্ত আবশ্যক।

 

 

প্রসঙ্গত, গত রোববার সন্ধ্যায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই বিশ্বদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর মধ্যে কথা কাটাকাটির জেরে শুরু হয় সংঘর্ষ। প্রায় ৭ ঘণ্টার সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় ওই এলাকা। আহত হন শতাধিক শিক্ষার্থী। হামলা চালিয়ে অগ্নিসংযোগ ভাঙচুরা তছনছ করা হয় সিটি ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাস। পুড়িয়ে দেয়া হয় বেশ কয়েকটি গাড়ি।

 

 

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা অন্তত ১০টি যানবাহন ভাঙচুর ও ৫টিতে অগ্নিসংযোগ করেন। ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

June 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930