সিলেট ২৫শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১২:৫৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১০, ২০২৫
লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিত বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় সুনামগঞ্জের ধোপাজান চলতি নদীতে বালি উত্তোলন বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন।
রবিবার দুপুরে এক সভায় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য জানান জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া।
জেলা প্রশাসক জানান, আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারনে দীর্ঘদিন ধরে ধোপাজান চলতি নদীতে বালি উত্তোলন বন্ধ ছিলো। সম্প্রতি উন্নয়ন প্রকল্পে মাটি সরবরাহ করতে নদীতে ডিট বালি উত্তোলনের জন্য লিমপিড ইঞ্জিনিয়ারিং নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দেয় বিআইডব্লিউটিএ। নদীতে ডিট বালি উত্তোলনের অনুপযোগীতা বিষয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে পত্র পাঠানো হয়। সরকারি দপ্তরের অনুমতি থাকায় লিমপিড ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠানের এমন কর্মকান্ডে হস্তক্ষেপ করা সম্ভব হয়নি।
নদীতে ড্রেজার দিয়ে বালি উত্তোলনের বিষয়টি প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর হয়। বালি উত্তোলনের কারনে আইণশংখলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় আজ জেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় বিষয়টি উত্থাপন করেন সুনামগঞ্জ ২৮ বিজিবি সিও। সর্বসম্মতিক্রমে পরিবর্তি নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত বালি উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
সুনামগঞ্জ ২৮ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্ণেল জাকারিয়া কাদির বলেন, নদীতে বালি উত্তোলনে ব্যাপারে কোর কমিটির সভায় আলোচনা হয়। আমরাও আমাদের মতামত প্রকাশ করেছি। অন্যান্যরাও মতামত জানিয়েছেন। বিশেষ করে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে প্রাধান্য দিয়ে সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
এদিকে নদীতে বালি উত্তোলন বন্ধের ঘোষণাকে স্বাগত জানালেও অব্যাহত বালু লুট ও পরিবেশ বিধ্বংসী কাজের জন্য মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পরিবেশবাদীরা।
হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক বলেন, লিমপিড প্রতিষ্ঠান ধোপাজান চলতি নদী থেকে শত কোটি টাকার বালি লুটে নিয়েছে। আমরা প্রথম দিন থেকে এর বিরোধীতা করে আসছি। নদী তীরের ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা মানববন্ধন ও আন্দোলন করেছেন। তখন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। যা ক্ষতি হওয়ার হয়েগেছে। যে বালি লুট হলো তার কি হবে।
পরিবেশ আন্দোলন বাপার সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক দুলাল মিয়া বলেন, প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্ত ইতিবাচক। তবে এটি আগে নেয়া প্রয়োজন ছিলো। এখন সিদ্ধান্তের কার্যকর প্রতিফলন চাই।
ধোপাজন চলতি নদীতে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালি উত্তোলন ও পরিবেশের ক্ষয়ক্ষতির নিয়ে একাধিক গণমাধ্যমে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর থেকে তৎপর হয় সংশ্লিষ্ট মহল।
বালু লুটের ব্যাপারে সরব হয়ন সচেতন নাগরিক ও পরিবেশবী সংগঠনগুলো।