সিলেট ১৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৬:২৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২০, ২০২৬
লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::
বিপিএলের ইতিহাসে অবিশ্বাস্য এক নাটকীয় মুহূর্তের জন্ম দিলেন ক্রিস ওকস। শেষ বলে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৬ রান-এমন সমীকরণে এর আগে কখনোই ছক্কা মেরে ম্যাচ জেতানোর ঘটনা ঘটেনি বিপিএলে। তবে নিজের প্রথম ম্যাচেই সেই অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখালেন ইংলিশ অলরাউন্ডার।
শেষ ওভারে ফাহিম আশরাফের অফ স্টাম্পের বাইরের বল ওকস ব্যাটে চালিয়ে দিতেই বুঝে যান কাজ হয়ে গেছে। হাত তুলে বলের দিকেই ইশারা করেন তিনি। বল উড়ে গিয়ে আছড়ে পড়ে গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডের গ্যালারিতে। শেষ বলের সেই ছক্কায় ৩ উইকেটের রুদ্ধশ্বাস জয়ে ফাইনালের দৌড়ে টিকে থাকে সিলেট টাইটান্স। আর গতবারের মতো এবারও এলিমিনেটর থেকেই বিদায় নেয় ফেভারিট রংপুর রাইডার্স।
১২ মৌসুমে অসংখ্য স্মরণীয় ম্যাচ দেখেছে বিপিএল, তবে এই ম্যাচটি জায়গা করে নিল সেরাদের কাতারে। মৌসুমে প্রথমবার মাঠে নেমেই ওকস বল হাতে ছিলেন দারুণ, আর ব্যাট হাতে শেষ মুহূর্তে হয়ে উঠলেন দলের নায়ক।
এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই ধুঁকেছিল রংপুর। উইকেটে বাউন্স ও মুভমেন্ট থাকলেও প্রথম কয়েকটি উইকেট ছিল ব্যাটসম্যানদের ভুলে। দ্বিতীয় ওভারে তাওহিদ হৃদয় (৬ বলে ৪) উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফিরলে পরের ওভারে ওকসের বলে বাজে শটে আউট হন দাভিদ মালান (৯ বলে ৪)। অধিনায়ক লিটন কুমার দাসও (৪ বলে ১) ব্যর্থতার মিছিল বাড়ান। ১১ ম্যাচ খেলেও এবারের বিপিএলে কোনো ফিফটির দেখা পাননি বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক।
কাইল মেয়ার্সও (১৩ বলে ৮) পাওয়ার প্লে শেষ হতেই বিদায় নেন। ৩০ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর খুশদিল শাহ ও মাহমুদউল্লাহ কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা করেন। তবে খুশদিল (১৯ বলে ৩০) ও মাহমুদউল্লাহ (২৬ বলে ৩৩) কেউই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। শেষ দিকে নুরুল হাসান সোহান (২৪ বলে ১৮) কিছুটা সময় কাটালেও বড় সংগ্রহ গড়তে ব্যর্থ হয় রংপুর।
এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় সিলেট। মুস্তাফিজুর রহমান প্রথম ওভারেই ফিরিয়ে দেন তৌফিক খান তুষারকে। পরে আলিস আল ইসলাম ও নাহিদ রানা দ্রুত উইকেট তুলে নিলে ৮ ওভারে সিলেটের স্কোর দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ৪৪ রান।
চাপের মুখে দলকে টেনে তোলেন স্যাম বিলিংস ও মেহেদী হাসান মিরাজ। ধীরগতির হলেও ৫৪ বলে ৫০ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন তারা। মিরাজ ২৩ বলে ১৮ রান করে স্টাম্পড হলে বিলিংস পরিস্থিতি বুঝে উইকেট আঁকড়ে ধরেন। ৩২ বল পর্যন্ত কোনো বাউন্ডারি না পেলেও পরে একটি ছক্কা মারেন তিনি।
তবে শেষদিকে বিলিংসও ফিরলে নাটক জমে ওঠে। শেষ বলের আগে প্রয়োজন দাঁড়ায় ৬ রান। তখনই ব্যাট হাতে ইতিহাস লেখেন ক্রিস ওকস—শেষ বলের ছক্কায় সিলেটকে এনে দেন অবিস্মরণীয় জয়, আর বিপিএল পায় তার অন্যতম রোমাঞ্চকর মুহূর্ত।