সিলেট ১৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৪:০৮ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬
লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্লট বরাদ্দের দুই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৫ বছর করে ১০ বছরের কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন আদালত।
একই সঙ্গে শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকের দুই মামলায় ২ বছর করে ৪ বছর এবং শেখ রেহানার মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক এবং ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ৭ বছর করে কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
এ ছাড়া রায়ে অপর পলাতক আসামিদের প্রত্যেকের ৫ বছর করে এবং কারাগারে থাকা আসামির দুই মামলায় ১ বছর করে ২ বছরের কারাদণ্ডের আদেশও দিয়েছেন আদালত।
আজ সোমবার ঢাকার ৪ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক রবিউল আলম এই রায় ঘোষণা করন। রায়ে আসামিদের ১ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড এবং তা আনাদায়ে আরও ৬ মাস করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
আর আজমিনা সিদ্দিক এবং ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকের বরাদ্দকৃত প্লট বাতিলের ব্যবস্থা নিতে রাজউক চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠার প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে গত বছরের ১৩ জানুয়ারি আজমিনা সিদ্দিকের বিরুদ্ধে প্রথম মামলাটি করেন দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া। ওই মামলায় টিউলিপ ও শেখ হাসিনাসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়।
অন্যদিকে একই দিনে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকের নামে পূর্বাচলে ১০ কাঠার প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে দ্বিতীয় মামলাটি দায়ের করেন দুদকের সহকারী পরিচালক এস. এম. রাশেদুল হাসান। এই মামলায়ও শেখ হাসিনা ও টিউলিপসহ ১৮ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়।
মামলার উল্লেখযোগ্য অন্য আসামিরা হলেন-সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, সাবেক সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানের মো. আনিছুর রহমান মিঞা এবং রাজউকের সাবেক পরিচালক শেখ শাহিনুল ইসলামসহ গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও রাজউকের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা।
গত ১৩ জানুয়ারি আজমিনা সিদ্দিকের এবং ১৮ জানুয়ারি রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকের মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হয়। এরপর আদালত রায় ঘোষণার জন্য ২ ফেব্রুয়ারি তারিখ নির্ধারণ করেন।
মামলাগুলোর অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে শহরে বাড়ি বা ফ্ল্যাট থাকার তথ্য গোপন করে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নম্বর রাস্তায় ১০ কাঠা করে প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন। শেখ হাসিনা তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করেছেন এবং আইন ও নীতিমালার তোয়াক্কা না করে এই প্লট বরাদ্দ দিয়েছেন। এতে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে পূর্বাচল প্লট দুর্নীতির পৃথক চার মামলায় শেখ হাসিনাকে মোট ২৬ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি অন্যান্য আসামিদেরও বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।