নির্বাচনী কর্মকর্তারা ভোটারদের চাপ দিচ্ছেন: আসিফ মাহমুদ

প্রকাশিত: ৮:২৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬

নির্বাচনী কর্মকর্তারা ভোটারদের চাপ দিচ্ছেন: আসিফ মাহমুদ

লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::

 

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, ‘কিছু জায়গায় দেখেছি কিছু কর্মকর্তারা নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট—সেটা পুলিশে আছেন, জনপ্রশাসনের কর্মকর্তারা আছেন—মাঠ পর্যায়ে তারা কিছু অস্বাভাবিক আচরণ করছেন। তারা অনেক ক্ষেত্রে ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন বা নির্দিষ্ট কোনো দলে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে চাপ প্রয়োগ করছেন। বিভিন্ন ব্যবসায়ী গ্রুপকে তারা কল দিচ্ছেন। প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছেন।’

 

আজ সোমবার বিকেলে নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের নেতাদের বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন আসিফ।

 

 

তিনি বলেন, ‘মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিষয়ে হঠাৎ করে নেওয়া সিদ্ধান্তের মতো “সারপ্রাইজ ডিসিশন” নির্বাচনী পরিবেশকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে উত্তপ্ত করতে পারে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা প্রয়োজন।’

 

প্রশাসনিক রদবদলের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ তুলে আসিফ মাহমুদ বলেন, স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে বদলি হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে একটি নির্দিষ্ট দলকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। কোনো একটি দলের প্রার্থীকে শোকজ করার পরপরই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হচ্ছে।

 

 

এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নির্দিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তাকে অপসারণ ও বদলির দাবি এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে বলে জানান আসিফ মাহমুদ।

 

 

এনসিপির মুখপাত্র বলেন, প্রার্থীরা লিখিতভাবে কমিশনে অভিযোগ জানালেও অনেক ক্ষেত্রেই কোনো প্রতিক্রিয়া বা লিখিত জবাব পাওয়া যাচ্ছে না। এতে নির্বাচন কমিশনের কার্যকর অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার অভাব স্পষ্ট হচ্ছে। তার মতে, অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য নির্বাচন কমিশনের একটি আলাদা টাস্কফোর্স থাকা জরুরি ছিল।

 

 

আসিফ মাহমুদ বলেন, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড ও আচরণ সম্পর্কে কমিশনের পর্যাপ্ত ধারণা নেই, যা সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত সমাধান করা সম্ভব ছিল।

 

 

ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন বহন ও ব্যবহারে হঠাৎ নিষেধাজ্ঞা জারির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইসি।

 

 

জুবায়ের বলেন, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে হঠাৎ নির্দেশনা আসে—নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন বহন বা ব্যবহার করা যাবে না। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা ছাড়া অন্যদের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে সাংবাদিকদের কাজ করা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দেয়। এতে সারাদেশে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়।

 

 

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বৈঠকে কমিশন জানিয়েছে মোবাইল ফোন সংক্রান্ত ওই নির্দেশনা এরই মধ্যে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যেকোনো সময় আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হবে। ভোটাররা মোবাইল ফোন সঙ্গে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবেন, তবে ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ফোন ব্যবহারে কিছু বিধিনিষেধ থাকবে।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

February 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
232425262728