জগন্নাথপুরে মুক্তিযোদ্ধা পুত্রের বাড়িঘর ভাংচুর করে উল্লাস

প্রকাশিত: 8:15 PM, March 15, 2026

জগন্নাথপুরে মুক্তিযোদ্ধা পুত্রের বাড়িঘর ভাংচুর করে উল্লাস

প্রতিনিধি / জগন্নাথপুর ::

 

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল্লাহ খানের পুত্র আবদুল গফ্ফার খানের বাড়িঘর দিন দুপুরে ভাংচুর করে রীতিমতো উল্লাস করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। মুক্তিযোদ্ধা পুত্র আবদুল গফ্ফার ঘটনাস্থলে না থাকায় প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন। যা হতবাক করে দিয়েছে সাধারণ মানুষকে। এটি কিসের আলামত এমন প্রশ্ন নাম না বলা প্রত্যক্ষদর্শী পথচারী জনতার। ঘটনাটি ঘটেছে, জগন্নাথপুর উপজেলার রাণীগঞ্জ বাজার এলাকায়। এতে আশ্রয় হারা, দিশেহারা ভীত মুক্তিযোদ্ধা পরিবার। তাদের একমাত্র মাথা গোঁজার ঠাঁই ভেঙে ফেলা হয়েছে।

 

 

জানাগেছে, জগন্নাথপুর উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের রাণীগঞ্জ বাজার এলাকায় ইসলামপুর গ্রামে প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল্লাহ খান ১০ শতক জমি ৯৯ বছরের জন্য সরকার কর্তৃক বন্দোবস্তপ্রাপ্ত হন। জগন্নাথপুর থানার মৌজা-গন্ধর্বপুর জে এল নং-২০৪, আগত খতিয়ান নং-০১, নামজারী মোকদ্দমা নং-৯০৭/২০১০, দাগ নং-২০৪৬/১, ২০৪৬/২ এ ১০ শতক লায়েক পতিত রকম জমি বন্দোবস্ত প্রাপ্ত হয়ে সপরিবারে তিনি বসবাস করেন। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা আবদুল্লাহ খান মারা গেলে তার পরিবারের লোকজন শান্তিপূর্ণ বসবাস করছেন।

 

 

গত ২২ ফেব্রুয়ারি মুক্তিযোদ্ধাপুত্র আবদুল গফ্ফার খান তার অংশের জায়গায় থাকা পূর্বের দোকারঘর ভেঙে বর্ধিত করার জন্য মাটি ভরাট কাজ শুরু করেন। মাটি ভরাট শেষ হলে পুনরায় একটু বড় করে দোকানঘর নির্মাণ করবেন। এমতাবস্থায় বাদ সাদে স্থানীয় কিছু মানুষ। তারা বাধা আপত্তি দিয়ে কাজ বন্ধ করতে বাধ্য করেন। নিরুপায় হয়ে মুক্তিযোদ্ধাপুত্র আবদুল গফ্ফার খান বাদী হয়ে স্থানীয় ইসলামপুর গ্রামের নিজাম উদ্দিন ও শিহাব উদ্দিনকে বিবাদী করে জগন্নাথপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ২৬ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও তা সমাধান হয়নি।

 

 

এর মধ্যে ১৫ মার্চ রোববার দিন দুপুরে প্রতিপক্ষের লোকজন রণসাজে সজ্জিত হয়ে মুক্তিযোদ্ধা পুত্র আবদুল গফ্ফার খানের বাড়িঘর ভাংচুর করেছে। শুধু ভাংচুর করে ক্ষান্ত হয়নি রীতিমতো উল্লাস করেছে। ভাংচুরকৃত টিন নিয়ে যেতেও দেখা যায়। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ততক্ষনে সবকিছু ভাংচুর হয়ে গেছে। মুক্তিযোদ্ধা পুত্র আবদুল গফ্ফার খান জানান, এতে প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তিনি অসহায়, নিরুপায়। কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন। যদিও প্রতিপক্ষের দাবি এখানে আগে বাজারের ঘাট ছিল। সেই ঘাটের জায়গা তারা দখলমুক্ত করেছেন।

 

 

এ বিষয়ে জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.শফিকুল ইসলাম জানান, আগামীকাল উভয় পক্ষকে নিয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো.মহসীন উদ্দিনের বসার কথা ছিল। এর মধ্যেই ঘর ভাংচুর করা হয়েছে। এ বিষয়ে এখনো থানায় কোন অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

উল্লেখ্য-১৯৭১ সালে জীবন বাজি রেখে দেশ স্বাধীনের যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন মুক্তিকামী বীর মুক্তিযোদ্ধারা। দেশ স্বাধীনের পর সেই মুক্তিযোদ্ধাদের একজন আবদুল্লাহ খান আক্ষেপ করে বলেছিলেন “কিতাল্লাগি যুদ্ধের সময় মরলাম না”। যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে শিরোনাম হয়েছিল। হয়তো তার মনে অনেক কষ্ট ছিল। যে কারণে এমন কথা বলেছিলেন। তার মৃত্যুর পর মনোকষ্টের প্রভাব পড়েছে তার পরিবারে।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

October 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031