সিলেট ১০ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৮:২৭ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৬, ২০২৬
প্রতিনিধি/ওসমানীনগরঃঃ
আধুনিক ও যুগোপযোগী দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও আদর্শ নাগরিক গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুর ইউনিয়নের ভাড়েরা গ্রামে মাদরাসায়ে আনসারিয়া মুশতাকিয়া পীরবাড়ি মাদরাসা ও চৌধুরী রীনা বেগম এতিমখানা। দ্বীনি শিক্ষার প্রসার, নৈতিক মূল্যবোধ গঠন মানসম্মত ইসলামী শিক্ষার নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসাবে কাজ করছে মাদরাসা এবং এতিমখানা। অসহায় শিশুদের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় মাদরাসা ও এতিমখানা ইতোমধ্যে এলাকায় সুনাম অর্জন করেছে।
বর্তমানে মাদরাসাটিতে মাদানী নেসাব ১ম বর্ষ থেকে ৩য় বর্ষ পর্যন্ত হিফজুল কুরআন বিভাগ এবং নাযেরা বিভাগে ভর্তি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্থীদের কুরআন শিক্ষা ও নৈতিক গঠনে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মাদরাসার মোহতামিম হাফিজ মাওলানা ইসহাক নোমান।
মাদরাসার অন্যতম বিশেষ দিক হলো—এখানে অবস্থিত চৌধুরী রীনা বেগম এতিমখানা, যেখানে এতিম শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে থাকা-খাওয়া ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মানবিক উদ্যোগ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে এতিম শিশুদের লালন-পালন ও শিক্ষাদান করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিবন্ধিত এই এতিমাখানা ২০১৯ সালে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুর ইউনিয়নের ভাড়েরা গ্রামের পীড়বাড়িতে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এতিম ও অসহায় শিক্ষার্থীদের বরণ পোষনসহ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ইসলামী শিক্ষা প্রদান করে আসছে। ধর্মীয় অনুশাসন, নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত এবং নৈতিক শিক্ষার সমন্বয়ে এখানে গড়ে উঠছে এক পরিপূর্ণ ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থা।
ইতিমধ্যে মাদরাসায় ভর্তি কার্যক্রম চলমান থাকা্র পাশাপাশি সারা দেশের বিভিন্ন জেলার এতিম শিশুরা এই চৌধুরী রীনা বেগম এতিমখানায় এতিম শিশুদের ভর্তি করা হচ্ছে। যেখানে এতিম শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আবাসন, খাবার, পোশাকসহ সকল প্রয়োজনীয় ব্যয় বহন করে আসছেন মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতারা। দীর্ঘদিন ধরে এই এতিমখানার মাধ্যমে অসংখ্য শিশু আলোকিত ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। মাদরাসা ও এতিমখানার পাশে রয়েছে সুবিশাল খেলার মাঠ , প্রকৃতিক পরিবেশ ও নামাজ আদায়ের জন্য বিশাল মসজিদ যা শিক্ষার্থীদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ দ্বীনি ও পরিবেশ নিশ্চিত করছে।
মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ এনামুল হক পীর এনাম , সৈয়দ এমদাদুল হক ও সৈয়দ এহিয়াউল হক দ্বীনি শিক্ষার প্রসারে পারিবারিক ভাবে মাদরাসা ও এতিমখানা প্রতিষ্ঠা করেন।
তিন বেলা মনসম্মত খাবার, পরিষ্কার উন্নত বাসস্তান, কোলাহলমুক্ত নিরিবিলি ও মনোরম পরিবেশে শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনা। আবাসিক শিক্ষকদের সার্বক্ষনিক তত্বাবধানে ২৪ ঘন্টা রুটিনের মাধ্যমে ছাত্রদের শিক্ষাদান। শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশে সাপ্তাহিক প্রতিযোগীতা মূলক অনুষ্ঠান। এছাড়া পড়া লেখায় আগ্রহী অসচ্ছল ছাত্রদের জন্য আলোচনা সাপেক্ষে রয়েছে বিশেষ ছাড়।
এ ধরনের প্রতিষ্ঠান সমাজে নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সন্তানদের সুশিক্ষা নিশ্চিত করতে এই মাদরাসায় ভর্তি করানোর জন্য আগ্রহ প্রকাশ করছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল। সার্বিকভাবে, আধুনিক ও যুগোপযোগী দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি মানবিক সেবামূলক কার্যক্রমের সমন্বয়ে মাদরাসায়ে আনসারিয়া মুশতাকিয়া পীরবাড়ি মাদরাসা ও চৌধুরী রীনা বেগম এতিমখানা আজ একটি আদর্শ শিক্ষা পল্লীতে পরিণত হয়েছে।