সিলেটে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে যে ভাইরাস, সকল উপজেলায় প্রস্তুত আইসোলেশন সেন্টার

প্রকাশিত: ৫:১৩ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৪, ২০২৬

সিলেটে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে যে ভাইরাস, সকল উপজেলায় প্রস্তুত আইসোলেশন সেন্টার

লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::

 

সিলেটে রীতিমতো আতঙ্ক ছড়াচ্ছে হাম। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। একই সাথে বাড়ছে হাসপাতালে ভর্তি রোগীও। হামের সংক্রমণ বাড়লেও সিলেটে নেই ল্যাব পরীক্ষার সুযোগ। ঢাকায় নমুনা পাঠিয়ে জানতে হচ্ছে ফলাফল। এতে চিকিৎসা ব্যবস্থা বিঘ্নিত হচ্ছে। হামের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সিলেটের শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের পুরো একটি ইউনিটকে আইসোলেশন সেন্টার হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া জেলার প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও সীমিত পরিসরে আইসোলেশনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জন্মেজয় দত্ত।

জানা যায়, সিলেটে ল্যাব টেস্টের সুযোগ না থাকায় সন্দেহজনক হিসেবেই রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কোন রোগীর অবস্থা বেশি খারাপ হলে নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়, সেখান থেকে রিপোর্ট পেতে পেতে ৩-৪ দিন সময় লেগে যায়। তাই রিপোর্টের অপেক্ষা না করেই লক্ষণ দেখেই হামের চিকিৎসা দিতে হাচ্ছে রোগীদের।

স্বাস্থ্য বিভাগ সিলেটের পরিচালকের কার্যালয় সূত্র জানায়, শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হাম সনাক্ত ও সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা ছিল প্রায় দুইশ’। শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে পূর্ববর্তী ২৪ ঘন্টায় ল্যাব পরীক্ষায় একজন হাম আক্রান্ত সনাক্ত হয়েছেন। একই সময়ে হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩০ জন। সবমিলিয়ে বর্তমানে সিলেট বিভাগের ১১টি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬৪ জন হামের লক্ষণ নিয়ে চিকিৎসাধীন আছেন। হাম আক্রান্তদের প্রায় সকলেই শিশু বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

স্বাস্থ্য বিভাগ আরও জানায়, গেল ২৪ ঘন্টায় হামের লক্ষণ নিয়ে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন সিলেট নগরের চৌহাট্টাস্থ ‘শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে’। ২৪ ঘন্টায় ভর্তি হয়েছেন ১৪ জন। আর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫ জন ভর্তি হয়েছেন মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন ৬৪ জন।

 

এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৪০ জন, মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ১০ জন, ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন, শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন, রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২ জন, মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ২ জন, আর একজন করে ভর্তি আছেন নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিলেটে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় গত ২৬ মার্চ থেকে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের ৪ নম্বর ইউনিটকে ডেডিকেটেড করা হয়। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত হাসপাতালে ৪০ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। এখন পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হওয়া কোন রোগী মারা যাননি।

সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জন্মেজয় দত্ত জানান, জানুয়ারি মাসের শুরুতে সিলেট সদর উপজেলায় ও ফেব্রুয়ারির শুরুতে সিলেট নগরে একজন করে হাম সংক্রমিত রোগী সনাক্ত হয়। তখন অবস্থা উদ্বেগজনক ছিল না। কিন্তু মার্চের শেষের দিকে সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়। সিলেটে পরীক্ষার সুযোগ না থাকায় নমুনা ঢাকায় পাঠাতে হচ্ছে। এতে রিপোর্ট পেতে দু’একদিন সময় লেগে যায়।

তিনি জানান, শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল ছাড়াও প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২-৩টি বেড নিয়ে একেকটি আইসোলেশন সেন্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সন্দেহজনক রোগী আসলেই তাকে আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

April 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930