মোরেলগঞ্জে ক্রয়কৃত জমির দোকান ঘরের সামনে সরকারি জায়গায় অবৈধ ঘেরা

প্রকাশিত: ৫:৫২ অপরাহ্ণ, মে ৯, ২০২৬

মোরেলগঞ্জে ক্রয়কৃত জমির দোকান ঘরের সামনে সরকারি জায়গায় অবৈধ ঘেরা

প্রতিনিধি / বাগেরহাট ::

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার সানকিভাঙ্গা এলাকায় ক্রয়কৃত জমির ওপর নির্মিত চারটি দোকান ঘরের সামনে সরকারি রাস্তার জায়গা অবৈধভাবে ঘেরা দিয়ে দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে যেকোনো সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, বৈধ দলিলমূলে জমি ক্রয় করে সেখানে চারটি দোকান ঘর নির্মাণ করা হয় এবং দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালিত হয়ে আসছিল। সম্প্রতি দোকান ঘরের সামনের সরকারি রাস্তার অংশে স্থানীয় ব্যক্তি মাসুদ  রুবেল গাজী গংরা জিয়াল গাছের বেড়া দিয়ে ঘিরে ফেলেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে দোকানে যাতায়াত ও ব্যবসা পরিচালনায় মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

ভুক্তভোগী মোঃ হোসেন ফকির অভিযোগ করে বলেন,“আমার বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও একটি পক্ষ জোরপূর্বক দোকানের সামনে ঘেরা দিয়ে দখলের চেষ্টা করছে। এতে আমি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার ও নিরাপত্তা চাই।”

দলিল সূত্রে জানা যায়, কবলাদাতা রুবেল গাজী, পিতা মৃত ফরহাদুজ্জামান, গ্রাম সানকিভাঙ্গা, মোরেলগঞ্জ, বাগেরহাট—তার মালিকানাধীন ১৬.৫০ শতক জমি মোঃ হোসেন ফকির, পিতা মৃত মমিন ফকির, গ্রাম চাঁদপাই, মোংলা, বাগেরহাটের নামে রেজিস্ট্রি করে দেন। জমিটি ৯৫ নং সানকিভাঙ্গা  মৌজার এসএ ২৭২ নং খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত। দাগ নম্বরগুলো হলো ১০০৮, ১০০৯, ১০১১, ১০১২ ও ১০১৬।

 

এছাড়া দাতা হোসেন ফকির ও রুবেল  গাজী কর্তৃক জাহিদুল ইসলাম, পিতা হাবিবুর রহমান, গ্রাম ছোট বাদুরা, মোরেলগঞ্জ, বাগেরহাটের নামে আরও ৬৬০ শতাংশ জমি ভি আর এস ৯২০ মূলে রেজিস্ট্রি হয়েছে বলেও জানা গেছে।

 

অভিযুক্ত মাসুদের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে রুবেল গাজী বলেন,
“আমার নামের জমি আমি জাহিদুল ইসলাম ও হোসেন ফকিরের নামে রেজিস্ট্রি করে দখল বুঝিয়ে দিয়েছি ১৩ বছর আগে । সেখানে অন্য কারও কোনো বৈধ দলিল নেই। মাসুদরা অন্যায়ভাবে সরকারি রাস্তার ওপর বেড়া দিয়েছে, যা অবৈধ এবং চাঁদাবাজির শামিল।স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দ্রুত সমাধান না হলে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।

 

এলাকার কয়েকজন প্রবীণ ব্যক্তি জানান, বর্তমানে সাধারণ মানুষ নিজেদের বৈধ সম্পত্তি নিয়েও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। দখলবাজি ও প্রভাব বিস্তারের প্রবণতা গ্রামীণ জনপদে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। তারা প্রশাসনের দ্রুত ও নিরপেক্ষ হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

 

এ বিষয়ে মোরেলগঞ্জ থানা-র এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন,
“লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই।”

 

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা জরুরি। অন্যথায় প্রভাবশালী মহলের দখলচেষ্টা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে তুলবে।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত মালিকানা যাচাই করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের দখলবাজি বন্ধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031