সিলেট ১৯শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২:১৯ অপরাহ্ণ, মে ১৯, ২০২৬
লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সিলেট রেঞ্জ ও মহানগরের বিভিন্ন থানায় দায়েরকৃত বেশ কয়েকটি মামলার তদন্ত কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। তদন্তে নেমে পুলিশ তথ্য পেয়েছে মামলাগুলোতে আসামি করা হয়েছে অনেক নিরাপরাধ ও নিরীহ লোকজনকে। এসব নিরাপরধা ব্যক্তিদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ। সিলেট রেঞ্জ ও মহানগরের বিভিন্ন থানায় দায়ের করা ৫৯টি মামলার ২৮৪ জন আসামিকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
জানা গেছে, ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থাকে জনবান্ধব ও হয়রানিমুক্ত করার লক্ষ্যে কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর-১৮৯৮ এ ধারা ১৭৩ (এ) সংযোজন করে বিগত অর্ন্তবর্তী সরকার। এই ধারা অনুযায়ী, হয়রানিমূলক কারও নাম কোনো মামলার প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে (এফআইআর) অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকলে তদন্ত কর্মকর্তা অন্তর্বর্তী তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করবেন এবং আদালত প্রতিবেদন বিবেচনায় নিয়ে অভিযুক্তকে অব্যাহতি দিতে পারবেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) বিভিন্ন থানার ৩৯টি মামলার ১৪৪ জন আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে অর্ন্তবর্তী প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।
একইভাবে সিলেট রেঞ্জের আওতাধীন চার জেলার ২০টি মামলায় ১৪০ জনকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
পুলিশ সদরদপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স) এএইচএম শাহাদাত হোসাইন গণমাধ্যমকে জানান, জুলাই অভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর তদন্তে ধারাবাহিক অগ্রগতি হচ্ছে। সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ, ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩ (এ) ধারার কার্যকর প্রয়োগ বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে নিরপরাধ ব্যক্তির হয়রানি বন্ধ, তদন্তে স্বচ্ছতা এবং আইনি প্রক্রিয়ার মান আরও উন্নত হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিভিন্ন কারণে পূর্ব বিরোধ, প্রতিশোধপরায়ণতা কিংবা মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে যাদেরকে এজহারে আসামী করা হয়েছিল, তদন্তে তারা নিরাপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাদেরকে অব্যাহিত দেওয়ার সুপারিশ করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।