সিলেট ১৪ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৫:১৩ অপরাহ্ণ, জুন ১৪, ২০২৬
লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ-হত্যার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা হাইকোর্টের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
আজ রোববার বিচারপতি মোহাম্মদ আলী ও বিচারপতি সাইফুল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রীর জেল আপিল শুনানি উপস্থাপনের পর সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের জেল আপিল গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট। রামিসা হত্যাকাণ্ডে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জেল আপিলে আসামি সোহেল রানা ঘটনা স্বীকার করে হাইকোর্টের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। নিজেকে মাদকাসক্ত দাবি করেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আলোচিত শিশু ও নারী ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও জেল আপিলের শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ কোনো সময় নেবে না। নিয়মিত শুনানি করা হবে।’
এ সময় শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আপিলের পেপারবুক দ্রুত প্রস্তুত করা হবে বলেও জানান ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
এদিকে হাইকোর্ট বেঞ্চে জেল আপিলে মৃতদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা বলেছেন, ‘আমি আর্থিকভাবে অসচ্ছল। আমি অটোরিকশা গ্যারেজে মিস্ত্রির কাজ করতাম। আমি নিয়মিত ইয়াবা বা মাদক মাদকাসক্ত ছিলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘মাদকাসক্ত, নেশাগ্রস্ত হওয়ার কারণে পরিবারে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকত। ইতঃপূর্বে আমি কোনো অপরাধের জড়িত ছিলাম না। অত্র মামলার ভিকটিমের সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে তা মাদকাসক্ত ও নেশাগ্রস্ত অবস্থায় হয়েছে। আমার আর্থিক অভাব, পারিবারিক অশান্তি, মাদকাসক্ত ও নেশাগ্রস্ত হওয়ার কারণেই ঘটনাটি সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত, অবচেতনভাবে হয়েছে। কীভাবে যে ঘটনাটি ঘটেছে আমি বুঝতে পারি নাই। আমার একটি মাত্র ছেলের পড়াশোনা খরচ ও পরিবারের ভরণ-পোষণ করার মতো কেউ নাই। আমি ভুল করেছি, আমি ক্ষমা চাই।’
তবে আসামি সোহেল রানার স্ত্রী মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি স্বপ্না আক্তার নিজেকে নির্দোষ দাবি করে জেল আপিলে খালাস চেয়েছেন।
গত ১১ জুন কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে হাইকোর্টে জেল আপিল করেন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার। রোববার আসামিদের জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট।