আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ রেখে রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আসবে না বললেন জি এম কাদের

প্রকাশিত: ৯:০৮ অপরাহ্ণ, জুন ১৫, ২০২৬

আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ রেখে রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আসবে না বললেন জি এম কাদের

লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::

 

আওয়ামী লীগের মতো একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ রেখে দেশে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

আজ সোমবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

 

জি এম কাদের বলেন, ‘দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার বিকল্প নেই। কিন্তু আওয়ামী লীগের সমর্থক বৃহৎ একটি জনগোষ্ঠীকে রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে সেই স্থিতিশীলতা অর্জন কঠিন হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের মতো একটি বড় রাজনৈতিক দলের রাজনৈতিক অধিকার হরণ করে দেশে স্থিতিশীলতা আনা যাবে না। বরং তাদের সমর্থকরা নিজেদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সক্রিয় থাকবেন, যা রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়াতে পারে।’

 

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক অধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের নিশ্চয়তা নিশ্চিত না হলে তারা অর্থনীতিতে স্বাভাবিকভাবে অংশ নিতে পারবে না। এতে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন রাজনৈতিক ঐক্য। দেশ একটি গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং এই সংকট থেকে উত্তরণে রাজনৈতিক সমঝোতা ও স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।’ রাজনৈতিক ঐক্য ছাড়া বিদ্যমান সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

প্রস্তাবিত বাজেট প্রসঙ্গে জি এম কাদের বলেন, ‘বাজেটে কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ থাকলেও সেগুলোর সুফল পেতে সময় লাগবে। আগামী অর্থবছরেই বড় ধরনের রাজস্ব প্রবৃদ্ধি অর্জন সহজ হবে না।’ বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়েও তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।

 

তিনি আরও বলেন, ‘রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে আগামী অর্থবছরে রাজস্ব আদায় আরও কমে যেতে পারে। ফলে সরকারকে দেশি-বিদেশি ঋণের ওপর অধিক নির্ভর করতে হবে, যা অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করবে।’

 

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জ্বালানি তেল, গ্যাস ও সারের মূল্য বৃদ্ধি এবং সরবরাহে অনিশ্চয়তা বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।’ কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জি এম কাদের। তিনি বলেন, ‘সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। মানুষ নির্বিঘ্নে চলাচল ও ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করতে পারছে না। ফলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্বাভাবিকভাবে এগোচ্ছে না।’

 

অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে ‘উদ্বেগজনক’ উল্লেখ করে জি এম কাদের বলেন, ‘ইতোমধ্যে প্রায় ৪০০ শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, যার বড় অংশই গার্মেন্টস, টেক্সটাইল ও স্পিনিং খাতের রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান। নতুন বিনিয়োগ প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে, রপ্তানি আয় নিম্নমুখী, প্রবাসী আয় অনিশ্চয়তার মুখে এবং মূল্যস্ফীতি এখনও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘এসব কারণে দেশে দারিদ্র্য ও বেকারত্ব বাড়ছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পূর্বাভাস অনুযায়ীও দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আশানুরূপ হবে না। এমন পরিস্থিতিতে বাজেট বাস্তবায়ন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।’

 

জি এম কাদের সরকারকে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং অর্থনৈতিক আস্থা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

Spread the love

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

আর্কাইভ

August 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31