সিলেট ২২শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২:২৫ অপরাহ্ণ, জুন ২২, ২০২৬
লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::
সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা এগিয়ে নিতে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছে বাংলাদেশ ও মালায়েশিয়া। এ ছাড়া সন্ত্রাসবাদ দমন বিষয়ে গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে দুটি দ্বিপক্ষীয় দলিল বিনিময় করেছে দুই দেশ।
আজ সোমবার পুত্রাজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে একান্ত ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর তাদের উপস্থিতিতে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর ও দ্বিপক্ষীয় দলিল বিনিময় হয়।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী উতামা হাজি মোহাম্মদ বিন হাজি হাসান নিজ নিজ দেশের পক্ষে দলিল বিনিময় করেন। এরপর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন।
এর আগে সোমবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে আটটায় কুয়ালালামপুরের শাংগ্রিলা হোটেল থেকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমান রওনা দেন। তারা সকাল ৯টায় পুত্রজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পারদানা পুত্রা ভবনে এসে পৌঁছালে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও তার সহধর্মিণী ওয়ান আজিজাহ ওয়ান ইসমাইল।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের পর সফরসঙ্গীদের সঙ্গে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে পরিচয় করিয়ে দেন তারেক রহমান। একইভাবে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে পরিচয় করিয়ে দেন।
পরে উভয় প্রধানমন্ত্রী একান্ত বৈঠকে মিলিত হন। স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পুত্রা ভবনের পঞ্চম তলায় এ বৈঠকে বসেন তারা।একান্ত বৈঠকের পর দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শুরু হয়। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী এ বৈঠকে নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।
প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সামগ্রিক বিষয় পর্যালোচনার পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক–আন্তর্জাতিক বিষয়ে মতবিনিময় হয়।
আলোচনায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য শ্রমবাজার আবার উন্মুক্তকরণ, বিভিন্ন কারণে অবৈধ হয়ে যাওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়মিতকরণ ও ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন, বাংলাদেশের আম, ফলমূল ও শাকসবজির জন্য মালেশিয়ার বাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার জন্য বাংলাদেশের আবেদন, রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি, রোহিঙ্গা ইস্যু এবং জাতিসংঘ ও অন্যান্য বহুপক্ষীয় ফোরামে সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষা উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আল সিয়াম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।