সিলেট ৪ঠা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ১০:৪৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩, ২০২৬
লন্ডন বাংলা ডেস্ক ::
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি হত্যার নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ।
আজ শুক্রবার তেহরানে ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের সঙ্গে সাক্ষাতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বাংলাদেশের এই অবস্থান তুলে ধরেন।
দুই স্পিকারের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলেছে, ‘মহামান্য আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশের পাশাপাশি তার ওপর চালানো ‘নৃশংস হত্যাকাণ্ডের’ আনুষ্ঠানিক নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশের স্পিকার।’
বৈঠকে স্পিকার উল্লেখ করেন, ‘জাতীয় শোকের এই কঠিন সময়ে ইরানের সরকার ও ভ্রাতৃপ্রতীম জনগণের প্রতি বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের গভীর সহমর্মিতা রয়েছে।’
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার জানাজায় যোগ দিতে যাওয়া স্পিকার ও বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলকে তেহরানে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান ইরানের স্পিকার। বৈঠকে তিনি ইরান ও বাংলাদেশের মধ্যকার শতবর্ষের পুরনো বন্ধুত্ব এবং গভীর সাংস্কৃতিক ও পারস্পরিক সুদৃঢ় সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন।
এদিকে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক শান্তি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরে গালিবাফের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন স্পিকার হাফিজ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই চুক্তি ইরানের জনগণসহ সমগ্র অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবে।
চলমান শান্তি প্রক্রিয়ার প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে স্পিকার আশা প্রকাশ করেন, সব পক্ষ সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে অমীমাংসিত বিষয়গুলোর একটি স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে এই ধারা বজায় রাখবে।
বৈঠক শেষে হাফিজ উদ্দিন আহমদ ইরানের স্পিকার গালিবাফকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরে আসার আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান।
এর আগে, খামেনির জানাজায় অংশ নিতে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিতে গতকাল বৃহস্পতিবার তেহরান পৌঁছান হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান ইরানের ডেপুটি স্পিকার হামিদ রেজা হাজি বাবাই।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার শুরুতে নিজ বাসভবনে নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি। ব্যাপক হামলার মধ্যে ইরানও পশ্চিম এশিয়ার আরবদেশগুলোতে পাল্টা হামলা চালায়। মার্কিন ঘাঁটি থাকার কারণে ওই দেশগুলোকে হামলার ‘বৈধ টার্গেট’ হিসাবে বর্ণনা করে তেহরান।