সিলেট ২১শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ২:১৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ২১, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডা থেকে আমদানি হওয়া বিভিন্ন পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ নতুন শুল্ক আরোপ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি, অ্যালকোহল ও দুগ্ধজাত পণ্যের প্রতি কানাডার ‘অসম আচরণের’ জবাব হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
হোয়াইট হাউসের ঘোষণায় বলা হয়েছে, নতুন শুল্ক ৩০ দিনের মধ্যে কার্যকর হবে। এটি উত্তর আমেরিকার দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্য বিরোধকে আরও তীব্র করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নতুন শুল্কের আওতায় ওয়াইন, হকি স্টিক, সিমেন্টসহ বিভিন্ন ভোগ্য ও শিল্পপণ্য রয়েছে। তবে জ্বালানি, পটাশ, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং মাছের মতো কানাডার কয়েকটি প্রধান রপ্তানি পণ্য এই সিদ্ধান্তের বাইরে রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা জোরদার করতে তার সরকার প্রস্তুত রয়েছে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে যে শুল্ক আরোপ করেছে, তা কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (ইউএসএমসিএ)-এর চেতনার পরিপন্থী।
কার্নি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে কানাডার সার্বভৌমত্ব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যে মন্তব্য করা হয়েছে, তাও দুই দেশের সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার প্রস্তাবের সেই বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করেই তিনি এ মন্তব্য করেছেন বলে মনে করছেন অনেকেই।
এর আগেই যুক্তরাষ্ট্র কানাডার ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও তামার ওপর ১৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করে রেখেছে। এছাড়া সফটউড লাম্বারের ওপর ৩৫ শতাংশ এবং গাড়িতে ব্যবহৃত যুক্তরাষ্ট্র ব্যতীত অন্যদেশের যন্ত্রাংশের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর রয়েছে।
জবাবে কানাডাও যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচিত ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও যানবাহনের ওপর ২৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে।
নতুন নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প প্রশাসন অভিযোগ করেছে, ইউএসএমসিএ চুক্তির বাইরে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি ও যন্ত্রাংশের ওপর কানাডা বৈষম্যমূলক কর আরোপ করছে। এছাড়া কানাডার দুগ্ধ খাতে বিদ্যমান সরবরাহ ব্যবস্থার কারণে নির্ধারিত কোটার অতিরিক্ত আমদানির ওপর ৩০০ শতাংশেরও বেশি শুল্ক আরোপের বিষয়টিও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অভিযোগ।
অন্যদিকে গত বছর থেকে কানাডার অধিকাংশ প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালকোহল বিক্রির ওপর কার্যত বয়কটও ওয়াশিংটনের অসন্তোষের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে। কানাডার প্রাদেশিক নেতারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ধাতু ও গাড়িসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতের ওপর আরোপিত শুল্ক প্রত্যাহার করে, তাহলে এই বয়কটও তুলে নেওয়া হতে পারে।
চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট জরুরি ক্ষমতা আইনের আওতায় ট্রাম্পের আরোপিত ব্যাপক আন্তর্জাতিক শুল্ক বাতিল করে দেয়। আদালত রায় দেয়, জাতীয় জরুরি পরিস্থিতির জন্য নির্ধারিত আইনের অপব্যবহার করা হয়েছে।
এরপর হোয়াইট হাউস জানায়, তারা অন্য আইনি পথ ব্যবহার করে আমদানি শুল্ক আরোপ করবে। সর্বশেষ এই ৫০ শতাংশ শুল্ক ১৯৩০ সালের ট্যারিফ আইনের ৩৩৮ ধারা অনুযায়ী আরোপ করা হয়েছে, যা বাণিজ্যে বৈষম্যমূলক আচরণের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ দেয়।
কানাডিয়ান চেম্বার অব কমার্সের প্রধান ক্যান্ডেস লেইং নতুন শুল্ককে ‘দুঃখজনক সিদ্ধান্ত’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি শুল্ক কার্যকরের আগে দুই দেশের মধ্যে অর্থবহ অগ্রগতির আহ্বান জানান।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্টিলড স্পিরিটস কাউন্সিলের প্রধান ক্রিস সোয়ঙ্গারও উভয় পক্ষকে দ্রুত সমাধানে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেন, এই সিদ্ধান্ত আরও পাল্টা বাণিজ্যিক প্রতিশোধের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।