সিলেট ২৮শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৭:৫৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৮, ২০২৬
শিপন আহমদ / (সিডনি) অস্ট্রেলিয়া ::
অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশি-অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত সিডনির লেকাম্বায় মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনায় দুই পথচারী গুরুতর আহত হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এলাকার পথচারী পারাপারের নির্ধারিত স্থানে একটি গাড়ির ধাক্কায় দুই পথচারী গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
দুর্ঘটনার পরপরই ব্যস্ত সড়কে কয়েক সেকেন্ডের এই ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জরুরি সেবাকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পুলিশ এলাকা ঘিরে ফেলে। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স ও দমকলের একাধিক ইউনিট উদ্ধার ও তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে।
নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুর প্রায় ১টার দিকে লেকাম্বার দ্য বুলেভার্ড সড়কে জরুরি সহায়তার জন্য খবর আসে। ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, একটি সাদা রঙের টয়োটা টারাগো পথচারী পারাপারের স্থানে দুইজনকে ধাক্কা দেওয়ার পর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি অডি গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। আশপাশের নিরাপত্তা ক্যামেরায় ঘটনার কিছু অংশ ধারণ হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে প্রায় ৩০ বছর বয়সী এক নারীকে ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে লিভারপুল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৬০ বছর বয়সী এক পুরুষকে সেন্ট জর্জ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত দু’জনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। এদিকে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটির ৮২ বছর বয়সী চালককেও চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, চালককে বাধ্যতামূলক পরীক্ষার আওতায় রাখা হয়েছে। তবে এ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানা যায়নি। ঘটনার পর নিউ সাউথ ওয়েলসের ক্যাম্পসি পুলিশ এলাকা কমান্ড ঘটনাস্থলকে অপরাধস্থল ঘোষণা করে তদন্ত শুরু করেছে।
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ, গাড়ির গতি, পথচারীরা কী অবস্থায় রাস্তা পার হচ্ছিলেন কিংবা অন্য কোনো বিষয় এই ঘটনার পেছনে ভূমিকা রেখেছে কি না এসব বিষয় তদন্তের অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এবং যাদের গাড়ির চলমান চিত্র ধারণকারী যন্ত্রে ঘটনাটির দৃশ্য ধারণ হয়ে থাকতে পারে, তাদের তথ্য দিতে আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে আহতদের পরিচয় ও জাতীয়তা নিয়ে বিভন্ন মাধ্যমে বাংলাদেশি বলে দাবি করা হলেও,তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত অাহতদের নাম, জাতীয়তা বা পারিবারিক পরিচয় প্রকাশ করেনি। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ জানিয়েছে,দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ঘটনাস্থলের আলামত সংগ্রহ, নিরাপত্তা ক্যামেরার চিত্র বিশ্লেষণ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যানবাহনের প্রযুক্তিগত অবস্থা ও সংঘর্ষের পরিস্থিতিও খতিয়ে দেখা হবে। তদন্ত শেষ হওয়ার পরই দুর্ঘটনার কারণ এবং দায় সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।