সিলেট ৩রা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: ৪:৫৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১, ২০২৬
শিপন আহমদ,(সিডনি) অস্ট্রেলিয়া:
ত্রিশ বছরের প্রবাসজীবনের সব স্বপ্ন অল্প সময়ে ছাই হয়ে যাওয়া অস্ট্রেলিয়ার সিডনির ওয়াইলি পার্কে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো তিনজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত আরও জোরদার করেছেন নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশসহ সংশ্লিষ্টরা।
তথ্য সূত্রে জানা যায়, নিহতরা হলেন চিনা বংশদ্ভূত ৫২ বছর বয়সী ইউ ইউন থমাস ঝং,তার ৪৩ বছর বয়সী স্ত্রী কাইচান ঝাও এবং তাদের ১৬ বছর বয়সী ছেলে স্যামুয়েল ঝং। পরিবারটি সিডনির ওয়াইলি পার্কের কর্নেলিয়া স্ট্রিটের একটি বাড়ির পেছনের গ্র্যানি ফ্ল্যাটে বসবাস করত। সামনের মূল বাড়িতে থাকতেন নিহত কিশোরটির বৃদ্ধ দাদি, যিনি অল্পের জন্য অগ্নিকাণ্ড থেকে প্রাণে বেঁচে যান।
স্থানীযরা জানান,আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই আশপাশের বাসিন্দারা ছুটে আসেন। কিন্তু আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে কেউ ভেতরে ঢুকে আটকে পড়া তিনজনকে উদ্ধার করতে পারেননি। এক পর্যায়ে নিহত ইউ ইউন থমাস ঝং এর বৃদ্ধ মা আগুনের মধ্যে ঢোকার চেষ্টা করলে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাকে ধরে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান।
নিউ সাউথ ওয়েলস এর দমকল বিভাগের কমিশনার জেরেমি ফিউট্রেল ঘটনাটিকে ভয়াবহ ট্র্যাজেডি হিসেবে বর্ণনা করছেন। তার মতে, গ্র্যানি ফ্ল্যাটে পৌঁছানোর পথ সংকীর্ণ ছিল এবং আগুন ইতোমধ্যেই পুরো কাঠামোকে গ্রাস করেছিল। জানালা ও অন্যান্য খোলা অংশ দিয়ে আগুন বের হচ্ছিল।
নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ, অগ্নিকাণ্ড তদন্তকারী বিশেষজ্ঞ এবং স্টেট ক্রাইম কমান্ডের অগ্নিসংযোগ তদন্ত দল যৌথভাবে ঘটনাটি তদন্ত করছে।প্রাথমিক ভাবে বৈদ্যুতিক ত্রুটি থেকে অাগুনের সূত্র বলে জানা গেলেও সম্ভাব্য সাবিক তদন্ত তদন্ত শেষ হলে ঘটনার প্রকৃত উৎস জানা যাবে।
এদিকে বাংলাদেশী কমিউনিটি অধ্যাষিত ওয়াইলি পার্কের এই অগ্নিকাণ্ড এখন শুধু একটি দুর্ঘটনার তদন্ত নয়; এটি একটি পরিবারের আকস্মিক সমাপ্তির বেদনাদায়ক স্মারক হয়ে উঠেছে। স্থানীয়রা অনেকেই বলছেন,শান্ত, নিরীহ ও সবার সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা পরিবারটির এমন পরিণতি তারা কখনো কল্পনাও করেননি।কীভাবে এক রাতেই নিভে গেল তিনটি প্রাণ তা জানতে তদন্তকারীদলে চূড়ান্ত প্রতিবেদন অপেক্ষার প্রহর গুনছেন তারা।
প্রসঙ্গত, গত ২৯ জুলাই বুধবার দিবাগত রাত প্রায় ১০ টায় সিডনির ওয়াইলি পার্কের কর্নেলিয়া স্ট্রিটের ওউ বাড়ির পেছনের গ্র্যানি ফ্ল্যাটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর সেখান থেকে একই পরিবারের তিন সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর ঘটনাস্থলকে অপরাধস্থল ঘোষণা করে তদন্ত শুরু করেছে নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ।