যুক্তরাষ্ট্রে যেতে ‍লাগতে পারে বাড়তি ২৪ লাখ টাকা

প্রকাশিত: ৭:১৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে যেতে ‍লাগতে পারে বাড়তি ২৪ লাখ টাকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::

 

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর একটি ভিসা বন্ড কর্মসূচিকে স্থায়ী করবে, যার ফলে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৫০টি দেশের আবেদনকারীদের মার্কিন ভিসার জন্য আবেদন করার সময় ২০ হাজার ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১২৩ টাকা ১১ পয়সা ধরে দাঁড়ায় ২৪ লাখ ৬২ হাজার ২৭২ টাকা) পর্যন্ত বন্ড জমা দিতে হতে পারে। গতকাল শুক্রবার অনলাইনে প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি ফেডারেল বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আজ শনিবার বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেডারেল রেজিস্টারের এই বিজ্ঞপ্তিটি ‘বি১’ এবং ‘বি২’ ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যা ব্যবসায়িক এবং পর্যটন ভ্রমণের জন্য জারি করা হয়।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কনস্যুলার কর্মকর্তারা ভিসা ইস্যু করার শর্ত হিসেবে নির্দিষ্ট কিছু অ–অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীকে ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড জমা দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন। সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার কর্মকর্তারা বন্ডের এই পরিমাণ নির্ধারণ করবেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ভিসা বন্ড পাইলট প্রকল্প থেকে এমন পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া গেছে, যা নির্দেশ করছে, বন্ড নেওয়া ভিসাধারীদের বাধ্যবাধকতা বজায় রাখতে এই পদক্ষেপ বেশ কার্যকর বলে প্রতীয়মান হয়েছে। পররাষ্ট্র দপ্তর, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়কে ভিসা বন্ড কর্মসূচি পরিচালনার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

 

পাইলট কর্মসূচিতে কনস্যুলার কর্মকর্তারা ১৫ হাজার থেকে০ হাজার ডলার বা সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড নির্ধারণ করতে পারতেন। তবে চূড়ান্ত নিয়মে পাঁচ হাজার ডলারের অপশনটি তুলে দেওয়া হয়েছে এবং সর্বোচ্চ বন্ডের পরিমাণ বাড়িয়ে ২০ হাজার ডলার করা হয়েছে।

 

চূড়ান্ত ও নতুন এই নিয়ম ৩ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে। এদিন নতুন নিয়ম ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে। যে ৫০টি দেশের নাগরিকদের জন্য এই কর্মসূচি প্রয়োগ করা হবে, তার মধ্যে ৩০টি দেশই আফ্রিকার। দক্ষিণ এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশ যেমন নেপাল ও ভুটান রয়েছে।

 

মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, এই নীতির উদ্দেশ্য হলো ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পরও অবস্থান কমানো। অভিবাসন অধিকারকর্মীরা যুক্তি দিচ্ছেন যে, এটি যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ ভ্রমণকে নিরুৎসাহিত করবে।

 

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন দমন অভিযান বাকস্বাধীনতা ও যথাযথ বিচার প্রক্রিয়া লঙ্ঘন করে, এবং একই সাথে জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য একটি অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি করে ও বর্ণবৈষম্যমূলক আচরণকে উৎসাহিত করে। ট্রাম্প এই পদক্ষেপগুলোকে জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য প্রয়োজনীয় বলে সমর্থন করেছেন।

 

যদিও ট্রাম্প বলেন যে তিনি অবৈধ অভিবাসন রোধ করতে চান, তার প্রশাসন বৈধ অভিবাসনকে আরও কঠিন করে তুলেছে। উদাহরণস্বরূপ, নির্দিষ্ট কিছু ভিসার আবেদনকারীদের ওপর নতুন ও ব্যয়বহুল ফি আরোপ করে এবং আবেদনকারী ও দেশে থাকা অভিবাসীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যাচাই-বাছাই বাধ্যতামূলক করে।

Spread the love

আর্কাইভ

August 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31